ডিজিটাল লেনদেনে বড় পরিবর্তনের আশা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালকের
নগদ টাকার পরিবর্তে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পণ্য কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা বহন, খুচরা টাকার সংকট এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার ঝামেলা কমবে।
একইসঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়লে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এ.কে.এম. কামরুজ্জামান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর শহরের লিলি মোড়ে লুৎফুন্নেছা টাওয়ারের সামনে বাংলা কিউআর ট্রানজ্যাকশন প্রচারণামূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এ.কে.এম. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলা কিউআর চালুর পর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন গ্রাহক নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। এতে নগদ টাকা হাতে নিয়ে লেনদেন করার প্রয়োজন কমছে। ব্যবসায়ীরা কিউআর কোডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে সহজেই ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন।
তিনি বলেন, আপনি যদি ক্যাশে লেনদেন করেন, তাহলে নগদ টাকার ব্যবস্থার মধ্যেই থাকবেন। কিন্তু বাংলা কিউআরের ক্ষেত্রে গ্রাহক তাঁর ফোন দিয়ে ডিজিটালি পেমেন্ট করে দেবেন। এখানে লেনদেনে নগদ টাকার প্রয়োজন নেই। আপনি কিউআর কোড ব্যবহার করে তাঁর কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
ডিজিটাল লেনদেনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশের পুরো অর্থনীতিতে ডিজিটাল পেমেন্টের আওতা বাড়ানো গেলে বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত কর রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ লেনদেন নগদ টাকায় হয়। এই নগদ লেনদেন কমিয়ে মানুষের জীবনকে সহজ করা, হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনা এবং দেশের প্রতি নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলা কিউআর একটি বড় উদ্যোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দিনাজপুরে এ প্রচারণামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে বর্তমানে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে এ ব্যবস্থায়। এটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
দিনাজপুরে সিটি ব্যাংকের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলায় ব্যাংকটির প্রায় ৩১৫টি মার্চেন্ট বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০টি লেনদেনে ৩০ লাখ টাকা আদান-প্রদান হচ্ছে। এ লেনদেনের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দৈনিক ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন বলেন, ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে দেশের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে বাংলা কিউআর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এবার দিনাজপুরে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ জেলায় সিটি ব্যাংকের কার্যক্রম ও সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট গ্রহণ করলে ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনের অনেক সমস্যা দূর হবে। বিশেষ করে খুচরা টাকা নিয়ে ঝামেলা, নগদ অর্থ সংরক্ষণ এবং দিন শেষে সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য আলাদা সময় ব্যয় করার প্রয়োজন কমে আসবে।
মাশরুর আরেফিন বলেন, আপনি দোকানে গিয়ে কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে খুচরা টাকার প্রয়োজন হবে না। ৯৯ টাকা ৯০ পয়সার মতো মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রেও খুচরা টাকার সমস্যা থাকবে না। আবার দিন শেষে বিক্রির টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার যে ঝামেলা, সেটিও কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সহজে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি ও ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্য লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ হবে। তাই বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আরও উৎসাহিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারে বাংলা কিউআর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ পদ্ধতিতে গ্রাহক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন এবং ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থের পরিবর্তে সরাসরি ডিজিটাল লেনদেন গ্রহণ করতে পারবেন। এতে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি নগদ টাকা বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকিও কমবে।
তবে এ ব্যবস্থা জনপ্রিয় করতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এস.এম. আব্দুল বারি, সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ জোবায়েরসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে অতিথিরা ফিতা কেটে বাংলা কিউআর ট্রানজ্যাকশন প্রচারণামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
aliul / aliul
ডিজিটাল লেনদেনে বড় পরিবর্তনের আশা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালকের
বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ব্যাংকের ৪২ কোটি টাকা আত্মসাতে দুদকের তদন্তে ৬ আসামি
সাইবার হামলার শঙ্কা, এবার বন্ধ জনতা ও বেঙ্গল ব্যাংকের ওয়েবসাইট
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
দাম কমিয়েও ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বড় পতন
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
শীতের সবজি বাজারে আসায় কিছুটা স্বস্তি, কমেছে ডিমের দামও
কমলো সোনার দাম
টানা পাঁচদিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
ব্যাংককে ১৯১ দেশের অর্থনৈতিক মহাযজ্ঞ শেষ: বৈশ্বিক সংস্কারের নতুন রূপরেখা, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যা পেল