ফেনীতে মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি: অধিকাংশ মামলায় আসামি অজ্ঞাত, নজরদারির তাগিদ
ফেনীর মহাসড়কে চালকদের অসচেতনতা, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষতার কারণে ক্রমাগত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশের আওতায় চলতি বছর কেবল দুটি ফাঁড়ি এলাকাতেই ৮৭টি দুর্ঘটনায় ৬৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় শত মানুষ। তবে এসব ঘটনায় মামলা হলেও চালক শনাক্ত না হওয়া এবং আসামিরা অজ্ঞাত থাকায় কার্যকর বিচারিক অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ফেনী জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা বলেন, চালকদের পর্যাপ্ত শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবেই প্রধানত দুর্ঘটনা বাড়ছে। এছাড়া মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই গাড়ি চলাচল ও সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের কঠোর ও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ বিপর্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ফেনী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. আল ফয়সাল জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান ও চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে গত ১২ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১ জনের পরিবারকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং আহত দুজনের পরিবারকে ৪ লাখ টাকার সরকারি সহায়তার চেক প্রদান করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা এলাকায় ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া ২৪টি মামলার মধ্যে ১১টিতে অভিযোগপত্র এবং ৯টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, বাকি ৪টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন।
অন্যদিকে মহিপাল হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার জানান, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত তাঁদের আওতাধীন এলাকায় ৫১টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৩৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মহাসড়কে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা স্থাপনের কারণে বর্তমানে স্পিড গান দিয়ে গতি মাপা এবং চালকদের মাদকাসক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে অসচেতনভাবে সড়ক পারাপার এবং দ্রুতগতির কারণেও পথচারী ও চালকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর চালক শনাক্তকরণ ও বিচারের ধীরগতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক চালক পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ গাড়ি জব্দ করেই দায়িত্ব শেষ করে; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চালকদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না। এ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করায় বাধ্য হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করতে হয়। এছাড়া আইনি জটিলতা ও ভোগান্তির ভয়ে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের পরিবার মামলা করতে চান না।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দীন খাঁন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার মামলাগুলোতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়। তবে এজাহারে অধিকাংশ আসামিই অজ্ঞাত থাকার কারণে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও মূল অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।
এমএসএম / এমএসএম
দেওয়ানগঞ্জে LCS-RRMEP প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগ দিলেন উপজেলা প্রকৌশলী
লোহাগড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে কিশোর-কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
দেওয়ানগঞ্জ নারী উদ্যোক্তা ফোরাম পরিদর্শন
নরসিংদীতে নারী বাসযাত্রীর কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলি উদ্ধার
পটিয়ায় সন্তান প্রসবের এক সপ্তাহ আগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের অভিযোগ
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ঘিওরে নেই হিমাগার: আলু ও সবজি চাষিদের চরম দুর্ভোগ
সিলেটে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
দাউদকান্দিতে জমি বিরোধে পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক আগুন: গ্রেপ্তার এড়াতে নাটকের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক মালিকদের সাথে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময়
পটিয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবে সম্প্রীতির আহ্বান এমপি এনামের
শখের ইনডোর প্লান্টে তানজিলার মাসিক আয় দুই লাখ টাকা
মনিরামপুরে জটিল রোগে আক্রান্ত ১০ রোগীকে ১০ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ