বেড়ায় চিকিৎসার নামে ভুয়া কবিরাজের রমরমা প্রতারণা
পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানাধীন মাশুমদিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বৈধ অনুমোদন বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ‘কবিরাজ’ সেজে রমরমা অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন মো. হালিম কবিরাজ নামের এক ব্যক্তি। ব্লাড ক্যানসার ও লিভার সিরোসিস থেকে শুরু করে জটিল সব রোগের ‘শতভাগ গ্যারান্টিযুক্ত’ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কবিরাজ হালিম’ পেজ এবং স্থানীয় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দিয়ে চটকদার ভিডিও প্রচার করে দূরদূরান্তের সহজ-সরল রোগীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। একসময় হাটবাজারে হকারি করা হালিম কবিরাজ এখন কলেজ রোডে চেম্বার খুলে বসেছেন। সেখানে রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা ভিজিট নেওয়ার পাশাপাশি দুই থেকে তিন হাজার টাকার তথাকথিত গাছগাছালির তৈরি ওষুধ গছিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ওষুধ প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই নিজ বাড়িতে এসব মানহীন ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হালিম কবিরাজের প্রচারণায় সাপে কাটা ও কুকুরের কামড়ে ফ্রি চিকিৎসার পাশাপাশি বাত-ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা, বিনা অপারেশনে কিডনি ও পিত্তথলির পাথর গলানো, নাকের পলিপাস, টিউমার, পাইলস ও যৌনরোগ নিরাময়ের চটকদার দাবি করা হয়। এমনকি বহিরাগত রোগীদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় চিকিৎসকদের অভিযোগ, গাছগাছড়ার প্রলেপের নামে মারাত্মক ক্ষতিকর অ্যাসিড ব্যবহার করে নাকের পলিপাস পোড়ানো হচ্ছে, যার ফলে রোগীদের শরীরে পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের মতো মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।
ভোক্তাভুগী নাটোরের মো. জহির আলী অভিযোগ করেন, ‘ফেসবুকের প্রচারণা দেখে দেড় মাস আগে চার হাজার টাকার চুক্তিতে নাকের পলিপাসের চিকিৎসা নিই। মাসখানেক পর নাকের ভেতর মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানতে পারি, অ্যাসিড দিয়ে নাকের মাংস পুড়িয়ে ফেলার কারণে ভেতরে গভীর ঘা হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সনদ বা অনুমোদন দেখাতে পারেননি হালিম কবিরাজ। উল্টো বিভিন্ন প্রভাবশালীর দোহাই দিয়ে এবং সংবাদ না প্রকাশের শর্তে তিনি প্রতিবেদককে চায়ের নিমন্ত্রণ জানান।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, ‘চিকিৎসা কোনো অনুমান বা অনুভূতির বিষয় নয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈধ সনদ ছাড়া এ ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বেআইনি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনান্ট চাকমা জানান, কোনো ধরনের অনুমোদনহীন ব্যক্তি চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিএমডিসি বা স্বীকৃত ইউনানি-আয়ুর্বেদিক বোর্ডের নিবন্ধন ছাড়া কারও চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষের জীবন নিয়ে এমন অপচিকিৎসা বরদাশত করা হবে না। দ্রুত তদন্ত করে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমএসএম / এমএসএম
সিংড়ায় শশুর কর্তৃক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, লজ্বায় আত্নহত্যা
মান্দায় জাতীয় সমবায় দিবস পালন
কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
উল্লাপাড়ায় আমজাদের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা
গোপালগঞ্জে নানা আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জয়পুরহাটে বিএনপির জনস্রোত, বিশাল র্যালি ও আলোচনা সভা
শ্যামনগরে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ময়মনসিংহে ড্যাবের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
রাজস্থলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে দুদকের টিম অভিযান
বেড়ায় চিকিৎসার নামে ভুয়া কবিরাজের রমরমা প্রতারণা
শরণখোলায় জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
যশোরে ৫০ বোতল উইনকিরিক্সসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার