স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ঘিওরে নেই হিমাগার: আলু ও সবজি চাষিদের চরম দুর্ভোগ
দক্ষিণে পুরাতন ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা এবং পশ্চিমে ইছামতী নদীবেষ্টিত মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম উপজেলা ঘিওর। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত উর্বর পললভূমিতে প্রতিবছর উৎপাদিত হয় হাজার হাজার মণ আলু, সরিষা, পাট, ভুট্টা, ধান ও নানা জাতের রবিশস্য। বিশেষ করে সারা দেশেই শতাব্দীপ্রাচীন ঘিওর হাটের পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। তবে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ঘিওরে কোনো সরকারি বা বেসরকারি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতি মৌসুমে আলু ও মৌসুমি শাকসবজি সংরক্ষণ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগ ও বিপুল আর্থিক লোকসানের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
সরেজমিনে জানা যায়, ঘিওরের কৃষকেরা প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন করেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী মানিকগঞ্জ জেলা সদর কিংবা সাভারের হিমাগারগুলোতে নিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। এতে একদিকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে পরিবহন খরচ ও সময়ের অপচয় ঘটে, অন্যদিকে যাতায়াত ব্যয় ছাড়াও প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে অনেক সময় বাধ্য হয়ে মাঠেই পানির দরে আলু বিক্রি করে দিতে হয় কৃষকদের, যার ফলে হাড়ভাঙা খাটুনির পরও উৎপাদন খরচ ওঠে না।
উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামের কৃষক মজিবর জানান, চলতি মৌসুমে তিনি সাত বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। কিন্তু এলাকায় কোনো হিমাগার না থাকায় ফসল তোলার পর তা দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তিনি বলেন, কৃষকদের ঘামঝরানো পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে ঘিওরে সবজি ও আলু সংরক্ষণের একটি স্থায়ী হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত আলু সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় চাষিদের দাবি, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও তাঁরা শাকসবজি ও আলু উৎপাদনে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। উৎপাদিত ফসলের ওপর নির্ভর করেই ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করছেন। অথচ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে তাঁদের এই মৌলিক ও দীর্ঘদিনের দাবির কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন মুঠোফোনে জানান, ঘিওরে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই ঘিওরের কৃষকদের স্বার্থে একটি হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এছাড়া কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা যদি এখানে হিমাগার নির্মাণে এগিয়ে আসেন, তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে সার্বিক কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
দেওয়ানগঞ্জে LCS-RRMEP প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগ দিলেন উপজেলা প্রকৌশলী
লোহাগড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে কিশোর-কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
দেওয়ানগঞ্জ নারী উদ্যোক্তা ফোরাম পরিদর্শন
নরসিংদীতে নারী বাসযাত্রীর কাছ থেকে ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলি উদ্ধার
পটিয়ায় সন্তান প্রসবের এক সপ্তাহ আগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের অভিযোগ
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ঘিওরে নেই হিমাগার: আলু ও সবজি চাষিদের চরম দুর্ভোগ
সিলেটে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
দাউদকান্দিতে জমি বিরোধে পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক আগুন: গ্রেপ্তার এড়াতে নাটকের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক মালিকদের সাথে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময়
পটিয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবে সম্প্রীতির আহ্বান এমপি এনামের
শখের ইনডোর প্লান্টে তানজিলার মাসিক আয় দুই লাখ টাকা
মনিরামপুরে জটিল রোগে আক্রান্ত ১০ রোগীকে ১০ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ