অর্থাভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি: অস্তিত্ব সংকটে কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা গোপালপুর মডেল কলেজটি আজ তীব্র আর্থিক সংকট ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ দুই যুগেও মেলেনি সরকারি আর্থিক সহায়তা কিংবা এমপিওভুক্তি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং একক ব্যক্তির অর্থায়নে টান পড়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও রাষ্ট্রচিন্তক রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমতি লাভ করে ২০০৩ সালে এটি একাডেমিক স্বীকৃতি অর্জন করে। আর্থিক ও ভৌগোলিক কারণে পিছিয়ে পড়া হাওরাঞ্চলের সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের দোরগোড়ায় উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় একক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখেন প্রতিষ্ঠাতা এম নাজমুল হাসান। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান, ভবনের অবকাঠামো তৈরি এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই, শিক্ষা উপকরণ ও বৃত্তি দিয়ে তিনি শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখেন। তবে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ একক ব্যক্তির আর্থিক জোগানে সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতা জাতীয়তাবাদী ঘরানার আদর্শ ধারণ করায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বৈষম্যের শিকার হয় প্রতিষ্ঠানটি। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনীহার কারণে শতভাগ শর্তপূরণ সত্ত্বেও কলেজটিকে কোনো সরকারি অনুদান বা এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়নি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এমন একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ায় বঞ্চিত হয়েছে পুরো এলাকার শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে অর্থাভাবে নিয়মিত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ও শ্রেণিকক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাবে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রামীণ উচ্চশিক্ষার এ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ সংকট উত্তরণে নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রতিষ্ঠাতা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানসহ এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমে দ্রুত এমপিওভুক্তি ও সরকারি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
একই সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার এই বাতিঘরটি পুনরুজ্জীবিত করতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, স্থানীয় বিত্তবান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
এমএসএম / এমএসএম
সান্তাহারে হোটেলে মুরগির চাপ ও গ্রিল খেয়ে ৫ জন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি: ইউএনও বরাবর অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংঘর্ষে লিপ্ত ২ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার: ককটেল ও রামদা উদ্ধার
শেরপুরে ডিসি উদ্যানে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলা
বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি গঠন
শালিখা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম মুন্সি শহিদুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মহেশখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: এলজি ও কার্তুজসহ ১১ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে অনিয়মের চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত করতে নেছারাবাদ ও কাউখালীতে পৃথক মতবিনিময় সভা
সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে চৌগাছায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
ঠাকুরগাঁও বিসিডিএস সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ: ১৭ জনের মধ্যে ১৫ সদস্যের অনাস্থা
অর্থাভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি: অস্তিত্ব সংকটে কেন্দুয়ার গোপালপুর মডেল কলেজ
পরিচ্ছন্ন শাহজাদপুর গড়তে পৌর শহরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান, অর্থদণ্ড ও মোটরসাইকেল জব্দ