ঢাকা রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

সন্দ্বীপে একই রেঞ্জে ৯ বছর ধরে কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন, যোগসাজশে বনায়ন উজাড়ের অভিযোগ


চট্টগ্রাম অফিস photo চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: ১-১১-২০২৬ দুপুর ২:২২

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের সন্দ্বীপ উপকূলীয় এলাকায় উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে ৯ বছর ধরেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন একই উপজেলার বাসিন্দা নিজামুদ্দিন। সমগ্র বাংলাদেশের বন বিভাগে নজিরবিহীন ঘটনা হচ্ছে নিজের উপজেলাতেই দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কাজ করা কোনো রেঞ্জ কর্মকর্তার তালিকায় প্রথম হচ্ছেন উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন। চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী এক রেঞ্জে ২ বছর পর পর বদলির নিয়ম হলেও একই রেঞ্জে ৯ বছর কোনো ব্যক্তির দায়িত্ব পালন বন বিভাগের ইতিহাসেই নেই।

এবার আসা যাক নিজ উপজেলায় নিজেই রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নিজামুদ্দিনের আমলনামায়। যেহেতু নিজ উপজেলার বাসিন্দা, সেহেতু তাঁর অধীনে ৬০টি করাতকল ও ২০টি ইটভাটার মালিক এবং মালিকের ছেলের সাথে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে নিজামুদ্দিনের। ফলে সকল রাজনৈতিক নেতাদের মন রক্ষা করে বন উজাড় করে হলেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে নিজেই অন্তত ৮টি করাতকলের মালিকানা নিয়ে রেঞ্জ পদ থেকে অবসর না নিয়েই নিজের কর্মস্থলে গড়ে তুলেছেন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইটভাটা।

নিজামুদ্দিন বলেন, ‘অবৈধ করাতকল ৬০টি হবে না, ৫০টি হবে; অবৈধ ইটভাটা ১৫টি হবে। মাঝে মাঝে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে, গত ২/৩ মাস আগেও অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছি।’ তবে করাতকলের মালিকানা ও ইটভাটার মালিকানা নিয়ে যৌথ ব্যবসা পরিচালনার কথাটি উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন অস্বীকার করেন। তবে দীর্ঘ ৯ বছর একই কর্মস্থলে থাকার গোপন রহস্য তিনি জানাতে চাননি, কিন্তু পরক্ষণে বলেন, ‘আমি ভালো কাজ করতেছি তাই রাখছে।’ চাকরির বিধিমালায় ভালো কাজ করলেও তো ৩ বছরের ওপর রাখার সুযোগ নেই—সে প্রশ্ন করলে অবশ্য তিনি চুপ থাকেন।

এদিকে সন্দ্বীপে মগধরা ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে উপকূলীয় বন কেটে সরকারি জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলমের বিরুদ্ধে। গত ২০২৫ সাল থেকেই তাঁর অনুসারীদের নিয়ে রাতের আঁধারে বন কেটে উজাড় করছেন তিনি। আর নদী ও সড়কপথে এসব গাছ স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটাসহ হাতিয়া ও সুবর্ণচরে পাচার করে দিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে দ্বীপ উপজেলার প্রধান উপকূল রক্ষা বাঁধ মারাত্মক হুমকিতে পড়ে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই সাথে সরকারি অর্থে লাগানো হাজার হাজার গাছ ধ্বংস হচ্ছে, হুমকিতে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলম প্রকাশ্যে বন উজাড় করলেও উপকূলীয় বন বিভাগ, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন মুখে কুলুপ এঁটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ভয়ে মুখ খুলছেন না। স্থানীয়ভাবে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

গত সপ্তাহে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মগধরা ইউনিয়নে দ্বীপ সুরক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বন বিভাগের সৃজিত বনের প্রায় ২০ একর জায়গার কেওড়া ও অন্যান্য ম্যানগ্রোভ প্রজাতির হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে অসংখ্য গাছের গুঁড়ি দৃশ্যমান। কাটা গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এছাড়াও দেখা গেছে, কাটা গাছের টুকরো কুড়াচ্ছেন স্থানীয় নারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছ কেটে বন উজাড়ের ঘটনায় বন বিভাগের কিছু অসাধু লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে। আমরা অভিযোগ দেওয়ার পরেও বন বিভাগের কেউ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেনি। এভাবে দীর্ঘদিন উপকূলীয় বনায়ন উজাড় হলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সন্দ্বীপ চ্যানেল তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীভাঙনের ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বেড়িবাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, গত এক বছর ধরে বন উজাড় করা হচ্ছে। কিন্তু গেল তিন সপ্তাহ ধরে বনে প্রতিদিন গাছ কাটা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বেড়িবাঁধের চা দোকানদার আলাউদ্দিন (ছদ্মনাম) জানান, আগে শুধু রাতে বন কাটা হলেও এখন পালাক্রমে বন কাটা হচ্ছে। একটি গ্রুপ রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত, আরেকটি গ্রুপ ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বন কাটছে। সবই হচ্ছে বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলমের নেতৃত্বে। তিনি প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হওয়ায় কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলম বলেন, ‘১৭ বছর বঞ্চিত থাকার পরেও নিজের জায়গার গাছ কাটতে অনুমতি নিতে হবে কেন?’ তবে বন বিভাগ ইদ্রিসের এ দাবি মানতে নারাজ। সন্দ্বীপ উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ‘বাগানের গাছ কাটছে সঠিক, তবে ওগুলো আগাছা। কিন্তু ইদ্রিসের পৈতৃক সম্পত্তি সেগুলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও গাছ কাটা যাবে না। যাচাই-বাছাই শেষে মালিকানা প্রমাণ হলে তবেই জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ইদ্রিস বন বিভাগের গাছ কাটেনি, বরং বন বিভাগের বাগানের আগাছা পরিষ্কার করেছে।’

অপরদিকে, সুফল প্রকল্প ও চর বনায়ন প্রকল্প মিলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর বনায়ন ঘিরেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে—বাগান আছে কাগজে-কলমে, বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই। ১০০ হেক্টরের জায়গায় বাগান আছে ২০ হেক্টর, ২০০ হেক্টরের স্থানে আছে ৩০-৪০ হেক্টর। ২ হাজার ৫০০ হেক্টর বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ৪০০-৫০০ হেক্টর বাগান আছে কি না সন্দেহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে বাগান এলাকা তদন্ত করলে প্রকৃত বাগানের অবস্থা বোঝা যাবে।

উল্লেখ্য, অনুমতি ছাড়া বনের গাছ কাটা বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬ ও ৩৩ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী উপকূলীয় বনায়ন ধ্বংসকে পরিবেশগত ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এ ধরনের অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানা করার বিধান রয়েছে। উপকূলীয় সুরক্ষা বন হওয়ায় কোস্টাল গ্রিন বেল্ট নীতিমালা অনুযায়ী এসব গাছ কাটাকে বিশেষভাবে দণ্ডনীয় বিবেচনা করা হয়। কেওড়া ও ম্যানগ্রোভ বনায়ন ধ্বংসে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী অতিরিক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও প্রযোজ্য হতে পারে।

এমএসএম / এমএসএম

আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি

উলিপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত: ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ

পত্নীতলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত: ৬ জনের মাঝে ৭ লাখ টাকার যুব ঋণ বিতরণ

উজিরপুরে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ

ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত: যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান

বাকেরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত: দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের উদ্যোক্তা হতে হবে

সন্দ্বীপে একই রেঞ্জে ৯ বছর ধরে কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন, যোগসাজশে বনায়ন উজাড়ের অভিযোগ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রণক্ষেত্র গাজীপুর

লিখিত আদেশ ছাড়া জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন ও উপজেলা কার্যালয়ে হাজিরা

সিংড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের মৃত্যু

শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা

রৌমারীতে মাদক মামলার আসামী হয়েও সরকারি চাকুরিতে বহাল