ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাংবাদিক নেতাদের

লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার


বেলাল উদ্দিন photo বেলাল উদ্দিন
প্রকাশিত: ৩১-১০-২০২৬ রাত ১২:৪২

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সরকারি বাংলোয় ডেকে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান বাদী হয়ে ইউএনওকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, সাংবাদিক মিজানকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে এজাহার দিয়েছেন। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফিন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক মিজানের সঙ্গে ইউএনওর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে স্থানীয় প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশ করতে লোহাগাড়া পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বাংলাদেশ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত যে-ই হোক, তাঁকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিক নির্যাতন করবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ হয়নি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকেরা স্বাধীন ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মামলার লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান (২৬) জাতীয় সাপ্তাহিক ‘সময়ের প্রয়াস’-এর লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এজাহারে ইউএনও মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ (৪০), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন (৩২), মো. খোরশেদ আলম (৩৫) ও মাঈনউদ্দিন (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে সাংবাদিক মিজান অভিযোগ করেন, ইউএনওর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্থানীয় কয়েকজনের অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ইউএনওর কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে সরকারি বাংলোয় যেতে বলেন।

এজাহার অনুযায়ী, বাংলোয় পৌঁছানোর পর তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তিনি ফিরে আসেন। পরে হেলাল উদ্দিন আবারও ফোন করে তাঁকে দ্রুত বাংলোয় যেতে বলেন। সেখানে গেলে ইউএনওর উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলোর ভেতরে আগে থেকেই উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযোগ দায়েরের উদ্দেশ্যে লোহাগাড়া থানার সামনে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় ৩ ও ৪ নম্বর আসামির নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার হন।

সাংবাদিক মিজান এজাহারে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ঘটনার ভিডিওচিত্রের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দ্রুত যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলে জানান।

সাংবাদিক নির্যাতনের এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতারা।

এমএসএম / এমএসএম

লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার

লোগাংয়ে এম এন লারমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

রৌমারীতে ফাঁসিতে ঝুলে এক নারীর আত্মহত্যা

লাকসামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন

আদমদীঘিতে রাতভর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা প্রতিকার করবে কে

মোরেলগঞ্জে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন: ৬ নভেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু

মনোহরদীতে এ্যাব মহাসচিবের উদ্যোগে নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত

গাজীপুরে জোড়া খুনের আসামি বরিশালে গ্রেপ্তার

রাজারহাটের ইউএনওর ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: সাংবাদিক ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা পালিয়ে গেল বাড়ির লোকজন

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিতা ও শিশুপুত্র নিহত

রাজশাহীতে উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রগতিশীল সংস্কৃতির শক্তিতে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোরস্থানের ভেতর থেকে ১ কেজি ৩৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার