শখের ইনডোর প্লান্টে তানজিলার মাসিক আয় দুই লাখ টাকা
করোনাকালে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকার সময়ে ঘরের ব্যালকনির কয়েকটি গাছই ছিল একমাত্র সঙ্গী। নিঃসঙ্গতা দূর করতে শুরু হওয়া সেই গাছের পরিচর্যাই বদলে দিয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার তানজিলা আঁখির জীবন। শখের বশে শুরু করা ইনডোর প্লান্টের বাগান আজ তাঁকে রূপান্তর করেছে এক সফল বাণিজ্যিক উদ্যোক্তায়। মাদারীপুরের শিবচরে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা নার্সারি থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বর্তমানে তিনি মাসে গড়ে আয় করছেন দুই লাখ টাকারও বেশি।
শিবচরে তানজিলার বাগান ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বাহারি রঙের হাজারো গাছের সমাহার। আট শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা এ বাগানে স্থান পেয়েছে ১ হাজার ১৪৮ প্রজাতির গাছ, যার প্রায় ৭০ শতাংশই বিদেশি ইনডোর প্লান্ট। বাগানের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বাগানের পরিচর্যা এবং আরও দুই-তিন ঘণ্টা অনলাইনে পাওয়া অর্ডারের গাছ কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠাতে ব্যয় করেন তিনি।
তানজিলা আঁখির সংগ্রহে রয়েছে অত্যন্ত দুর্লভ ‘টেট্রাস্পার্মা ওরিয়া ভেরিগেডেট’ জাতের একটি বিরল গাছ, যা বাংলাদেশে কেবল তাঁর কাছেই একটি রয়েছে বলে তাঁর দাবি। প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ধীরগতির এই গাছটি থেকে তিনি ইতিমধ্যে একটি নতুন চারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা প্রতি ছয় মাসে একটি করে পাতা ছাড়ে।
উদ্যোক্তা জীবনের গল্প জানাতে গিয়ে তানজিলা আঁখি বলেন, করোনাক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর প্রচলিত নার্সারির বাইরে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকেই ইনডোর প্লান্ট নিয়ে কাজের পরিকল্পনা মাথায় আসে। ঢাকার মালিবাগে থাকাকালে চাকরিজীবনের পাশাপাশি ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সাকুলেন্টসহ সাত-আট প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে ইনডোর প্লান্টের ওপর ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেন এবং ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করেন। স্বামীর কর্মস্থল নরসিংদীতে কিছুকাল বাগান পরিচালনার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সব গাছ নিয়ে নিজ বাড়ি শিবচরে স্থানান্তর করেন।
তিনি জানান, তাঁর সংগ্রহে থাকা বেশিরভাগ গাছ থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা এবং পরবর্তীতে নিজস্ব নার্সারিতে প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে তাঁর বাগান থেকে ঢাকার বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও অভিজাত এলাকার বাসাবাড়িতে নিয়মিত ইনডোর প্লান্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফিলোডেনড্রন, এগলোনিমা, স্নেকপ্ল্যান্ট, অ্যান্থুরিয়াম, মনস্টেরা ও ফিটোনিয়া। এছাড়াও রঙিন ক্যাকটাস, হার্ব প্ল্যান্ট, স্টেভিয়া, কিডনিপ্ল্যান্ট ও ইনসুলিন গাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’ (Wonder Garden BD) নামের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতারা অনলাইনে এসব গাছ সংগ্রহ করছেন। ভবিষ্যতে অর্কিড নিয়ে বড় পরিসরে কাজের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তানজিলার স্বামী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘শখ থেকে শুরু করে ও আজ একজন সফল উদ্যোক্তা। গাছ নিয়ে ওর এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। বিভিন্ন বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে ওর প্রতিটি কাজেই পরিবার থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মিলন ও সাজ্জাদ হোসেন খান জানান, শিবচরের মতো জায়গায় এত আধুনিক ও নান্দনিক ইনডোর প্লান্টের বাণিজ্যিক বাগান এই প্রথম গড়ে উঠেছে। একজন নারী হয়েও কঠোর পরিশ্রমে লাখ লাখ টাকা আয়ের এই দৃষ্টান্ত তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, জীবিকার তাগিদে এখানকার অধিকাংশ তরুণ যখন বিদেশমুখী হন, তখন তানজিলার মতো তরুণীদের কৃষিনির্ভর এমন উদ্যোক্তা হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ ধরনের উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত দেন।
এমএসএম / এমএসএম
দেওয়ানগঞ্জে LCS-RRMEP প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগ দিলেন উপজেলা প্রকৌশলী
লোহাগড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে কিশোর-কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
দেওয়ানগঞ্জ নারী উদ্যোক্তা ফোরাম পরিদর্শন
নরসিংদীতে নারী বাসযাত্রীর কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলি উদ্ধার
পটিয়ায় সন্তান প্রসবের এক সপ্তাহ আগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের অভিযোগ
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ঘিওরে নেই হিমাগার: আলু ও সবজি চাষিদের চরম দুর্ভোগ
সিলেটে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
দাউদকান্দিতে জমি বিরোধে পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক আগুন: গ্রেপ্তার এড়াতে নাটকের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক মালিকদের সাথে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময়
পটিয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবে সম্প্রীতির আহ্বান এমপি এনামের
শখের ইনডোর প্লান্টে তানজিলার মাসিক আয় দুই লাখ টাকা
মনিরামপুরে জটিল রোগে আক্রান্ত ১০ রোগীকে ১০ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ