ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

চিলমারী হাসপাতালে চিকিৎসার চরম অবহেলা: হাতের ভেতর কাচ রেখেই রোগীকে ছাড়পত্র


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি photo কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫-১১-২০২৬ দুপুর ৪:২৯

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহতের পর হাতের ভেতরে ভাঙা কাচের টুকরা রেখেই রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় অসহ্য যন্ত্রণায় ভোগার পর অবশেষে অন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত থেকে কাচের টুকরা বের করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এমন চরম গাফিলতি ও অবহেলায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। পেশায় দিনমজুর ও ভূমিহীন সাইদার পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এক মাসেরও বেশি সময় আগে বাড়িতে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন সাইদার মিয়া। এ সময় ছিটকে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাচে মারাত্মকভাবে আঘাত পান তিনি। এতে তাঁর বাঁ হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ভেতরে কাচের টুকরা ঢুকে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়ার অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে ভর্তি না করে শয্যা সংকট দেখিয়ে শুধু ওপর দিয়ে দায়সারা ব্যান্ডেজ ও প্রাথমিক মলম দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতস্থানের ভেতরে কাচ ঢুকে আছে কি না তা যাচাই বা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করেননি কর্তব্যরত চিকিৎসক। এক মাস ধরে ক্ষতের যন্ত্রণা তীব্র আকার ধারণ করলে এবং কোনো উপশম না হওয়ায় পরবর্তীতে অন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এক্স-রে করান তিনি। এক্স-রে প্রতিবেদনে তাঁর হাতের গভীরে দুটি কাচের টুকরা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচার করে সেই কাচ অপসারণ করা হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাইদার মিয়া বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সেবার নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। হাতের ভেতর কাচ রেখেই তারা কোনো রকম ব্যান্ডেজ করে আমাকে তাড়িয়ে দিল। এক মাস নরক যন্ত্রণা ভোগ করার পর অপারেশনে কাচ বের হলো। এই চরম অবহেলার বিচার চাই।’

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে চিলমারী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত অসহায় ও দিনমজুর মানুষ। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা ন্যূনতম মানবিকতা দেখালে এবং একটি সাধারণ এক্স-রে করালে এই নিরীহ মানুষটিকে এক মাস অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সইতে হতো না। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম চিকিৎসায় ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুলবশত হয়ে গেছে, এর জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এমএসএম / এমএসএম

ধামরাইয়ে চার বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়-আতর ও গলাকাটা মুরগি, আতঙ্কে গ্রামবাসী

সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদম দালাল লিটু

উজিরপুরে নতুন কুড়ি স্পোর্টস সিজন ২ উদ্ভোধন

টানা আন্দোলনের পর গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকেরা: কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

পিরোজপুরে ইসলামী যুব আন্দোলনের যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা: ৭ সদস্যের পৌর কমিটি গঠন

চিলমারী হাসপাতালে চিকিৎসার চরম অবহেলা: হাতের ভেতর কাচ রেখেই রোগীকে ছাড়পত্র

নবীগঞ্জে দাখিল ও আলিম উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নতুন আমির মাওলানা আব্দুর রব

রাজস্থলীতে টেকাব প্রকল্পের ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ভ্যানে প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা প্রদান

শত বছরেও নজরুলের মতো প্রতিভা জন্ম নেয় না: গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক প্রশস্তকরণে বৃহৎ পরিকল্পনা

কুড়িগ্রামে জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘নারী অগ্রগতি’ প্রকল্পের সূচনা সভা অনুষ্ঠিত