আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, সরকার গ্রেপ্তার করতে পারছে না : আখতার হোসেন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সরকারের কাছে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকে। সরকারপ্রধানের কাছেও নানা ধরনের গোয়েন্দা তথ্য থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দূরের কথা, ঘটনা ঘটার পরও তাদের গ্রেপ্তার করার মতো সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার যদি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না চায়, তাহলে তাদের জন্য আফসোস। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক। কিন্তু সরকার যদি প্রতিটি জায়গায় ব্যর্থ হতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক যুক্তি তাদের আর থাকে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচারও ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলে মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের ছাড় দেওয়ার কোনো চেষ্টা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
আখতার হোসেন বলেন, ২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে তিনটি কথা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। সেগুলো হলো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু সংস্কার ও বিচারের প্রশ্নে এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর যারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, বিএনপি সরকারের ওপর স্বাভাবিকভাবেই এই দুটি বিষয় সমাধানের দায়িত্ব ছিল।
তিনি বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে এই সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই গণভোটকে অস্বীকার করার পথ অবলম্বন করেছে। গণভোটের রায় আসার পরও যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন, তারা আসলে জনগণের রায়কে অস্বীকার করছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদের রাজনৈতিক ভিত্তি আছে, আইনি ভিত্তি নেই। আমরা তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় দাবি জানিয়েছিল, এটি বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি ভিত্তি তৈরি হওয়ার পরই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে। সংস্কারের অ্যাজেন্ডাগুলো জনগণের গণভোটে পাস হয়ে এসেছে। জুলাইয়ের প্রতিটি বিষয় জনগণের ভোটে পাস হওয়ার পর এর রাজনৈতিক ভিত্তিও আছে, আইনি ভিত্তিও আছে এবং সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিও আছে। এখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্নভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে এখনো কোনো রায় কার্যকর হতে দেখা যায়নি। বরং উল্টো ঘটনা ঘটছে। ভয়ংকর অপরাধীদের সাজা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে, তাদের কম সাজা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জুলাই গণহত্যার বিচার ঝুলিয়ে রাখার এক ধরনের চিন্তা সরকারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকার তাদের মতাদর্শের আইনজীবীদের দিয়ে নতুন টিম গঠন করেছে। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি কোথায়? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যতটুকু বিচার হচ্ছে, বাংলাদেশের নিম্ন আদালতগুলোতে কোথাও বিচারের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার জন্য নানা ধরনের সমঝোতা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলা শেষ করে দেওয়া হচ্ছে বলে আমরা শুনছি। যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে মামলা থেকে খালাস দেওয়ার পথ বেছে নিলে তারা আপনাদেরও ছাড়বে না। বাংলাদেশের জনগণও আপনাদের ছাড়বে না। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের কারণে যারা গুম, খুন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়েছেন, সেই মানুষগুলো আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে দলীয় ক্যাডারদের পরিচালক হিসেবে বসানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিত্বের জায়গাগুলোতে নিজেদের লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক থাকা অবস্থায় গোটা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসকেরা সামনে নির্বাচন করবেন বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন, পোস্টার লাগাচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই একজন প্রশাসকের কাজের সঙ্গে যায় না। সরকারি তহবিল ব্যবহার করে দলীয় কর্মী ও নেতারা যাতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন, সরকার সেই ব্যবস্থা করেছে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যাদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়েছেন, তাদের সামনে নির্বাচন করানোর কথা ভাবছেন। এই গণতন্ত্রবিরোধী কাজ বাংলাদেশের মানুষ হতে দেবে না। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে যাদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তারা যাতে সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট আইন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। সরকার নিজেদের মতো ক্ষমতা সুরক্ষিত রেখে সামনে এগোতে চায়। সেই সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ দেবে না। জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিতে থাকলে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় যুবশক্তি রাজপথের কর্মসূচি বেছে নেবে। সরকারের যে–কোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে তারা দাঁড়িয়ে যাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থানের কথা বলে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এখনো কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, যতটুকু কর্মসংস্থান রয়েছে, সেটুকুও টেকসই করতে পারছে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই চলছে, গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার দেশে গণবেকারত্ব তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, নিজেদের লোকদের চাকরি দিতে সরকার নতুন বন্দোবস্তের দিকে এগোচ্ছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এমনভাবে রদবদল করা হচ্ছে, যাতে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৬’ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।
aliul / aliul
শ্রমিকের মজুরির প্রশ্নে বিজিবি নামায় যে রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্র কার পক্ষে
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারাকারীদের শক্ত হাতে দমনের আহ্বান জামায়াত আমিরের
গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত জনশক্তির জীবন কঠিন সংকটের মুখোমুখি
আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, সরকার গ্রেপ্তার করতে পারছে না : আখতার হোসেন
আওয়ামী লীগ একটি গোখরা সাপ, সতর্ক থাকুন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ভোটকেন্দ্রে মাইকিং করে ভোট চাওয়ার ইতিহাস বিএনপি সৃষ্টি করেছে
জনগণের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব: ডা. শফিকুর রহমান
ফেসবুক ভিডিওতে ‘দৈনিক আমার দেশ’ কপি ছিঁড়লেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক ঐক্য বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতির সঙ্গে গাদ্দারি বরদাশত করা হবে না: শফিকুর রহমান
বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই : রিজভী
সময় থাকতে সতর্ক হোন, না হলে বিপদে পড়বেন : অলি আহমেদ