কুড়িগ্রাম এলজিইডির হিসাবরক্ষকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন
লিখিত আদেশ ছাড়া জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন ও উপজেলা কার্যালয়ে হাজিরা
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মোছা. রওজা বেগমের কর্মস্থল নির্ধারণ ও দাপ্তরিক হাজিরা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার লিখিত বদলি বা প্রেষণ (ডেপুটেশন) আদেশ ছাড়াই চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে তিনি জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ একই সময়ে সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় তাঁর স্বাক্ষর নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। এ ঘটনায় দপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সরকারি বিধিবিধানের ব্যত্যয় নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে মোর্শেদ আলী নামে একজন নিয়মিত হিসাবরক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস বিশ্বাসের মৌখিক নির্দেশে সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে রওজা বেগমকে জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। কোনো আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক আদেশ ছাড়াই দীর্ঘ আট মাস ধরে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের এক কর্মচারী জানান, রওজা বেগম জেলা কার্যালয়ে বসে কাজ করলেও সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতা নিয়মিত তাঁর কাছে নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনা হয়। এর পেছনে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ‘উপরের নির্দেশ’ থাকার অজুহাত দেওয়া হয়।
এদিকে মূল কর্মস্থলে রওজা বেগমের অনুপস্থিতির কারণে সদর উপজেলার দাপ্তরিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার। তাঁদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজের নিয়মিত বিল-ভাউচার যাচাই এবং হিসাবসংক্রান্ত নথিপত্রে স্বাক্ষরের জন্য দিনের পর দিন ফাইল আটকে থাকছে। এতে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীকে প্রেষণ বা সাময়িক দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রজ্ঞাপন বাধ্যতামূলক। কোনো প্রকার লিখিত নির্দেশনা ছাড়া বছরের পর বছর এক দপ্তরের কর্মচারীকে অন্য দপ্তরে রেখে মূল কর্মস্থলের হাজিরা খাতায় অনিয়মিতভাবে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা সরাসরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিসাবরক্ষক মোছা. রওজা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাস স্যারের মৌখিক নির্দেশনায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে তিনি জেলা অফিসে কাজ করছেন। সদর অফিসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন সদরে যাওয়া সম্ভব হয় না; সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন পরপর গিয়ে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আসেন।
অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাসের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে কুড়িগ্রাম এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার জানামতে তিনি প্রেষণে আছেন। আমি বর্তমানে অফিসের বাইরে রয়েছি; কার্যালয়ে ফিরে নথিপত্র দেখে সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।”
সচেতন মহলের দাবি, কর্মস্থলসংক্রান্ত আদেশ, হাজিরা খাতা এবং নথিপত্র যথাযথভাবে অডিট ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এমএসএম / এমএসএম
উলিপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত: ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ
পত্নীতলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত: ৬ জনের মাঝে ৭ লাখ টাকার যুব ঋণ বিতরণ
উজিরপুরে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ
ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত: যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান
বাকেরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত: দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের উদ্যোক্তা হতে হবে
সন্দ্বীপে একই রেঞ্জে ৯ বছর ধরে কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন, যোগসাজশে বনায়ন উজাড়ের অভিযোগ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রণক্ষেত্র গাজীপুর
লিখিত আদেশ ছাড়া জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন ও উপজেলা কার্যালয়ে হাজিরা
সিংড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের মৃত্যু
শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা
রৌমারীতে মাদক মামলার আসামী হয়েও সরকারি চাকুরিতে বহাল