নেত্রকোণায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এর উদ্যোগে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত,জড়িতদের দ্রুুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নেত্রকোণায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জেলা শহরের মোক্তারপাড়ায় নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সোমবার সকালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
বেলা ১১টা থেকে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন- সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক,নেত্রকোণার কেন্দুয়া মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ^শর্মা, দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহন মিয়া, এস এম রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে ময়মনসিংহ,নেত্রকোণার বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাবীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার তরান্বিত করার জন্য নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের সাথে দেখা করেন। পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে দ্রুুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকান্ড কোনভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একজন সাংবাদিককে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের নানা অসংগতি, অনিয়ম ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। অথচ তাদেরই যদি হত্যার শিকার হতে হয় এবং অপরাধীরা বিচারের বাইরে থেকে যায়, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই কোন ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নেতৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুুত বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আলিফ ফকিরের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দাবি ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
গাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকান্ড যেনো, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বছরের পর বছর আমাদের অপেক্ষা করতে না হয়। গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিবাদে জেগে উঠেছিলেন, আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরও সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবীতে দেশের সকল সাংবাদিকদের এক হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
একজন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের কাজ। একজন সাংবাদিককে হত্যা করে তাদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। প্রয়োজনে দেশের সকল কলম সৈনিক মিলে আন্দোলন করবো।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত আলিফ ফকিরের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে পরদিন দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাত আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরই মধ্যে পুলিশ গত শনিবার পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূব, আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণ, ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন ও মো. সাব্বির আহম্মেদ। এর মধ্যে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূব, আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে করাগারে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার থেকে ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন ও মো. সাব্বির আহম্মেদ গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল। তারা রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।
লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের চারুলিয়া মাইজপাড়া গ্রামে । তিনি দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তাঁর চার বছর বয়সী একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে রয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
টেকনাফে সিএনজি অটোরিকশাসহ সাড়ে তিন কোটি টাকার ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ
চাঁদপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার
সাভারে শ্রমিক অসন্তোষ: ২৬৪ পোশাক কারখানায় ছুটি
সাভারে শ্রমিক অসন্তোষ: ২৬৪ পোশাক কারখানায় ছুটি
সিলেটে পৃথক অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার
পত্নীতলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত
ধামরাইয়ে বাক্প্রতিবন্ধীর বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তদের আগুন
চন্দনাইশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
নেত্রকোণায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এর উদ্যোগে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
চৌগাছায় গাছি সমাবেশ ও খেজুরের চারা বিতরণ: কৃষকদের সুবিধার্থে নির্মিত হবে মিনি কোল্ড স্টোরেজ
ধুনটে বিস্ফোরক মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সজিব গ্রেপ্তার
রাজশাহীতে মানিক পশারীর জানাজা-দাফনে বাধার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন