ঢাকা রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি

বেনাপোলে ভাড়া সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সে চলছে শুল্ককর ফাঁকি!


সুমন হোসাইন, শার্শা photo সুমন হোসাইন, শার্শা
প্রকাশিত: ১-১১-২০২৬ দুপুর ১:৩৪

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সের অনিয়ম, ভাড়া ও লিমিটেড লাইসেন্সে চলছে শুল্ককর ফাঁকির উৎসব। দীর্ঘদিন নবায়নবিহীন পড়ে থাকা অব্যবহৃত লাইসেন্স,রেফারেন্স লাইসেন্স ভাড়ায় অথবা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লিমিটেড লাইসেন্সে রুপান্তর করে রাজস্ব কর ফাঁকির উৎসবে মেতেছে একটি চক্র। একই সাথে প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত লাইসেন্সে মালিকের অনুপস্থিতিতে কর ফাঁকিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন বহু লাইসেন্স। একেক পণ্য চালানে একেক সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ব্যবহার করে শুল্ককর ফাঁকির পণ্য চালান খালাস করছে চক্রটি। কর ফাঁকি রোধে ইতোমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ টি লাইসেন্স নজরদারিতে রেখেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।  
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শুল্ককর ফাঁকি দিতে চক্রটি একেক সময় একেক লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকে। কাস্টমসের সৎ কর্মকর্তাদের নজরদারি এড়াতে এসব পন্থা অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য চালান ওঠা নামাতেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা। এসব পণ্য চালানে কর ফাঁকি দিতে বন্দরে দায়িত্বে থাকা শেড ইনচার্জরা সরাসরি জড়িত রয়েছে। বন্দরের একেকটি শেড যেন শুল্ককর ফাঁকির হেডকোয়ার্টার তৈরি হয়েছে। শেডে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সুযোগ বুঝে কারসাজি করা যেন তাদের হাতের মোয়ায় পরিণত হয়েছে। বন্দর অব্যবস্থাপনার সাথে হাত মিলিয়ে কর ফাঁকি দিতে পণ্য লোপাট,মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি,নো-এন্ট্রি,স্কেল কারসাজি,পণ্য চালান প্রতিস্থাপন, ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য লুকানোসহ পণ্য চালান পাচার সবই দৃশ্যমান হয়েছে। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটের যৌথ সম্পাদনায় চলছে রাজস্ব লুটের মহোৎসব।
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, লাইসেন্স শাখার সভাপতি সাবেক এডিসি এইচ এম শরিফুল হাসানের সময় বিভিন্ন লাইসেন্সের নাম পরিবর্তন,মালিকানা পরিবর্তন,লিমিটেড লাইসেন্স রুপান্তর, রেফারেন্স লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সময় শুল্ককর ফাঁকির অপরাধে সাসপেন্ড,সাময়িক বরখাস্ত লাইসেন্স সচল করে দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস নীতিমালা অনুযায়ী শুধু কাগজে কলমে ঠিক রেখে এসব লাইসেন্সের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব লাইসেন্স প্রতি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষের লেনদেনের মাধ্যমে পরিবতন ঘটেছে। লাইসেন্সকেন্দ্রিক অনিয়মের পাশাপাশি বন্দরের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে কয়েক ধরনের গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে।  
স্বচ্ছব্যবসায়ীদের দাবি, সাবেক এডিসি এইচ এম শরিফুল হাসানের দায়িত্বকালে যে সকল লাইসেন্সের নাম, মালিকানা ও শ্রেণিগত পরিবর্তন হয়েছে। সে লাইসেন্স গুলোর পরিবর্তনের বৈধতা, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ৭৫০ এর বেশি সিএন্ডএফ লাইসেন্স রয়েছে। এসব লাইসেন্সের মধ্যে দীর্ঘ বছর অকেজো, নবায়নবিহীন পড়ে থাকা লাইসেন্সের তথ্য বের করে টার্গেট মোতাবেক লোভনীয় চুক্তি ও লাইসেন্স রিস্ক হিসাবে মোটা টাকা রফা দফায় শুল্ক ফাঁকির চক্র মালিকানা স্বত্ব কিনে লিমিটেড কোম্পানি লাইসেন্স করে শুল্ককর ফাঁকিতে কাজে লাগাচ্ছে একটি চক্র। আবার প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত লাইসেন্সে ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল ও পণ্য খালাসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে কাস্টমসের নজরদারি এড়িয়ে মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ককর ফাঁকির সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
সূত্রের দাবি, ব্যাক্তি মালিকানার সিএন্ডেএফ লাইসেন্স, যৌথ মালিকানা লিমিটেড সিএন্ডএফ লাইসেন্স করা হলেও বিধি মোতাবেক আইন মানা হচ্ছে না। প্রকৃত অর্থে কাগজপত্রে থাকে সীমাহীন ঘাটতি। লিমিটেড লাইসেন্স গুলো জয়েন্ট স্টকে নিবন্ধন,অডিট রিপোর্ট,আয় ব্যয়ের হিসাবসহ কোম্পানি আইনের অন্যান্য বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া এসব লাইসেন্সের প্রতি তদারকি নেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। যৌথ মালিকানা ও লিমিটেড কোম্পানির লাইসেন্স পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিশেষ নিরীক্ষা প্রয়োজন। 
সূত্র আরও জানায়, বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করতে লাইসেন্সের মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে ওটিপি নিজ আয়ত্তে রাখে চক্রটি। এক্ষেত্রে কোন যাচায় বাছাই ছাড়াই সংশ্লিষ্ট শাখার প্রোগ্রামারের অনৈতিক লেনদেনে বদলে যায় মোবাইল নাম্বার। আর লাইসেন্স শাখার কারসাজি ফলে পড়ে থাকা লাইসেন্সের তথ্য প্রদান, ভুয়া সার্টিফিকেট বানিয়ে লাইসেন্স প্রদানে ছোট অনৈতিক লেনদেনে বড় শুল্ককর ফাঁকির পথ তৈরি করে দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইসেন্সের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং শাখা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যক্তি মালিকানা লাইসেন্সে খুব কমই শুল্ককর ফাঁকি হয়ে থাকে। কারণ ভয় থাকে আটক বা ধরা খেলে লাইসেন্স হেল্ডআপ বা সাসপেন্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কৌশলে এসব হোতারা অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকে। 
বেনাপোল বন্দরে লিমিটেড ও ভাড়ায় চালিত শুল্ককর ফাঁকির তালিকার লাইসেন্স গুলো হলো, এস এ ট্রেডার্স, আলী কদর অ্যান্ড সন্স, ওমর এন্ড সন্স,নিরা এন্টারপ্রাইজ, আলেয়া এন্টারপ্রাইজ,সোনালি এজেন্সি লিমিটেড, মেসার্স সার্ভিস লাইন, প্যারেন্টস ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার, তানজিনা এন্টারপ্রাইজ, গ্রিন ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিমিটেড, নিউ ট্রেড এজেন্সি লিঃ, হুদা ইন্টারন্যাশনাল, হায়দার এন্ড সন্স,লিংক ইন্টারন্যাশনাল,জিবি এম ট্রেডিং,ট্রেড কমিউনিকেশন,মেসার্স লিটন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল,সাউন্ড লিপিং লিমিটেড, মেসার্স আমিন উদ্দীন ট্রেডার্স লিঃ, রনি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল,রয়েল সিঅ্যান্ডএফ, মেসার্স দলিলুর রহমান অ্যান্ড সন্স, মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল ও সোনারগাঁও এজেন্সি।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুল্ককর ফাঁকির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ফৌজদারি মামলা ও লাইসেন্স বাতিল করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে গভীর পর্যালোচনায় দেখা গেছে শুল্ক ফাঁকির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্তরালে রাজস্ব সমিতির সদস্যপদ বাতিল নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে কর ফাঁকির সদস্যরা ব্যবসায়ী সেজে বিভিন্ন ভাড়া লাইসেন্সে আবারও শুল্ককর ফাঁকির নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে। সিএন্ডএফ লাইসেন্স ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ থাকলে তা শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করে না, বরং বৈধ ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে। শুধু তাই নয় রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অসাধু সিঅ্যান্ডএফ তালিকা করে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং পরিবর্তন হওয়া লিমিটেড লাইসেন্স গুলোর সকল তথ্য যাচায় পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জরুরী ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এসবিআর)-এর উচ্চপর্যায়ের নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বেনাপোল কস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমদানিকারকদের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিন) লক করেছি, আমদানি লাইসেন্স (আই আর সি) বাতিলের জন্য আমদানি ও রপ্তানি প্রধান দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। কর ফাঁকির সাথে জড়িত লাইসেন্স গুলো নজরদারিতে রেখেছি। ভাড়াকৃত ও কর ফাঁকি দেওয়া লাইসেন্স গুলোর তথ্য চেয়ে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনে চিঠি দিয়েছি। এসোসিয়েশনের মিটিংয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। 

এমএসএম / এমএসএম

উলিপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত: ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ

পত্নীতলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত: ৬ জনের মাঝে ৭ লাখ টাকার যুব ঋণ বিতরণ

উজিরপুরে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ

ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত: যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান

বাকেরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত: দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের উদ্যোক্তা হতে হবে

সন্দ্বীপে একই রেঞ্জে ৯ বছর ধরে কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন, যোগসাজশে বনায়ন উজাড়ের অভিযোগ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রণক্ষেত্র গাজীপুর

লিখিত আদেশ ছাড়া জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন ও উপজেলা কার্যালয়ে হাজিরা

সিংড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের মৃত্যু

শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা

রৌমারীতে মাদক মামলার আসামী হয়েও সরকারি চাকুরিতে বহাল

​আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ