অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে সিঙ্গাপুরের সেই টিম ডেভিড
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি এখনও দেড় মাস। কিন্তু বেশ আগেই অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা করে দিল। সেই দলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম টিম ডেভিড। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ১২টি টি-টোয়েন্টি খেলা বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান অবশেষে জায়গা পেলেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে।
বিশ্বকাপ স্কোয়াড দিয়েই প্রথমবার দলে ডাক পাওয়া মানে সাধারণত চমকই বলতে হয়। তবে ডেভিড অস্ট্রেলিয়া দলের দুয়ারে কড়া নাড়ছিলেন অনেক দিন ধরেই। ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে দলে নেওয়ার আলোচনাও ছিল প্রবল। সেই অর্থে তাই এটিকে চমক বলা কঠিন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড ঘোষণা করা হয় বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর)। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াড থেকে পরিবর্তন মাত্র এই একটিই।
ডেভিডকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপসন। লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগার আছেন দলে। অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে তৃতীয় আর কোনো স্পিনার প্রয়োজন নেই বলেই মনে হয়েছে নির্বাচকদের।
ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডেভিড এখন পরিচিত এক নাম। গত আইপিএলের নিলামে তাকে ৮ কোটি ২৫ লাখ রূপির (প্রায় ১৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) চোখধাঁধানো অঙ্কে দলে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এছাড়াও পিসিএল মাতিয়েছেন তিনি, খেলেছেন সিপিএল, টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট, বিগ ব্যাশে। এখন খেলছেন ইংল্যান্ডের দা হান্ড্রেড-এ।
টিম ডেভিডের বাবা রড ডেভিড অস্ট্রেলিয়ান। রড পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী। পাশাপাশি ক্রিকেটও খেলতেন। পেশাগত কাজে নব্বইয়ের দশকে রডের ঠিকানা হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানেই ১৯৯৬ সালে জন্ম টিম ডেভিডের।
শখের ক্রিকেট খেলতে গিয়েই রড ডেভিড জায়গা পেয়ে যান সিঙ্গাপুরের জাতীয় দলে। ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফিতে সিঙ্গাপুরের হয়ে খেলেন তিনি। মালেয়েশিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে জয় উপহার দেন।
পরে আর সিঙ্গাপুরে থিতু হননি রড ডেভিড। ফিরে যান স্বদেশে। টিম ডেভিডের বেড়ে ওঠা ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সিস্টেমেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলে খেলেছেন। রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে একটি আসরে চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর বিগ ব্যাশেও জায়গা পেয়ে যান।
তবে শুরুতে বিগ ব্যাশে তেমন কিছু করতে পারেননি। সুযোগও মিলেছে কম। পরে অবশ্য আস্তে আস্তে নিজের ঝলক দেখাতে থাকেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল ছিল অনেক দূরের পথ। এর মধ্যেই জন্ম পরিচয়ের সূত্রে ডাক আসে সিঙ্গাপুরের হয়ে খেলার। তিনি লুফে নেন।
২০১৯ সালে কাতারের বিপক্ষে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক। প্রথম ম্যাচে করেন ২৯ বলে ৩৮। এর ৫ দিন পরই নেপালের বিপক্ষে খেলেন ৪৩ বলে ৭৭ রানের ইনিংস, পরের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষেই ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৪।
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সবশেষ দুই ম্যাচে তার রান ৩২ বলে ৯২ ও ৪৬ বলে ৫৮। ২০২০ সালের মার্চের পর অবশ্য আর সিঙ্গাপুরের হয়ে খেলা হয়নি তার। সবমিলিয়ে দেশটির হয়ে ১২ টি-টোয়েন্টি খেলে ৪৬.৫০ গড়ে তার রান ৫৫৮, স্ট্রাইক রেট ১৫৮.৫২।
এসবের মধ্যেই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের নজরও কাড়েন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব তো তার আছেই।
গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দলেই তাকে নেওয়ার আলোচনা ছিল। তবে সে সময় পিএসএলেও তার খেলার সুযোগ ছিল। নির্বাচকদের সঙ্গে তার আলোচনার পর ঠিক হয়, অস্ট্রেলিয়া দলে ডাগ আউটে বসে থাকা আর পানি টানার চেয়ে পিএসএলে গিয়ে ম্যাচ খেলা ভালো।
প্রীতি / প্রীতি
আনচেলত্তির ভুল পরিকল্পনায় ব্রাজিলের ভরাডুবি
কাঠগড়ায় আনচেলত্তি, ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা; ব্রাজিলিয়ানদের প্রতিক্রিয়া
ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে
কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতে বদলে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার একাদশ
নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা নাকি ব্রাজিলের জয়খরা কাটাবেন ভিনিসিয়ুস
আজ নির্ধারিত হবে কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক যাত্রী: ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা
বিশ্বকাপে টিকিটের দামে হঠাৎ বড় ধস
নিউইয়র্কের মাঠে নেইমার-ভিনিসিয়ুস জুটি!
নরওয়ে ৮-৫ ব্রাজিল
শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ যাদের পেল আর্জেন্টিনা, কবে-কখন ম্যাচ
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে দেওয়া কথা রাখলেন কেপ ভার্দে কোচ
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে হারল কেপ ভার্দে