মাত্র ২ হাজার টাকার পুঁজি স্বপ্ন এখন দেশজুড়ে
মানুষের স্বপ্ন বড় হতে পারে, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের শুরুটা যে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে হতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কখনো কখনো সামান্য পুঁজি, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর শেখার আগ্রহই বদলে দিতে পারে জীবনের গতিপথ। মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা মো. মেহেদী
হাসানের গল্পটি তেমনই এক সম্ভাবনার গল্প। মাশরুম চাষের ছোট্ট উদ্যোগ থেকে আজ তিনি গড়ে তুলেছেন 'টেস্টি মাশরুম' নামের একটি মাশরুমভিত্তিক খাদ্যপণ্য ব্র্যান্ড। বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগে পরিচালিত হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান। তাঁর স্বপ্ন এখন শুধু মাশরুম উৎপাদন নয়, বরং মাশরুমকে মানুষের পরিচিত খাবারে পরিণত
করা এবং এ খাতকে ঘিরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। রংপুর সিটি করপোরেশনের ধাপ কটকিপাড়ার বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান। ডিপ্লোমা ইঞ্জি-ি নয়ারিং সম্পন্ন করার পর প্রচলিত চাকরির পথের বাইরে গিয়ে নিজেই কিছু করার চিন্তা করেন। সেই চিন্তা থেকেই ২০২৩ সালে শুরু করেন মাশরুম চাষ। পুঁজি ছিল মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। শুরুতে পরিসর ছোট হলেও স্বপ্নটা ছিল বড়। নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি এমন একটি উদ্যোগ গড়ে তোলার ইচ্ছা ছিল, যার মাধ্যমে অন্যদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। মাশরুম চাষ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা সীমিত থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কখনো উৎপাদন কমেছে, কখনো স্পন ও মাদার কালচার তৈরিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্পন দূষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং কাঁচামাল ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। উৎপাদিত মাশরুম বিক্রি করাও সব সময় সহজ ছিল না। কারণ, অনেক ক্রেতার কাছে মাশরুম তখনো পরিচিত খাবার হয়ে উঠতে পারেনি।
তবে এসব বাধায় থেমে যাননি মেহেদী। বরং বুঝতে পারেন, উদ্যোক্তা হিসেবে টিকে থাকতে হলে শুধু আগ্রহ নয়, প্রয়োজন কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা। তাই শুরু করেন প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা।
মাশরুম চাষের ওপর বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার, রংপুর থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরে সাভারের ন্যাশনাল মাশরুম ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে মাশরুম চাষ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া OJT (On-the-Job Training) এবং SICIP-এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণও নেন।
তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া থেকে নেওয়া ১১ দিনের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণবিষয়ক প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পার্টনার প্রকল্পের APCU-DAM কার্যক্রমের আওতায় কৃষি ব্যবসায় তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। বাস্তবায়নে ছিল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া। প্রশিক্ষণটি ছিল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে অন-দ্য-জব ট্রেনিং।
এই প্রশিক্ষণ তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। তিনি উপলব্ধি করেন, শুধু কাঁচা মাশরুম উৎপাদন ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে উদ্যোগের সম্ভাবনাকে পুরো-পুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়। বরং মাশরুমকে প্রক্রিয়াজাত করে নতুন নতুন খাদ্যপণ্য তৈরি করা গেলে এর বাজার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়ানো সম্ভব। সেই উপলব্ধি থেকেই মাশরুম চাষের পাশাপাশি খাদ্যপণ্য তৈরির দিকে মনোযোগী হন তিনি। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাঁর প্রতিষ্ঠান 'টেস্টি মাশরুম'।
মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা: মেহেদীর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় তিনি ১০ দিনের মাশরুম চাষ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন-বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁর মাশরুম চাষের ঘর তৈরি, চাষের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং ল্যাব স্থাপনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মেহেদী মনে করেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, উৎপাদনের অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব সহায়তা পেলে স্বল্প পুঁজির উদ্যোক্তারাও ধীরে ধীরে
বড় উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারেন।
উৎপাদন ও বিক্রিতে এগোচ্ছে টেস্টি মাশরুম: শুরুর সেই ছোট উদ্যোগ এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পরিসর পাচ্ছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ টাকা। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যন্ত্রপাতি কেনাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফ্রেশ মাশরুম উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি এবং টেস্টি মাশরুম ব্র্যান্ডের মাশরুম চিপস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ পিস। প্রতিষ্ঠানটির মাসিক বিক্রির পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
নিজের বেতন, কর্মীদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফার হার প্রায় ১৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। সে হিসাবে মাসিক বিক্রির ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ থেকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে নতুন যন্ত্রপাতি কেনা ও উৎপাদন সম্প্রসারণে ধারাবাহিক বিনিয়োগের কারণে বর্তমানে মুনাফার বড় অংশই ব্যবসার উন্নয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে।
মেহেদীর ভাষ্য, ব্যবসা শুরুর সময় লক্ষ্য ছিল ছোট পরিসরে উৎপাদন করা। কিন্তু ক্রেতাদের আগ্রহ ও বাজারের সম্ভাবনা দেখে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়, বরং পণ্যের মান ও বাজারে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করা।
মাশরুমকে পরিচিত খাবার বানানোর স্বপ্ন: মেহেদী হাসান মনে করেন, বাংলাদেশে মাশরুমের সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাসে মাশরুমকে পরিচিত করে তোলাও জরুরি। অনেকেই মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আগ্রহী হলেও কীভাবে রান্না করতে হয়, কীভাবে খেতে হয় কিংবা এর স্বাদ কেমন-তা জানেন না।
এই জায়গা থেকেই তিনি নতুন পরিকল্পনা করেন। মাশরুমকে শুধু সবজি বা কাঁচা কৃষিপণ্য হিসেবে নয়, বরং মুখরোচক ও সহজে খাওয়ার উপযোগী খাদ্যপণ্য হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চান।
বর্তমানে টেস্টি মাশরুম-এর পণ্য তালিকায় রয়েছে মাশরুম চিপস, মাশরুম মিষ্টি, মাশরুম ফ্রাই, ড্রাইড মাশরুম, মাশরুম পাউডার ও মাশরুম আচারসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত খাদ্যপণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে মাশরুম চিপস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে। তাঁর লক্ষ্য, নতুন প্রজন্মের কাছে মাশরুমকে আকর্ষণীয় খাবার হিসেবে তুলে ধরা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তা ও নতুন খাদ্যপণ্যের প্রতি আগ্রহীদের জন্য বিকল্প তৈরি করা।
৩০ চাষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিয়মিত উৎপাদনে ২০ জন: নিজের ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় মাশরুম চাষিদের নিয়েও কাজ করছেন মেহেদী। বর্তমানে প্রায় ৩০ জন মাশরুম চাষির সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন নিয়মিত মাশরুম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এসব চাষির অধিকাংশই নারী।
তাঁর সঙ্গে যুক্ত নিয়মিত নারী চাষিদের প্রত্যেকের মাসিক আয় গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি। কেউ নিজ বাড়িতে মাশরুম উৎপাদন করছেন, কেউ আবার উৎপাদিত মাশরুম সরবরাহের মাধ্যমে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
মেহেদীর বিশ্বাস, মাশরুম চাষ নারীদের জন্য বাড়িভিত্তিক আয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প জায়গায় এবং তুলনামূলক কম পুঁজিতে এ চাষের সুযোগ থাকায় গ্রামীণ ও শহরতলির নারীদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এদিকে টেস্টি মাশরুম প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে সরাসরি কাজ করছেন সাতজন কর্মী। অর্থাৎ নিজ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদেরও আয়ের সুযোগ তৈরি করছেন তিনি।
তিনি চান, স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি নারী ও তরুণকে মাশরুম চাষ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত করতে। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদিত মাশরুমের বাজার তৈরি হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
সারা দেশে বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা: টেস্টি মাশরুম-এর পণ্য বাজারজাতকরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অর্ডার, সরাসরি বিক্রয় এবং বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব মাধ্যমে পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের সরাসরি মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্যোক্তার দাবি, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টেস্টি মাশরুম-এর পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন-দুই মাধ্যমেই ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মাশরুম চিপস নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ তাঁকে আশাবাদী করেছে। নতুন ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও পণ্যের বিষয়ে আগ্রহ ও অর্ডার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পণ্যের মান বজায় রাখা, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা, প্যাকেজিং, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা-এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব: একটি খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মেহেদী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পণ্যের নমুনা বিএসটিআই এবং সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে বিএসটিআইয়ের প্রয়োজ-নীয় অনুমোদন গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
মেহেদী মনে করেন, একটি খাদ্যপণ্য তৈরি করাই শেষ কথা নয়। সেই পণ্যের মান, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং ক্রেতার আস্থা অর্জনই একটি ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি সফলতার ভিত্তি। তাই ভবিষ্যতে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্বপ্ন একটি মাশরুম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার: মেহেদীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো 'টেস্টি মাশরুম এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার' প্রতিষ্ঠা। তাঁর পরিকল্পনা, এমন একটি জায়গা গড়ে তোলা, যেখানে একই ছাদের নিচে মানুষ মাশরুম সম্পর্কে জানতে পারবেন, উৎপাদন পদ্ধতি শিখতে পারবেন, বিভিন্ন ধরনের মাশরুমভিত্তিক খাদ্যপণ্য দেখতে ও কিনতে পারবেন। তার স্বপ্নের এই কেন্দ্রের মূল ধারণা-'এক ছাদের নিচে মাশরুমের সবকিছু'। যেখানে থাকবে Taste, Learn, Shop, Grow ও Succeed-এর সমন্বয়। অর্থাৎ, মাশরুমের উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ-সবকিছু একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চান তিনি।
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন খাদ্যপণ্য তৈরি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অনলাইন-অফলাইন বাজার সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য সরবরাহের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
ছোট পুঁজির বড় শিক্ষা: মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা মেহেদী হাসানের উদ্যোক্তা জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-শুরুটা ছোট হলেও স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বড় হতে পারে। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ধৈর্য, পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে পরিবর্তন করার মানসিকতা। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "শুরুতে খুব অল্প টাকা নিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেছিলাম। তখন লক্ষ্য ছিল নিজের একটা কর্মসংস্থান তৈরি করা। কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। পরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছি এবং RDA, বগুড়া থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার
পর নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি হয়। তখন বুঝতে পারি, শুধু মাশরুম উৎপাদন নয়, এটিকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমার স্বপ্ন শুধু নিজের প্রতিষ্ঠান বড় করা নয়। আমি চাই, মাশরুম চাষের সঙ্গে আরও বেশি নারী ও তরুণ যুক্ত হোক। কৃষকরা যেন তাঁদের উৎপাদিত মাশরুমের ভালো বাজার পান। টেস্টি মাশরুম একদিন দেশের পরিচিত একটি দেশীয় খাদ্যপণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।" রংপুরের ধাপ কটকিপাড়ায় অল্প পুঁজিতে শুরু হওয়া মেহেদী হাসানের এই উদ্যোগ এখন মাশরুম উৎপাদন থেকে মূল্য সংযোজন ও ব্র্যান্ড তৈরির পথে এগোচ্ছে। মাত্র দুই হাজার টাকার পুঁজি থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিয়োগ, ৩০ জন চাষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা,
সাতজনের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং সারা দেশে পণ্য সরবরাহের স্বপ্ন-সব মিলিয়ে তাঁর উদ্যোগটি সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। সামনে পথ এখনো অনেক। প্রয়োজন আরও বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, মানসম্মত উৎপাদনব্যবস্থা ও বাজার সম্প্রসারণ। তবে ছোট পরিসরে শুরু করে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার গল্প। মাত্র দুই হাজার টাকার পুঁজি থেকে টেস্টি মাশরুম-এটি শুধু একজন উদ্যোক্তার ব্যবসা শুরুর গল্প নয়; এটি কৃষিপণ্যকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে নতুন বাজারে নিয়ে যাওয়ার, নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার এবং স্থানীয় উৎপাদনকে একটি দেশীয় ব্র্যান্ডে রূপ দেওয়ার স্বপ্নের গল্প।
aliul / aliul
মাত্র ২ হাজার টাকার পুঁজি স্বপ্ন এখন দেশজুড়ে
লালমাইয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত
মাদক সমাজের ক্যানসার, যুবসমাজকে সুস্থ জীবন গড়তে হবে: টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও
পাঁচবিবিতে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান: ২ নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আটক
নেত্রকোনা জেলা জিসাসের সাধারণ সম্পাদক হলেন বারহাট্টার আনোয়ার হোসেন সুমন
অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সে বাকেরগঞ্জের ওসি আদিল: স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ, অপপ্রচারে ক্ষোভ
দাপ্তরিক কক্ষ যেন ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি: কুড়িগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালকের কার্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খলা
পত্নীতলায় ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
টঙ্গীতে ছাত্রদল নেতা ও তাঁর বন্ধুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ: প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল
মনপুরায় রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ে তালা: অরক্ষিত বনভূমি ও বন্যপ্রাণী
গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাচারি ঘর: বরিশালের গৌরনদীতে কালের সাক্ষী শেরেবাংলার স্মৃতিধন্য ভিটা
চারদিকে চকচকে সড়ক, মাঝখানে ২০ হাত বেহাল: রায়গঞ্জে চরম জনদুর্ভোগ