ঢাকা রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

একমাসেও জমা হয়নি বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন, জানা যায়নি কারন


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ২-৭-২০২২ দুপুর ১:৪৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে গঠিত সাত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তিন থেকে সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিস্ফোরণের প্রায় একমাস পুর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কমিটিই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এখনো জানা যায়নি আগুন লাগার কারন, খোলেনি কোন রহস্যের জট।

 জানা যায় গত ৫ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় প্রথম তদন্ত কমিটি। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা  হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা থেকে ৯ জনকে ওই কমিটির সদস্য করা হয়।কমিটির সদস্যরা হলেন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. আবু নুর রাশেদ আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল ইসলাম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আকতার, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মেজর আবু হেনা মো. কাউসার জাহান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আনিসুর রহমান ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন।

এ কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষে পাঁচ দিনের সময় চেয়ে নেয়া হয়েছিল। সেই হিসাবে রোববার আমাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় প্রতিবেন জমা দেয়া যায়নি। দ্বিতীয় দফায় আবারও সময় চেয়েছি। আশা করছি, এই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।

অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান করা হয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপ-পরিচালক/স্থানীয় সরকার) বদিউল আলমকে। ৯ সদস্যের এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখনও তারা জমা দিতে পারেনি।

কমিটির সদস্য সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম বলেন, তদন্ত কাজ চলছে, কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। কাজগুলো শেষ হলে চলতি সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত কমিটিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকলেও ঘটনা তদন্তে তারাও একটি কমিটি গঠন করে। অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়ে থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে তারাও তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১০ কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দাবি, ডিপোতে রাসায়নিক থাকার কথা তাদের শুরুতে জানানো হয়নি। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেননি তারা। পুরো ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালককে (অপারেশন) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এই কমিটিও এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে জানান কমিটির সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপপরিচালক আনিসুর রহমান।

৪ জুনের বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ৫ জুন বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা সাবেক অতিরিক্ত সচিব হাবিবুল কবির চৌধুরীকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়। তবে এখনও কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে জানিয়েছেন স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।

ওইদিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। তিন সদস্যের ওই কমিটিকে ঘটনা তদন্তে তিন দিন সময় দেয়া হয়। কমিটির প্রধান করা হয় টার্মিনাল কর্মকর্তা খুদরত ই খোদাকে। এই কমিটিও এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি। 

একই ঘটনা তদন্তে আলাদা কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফি উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে সাত দিন সময় দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদন জমা দেওয়া জানিয়েছে একটি বিশ্বস্ত সুত্র। 

সীতাকুণ্ডে মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট জাফর হায়দার বলেন, দেশে অতীতে বড় বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং সে বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত কমিটি হয়েছে বেশিরভাগ তদন্ত রিপোর্ট আলোরমুখ দেখে না। সম্প্রতি বিএমডিপোতে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এখানে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। সমস্ত বিষয় ও তথ্য প্রমানাদি বিবেচনা করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে বলে মনে করছি। এই ঘটনায় যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এটাও প্রত্যাশা করছি। 
উল্লেখ্য নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানাধীন (জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি) প্রতিষ্ঠান বিএম কনটেইনার ডিপো সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায়। সেখানে গত ৪ জুন রাত ৯টার দিকে আগুন লাগে। বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে আশপাশের চার-পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা কেঁপে ওঠে। 
একে একে ছুটে যায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকেও পরে যোগ দেয় কয়েকটি ইউনিট। ৫ জুন সকাল পর্যন্ত আগুন নেভাতে আসা ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫। কিন্তু কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে দফায় দফায় বিস্ফোরণে বাড়ে আগুনের ভয়াবহতা।

৮৭ ঘণ্টা পর সেনা বাহিনীর সহায়তায় ৮ জুন দুপুরে বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী রয়েছেন অন্তত ১০ জন। তবে এখন পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তে পরদিনই গঠন করা হয় সাতটি কমিটি।

এমএসএম / এমএসএম

গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

হাবিবুর রহমান হাবিবের বহিষ্কার ও জেলা কমিটি পুনর্গঠনের দাবি সিরাজুল ইসলাম সরদারের

নোয়াখালীর কবিরহাটে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠান

রায়গঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু

পিসিপি’র খাগড়াছড়িতে ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

ধামইরহাটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কৃষকের সরিষা কেটে নিল প্রতিপক্ষ

জেএসএস’র গুলিতে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত

আদমদীঘিতে বাশেঁর বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি

মান্দায় রফিকুল হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশের তেলেসমাতি

কোনাবাড়ী উলামা পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

উলিপুরে হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বারহাট্টা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের কার্যকরী কমিটি গঠিত