ঢাকা মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

মনপুরায় রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ে তালা: অরক্ষিত বনভূমি ও বন্যপ্রাণী


মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা photo মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা
প্রকাশিত: ৩-১১-২০২৬ দুপুর ৩:১০

তিন দিকে প্রমত্তা মেঘনা আর একদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা ভোলার মনপুরা। মেঘনার বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য ছোট-বড় চরের সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনভূমিতে বসবাস করে চিত্রা হরিণ, বানরসহ নানা প্রজাতির বন্য ও জলজ প্রাণী। তবে বন বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও নজরদারির চরম অভাবে দ্বীপের এ প্রাকৃতিক সম্পদ ও অমূল্য জীববৈচিত্র্য এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম; ফলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে স্থানীয় বন বিভাগ এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরা শিকারিরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সরেজমিনে উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। কার্যালয়ে কর্মকর্তা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর উপস্থিতি মেলেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মনপুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মো. আবুল কাসেম। যোগদানের পর হাতে গোনা কয়েক দিন অফিস করলেও অধিকাংশ সময়ই তিনি নিজ এলাকা লালমোহনে অবস্থান করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর কর্মস্থলে এসে মাত্র দুই দিন অবস্থান করে ২৮ অক্টোবর তিনি পুনরায় কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান মাঝি ও সাখাওয়াত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রেঞ্জ অফিসের পাশেই তাঁদের বাড়ি হলেও নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁকে একদিনের জন্যও এলাকায় দেখা যায়নি। মাকসুদ নামের আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বন বিভাগের কার্যকর নজরদারি না থাকায় দুর্গম চরগুলোতে অবাধে হরিণ শিকার ও গাছ কাটা চলছে। বিশেষ করে হাজিরহাট বিটের আওতাধীন বদনার চরে বিপুলসংখ্যক চিত্রা হরিণ শিকারিদের কবলে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে, যা পুরো দ্বীপের জীববৈচিত্র্যকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীনতায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনপুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম জানান, মনপুরা হাজিরহাট বিটের একটি নার্সারি চরফ্যাশনের বেতুয়ায় স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে সেই নার্সারির আগাছা পরিষ্কারের তদারকি করতে সেখানে অবস্থান করায় তিনি নিয়মিত মনপুরা রেঞ্জে থাকতে পারছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে ভোলা জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আরিফুল হক বেলালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মনপুরার দুর্লভ বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় রেঞ্জ কর্মকর্তার সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মকাণ্ডে কঠোর জবাবদিহি ও নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন দ্বীপবাসী।

এমএসএম / এমএসএম

লালমাইয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত

মাদক সমাজের ক্যানসার, যুবসমাজকে সুস্থ জীবন গড়তে হবে: টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও

পাঁচবিবিতে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান: ২ নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আটক

নেত্রকোনা জেলা জিসাসের সাধারণ সম্পাদক হলেন বারহাট্টার আনোয়ার হোসেন সুমন

অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সে বাকেরগঞ্জের ওসি আদিল: স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ, অপপ্রচারে ক্ষোভ

দাপ্তরিক কক্ষ যেন ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি: কুড়িগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালকের কার্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খলা

পত্নীতলায় ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

টঙ্গীতে ছাত্রদল নেতা ও তাঁর বন্ধুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ: প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল

মনপুরায় রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ে তালা: অরক্ষিত বনভূমি ও বন্যপ্রাণী

গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাচারি ঘর: বরিশালের গৌরনদীতে কালের সাক্ষী শেরেবাংলার স্মৃতিধন্য ভিটা

চারদিকে চকচকে সড়ক, মাঝখানে ২০ হাত বেহাল: রায়গঞ্জে চরম জনদুর্ভোগ

কেপিআইভুক্ত আড়ানী রেলব্রিজ পরিদর্শন করল জেলা পুলিশ

সফল আত্মকর্মী হিসেবে জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন আত্রাইয়ের কৃষিবিদ সামিউল ইসলাম