চাকরির বাজারে এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা গ্র্যাজুয়েটদের তুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা চাকরির বাজারে এগিয়ে রয়েছে। চাকরির বাজার উপযোগী বিষয় নিয়ে আসায় তাদের এই অগ্রগতি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি বলছে, বেশি বেশি চাকরির বাজার উপযোগী সাবজেক্ট চালু করা, ক্লাবগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রেজেন্টেশন এবং নিজেকে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার দক্ষতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা চাকরির বাজারে এগিয়ে রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাহিদাভিত্তিক যুগোপযোগী বিষয় এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ল্যাবরেটরি সায়েন্স, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্য ও যোগাযোগ (আইসিটি), ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিকস ডিজাইন এবং পারফর্মিং আর্টসের মতো বিষয়গুলো চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো চালুর ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কলা ও মানবিক বিভাগ বা সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো বেশি। চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকলেও বেশ কয়েকটি বিষয় চালু আছে। তবে নতুন নতুন বিষয় খোলা হলেও তা চলছে খুবই সীমিত পরিসরে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুরুতেই চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোর অনুমোদন নিচ্ছে। বিশ্বের চাকরির বাজার যেদিকে যাচ্ছে বা নতুন যেসব বিষয় চালু হচ্ছে, তা দ্রুততার সঙ্গে খোলার চেষ্টা করছে তারা। একই সঙ্গে চাকরির বাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে তারা। যেদিক দিয়ে পিছিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে সহজেই চাকরির বাজার ঢুকতে পারছেন বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো করলেও সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আবার এক নয়। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসম্পন্ন শিক্ষক, অবকাঠামো, ল্যাবরেটরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। তাদের শিক্ষার্থীরাই চাকরির বাজারে এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া নতুন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও ভালো করার চেষ্টা করছে। এর বাইরে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা নাজুক। সেগুলো নানা সমস্যায় জড়িত। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা, নেই মানসম্পন্ন শিক্ষক। আবার কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যে দেখা গেছে, চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বেশি। ২০২০ সালে অধিভুক্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানে শিক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কলা ও মানবিক বিভাগের বিষয়গুলোতে ৪৪ হাজার ১৩১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৫১ হাজার ৩৩০, শিক্ষায় ৬ হাজার ৮৩৫, চারুকলায় ২ হাজার ৬২৮, বাণিজ্যে ৪৫ হাজার ২৭৫, আইনে ৮ হাজার ৪৫৭, ফার্মেসিতে ৯৯৪, বিজ্ঞানে ৪১ হাজার ৩৫৭, জীববিজ্ঞানে ২৩ হাজার ৪৪৯, চিকিৎসায় ৭ হাজার ৫৯, কৃষিতে ২০ হাজার ৮৫৮, প্রকৌশল ও কারিগরিতে ৫৩ হাজার ৮৪৭ এবং ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কোর্সে ৮ হাজার ৭১০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন।
অন্যদিকে ২০২০ সালে ৯৬টি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। সেখানে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কলা ও মানবিক বিভাগে ৩৫ হাজার ৩০৭, সামাজিক বিজ্ঞানে (অর্থনীতিসহ) ৯ হাজার ৬৮৫, শিক্ষায় ১ হাজার ৫১৬, চারুকলায় ৭৯৭, বিজ্ঞানে ২২ হাজার ৬১, জীববিজ্ঞানে ৩ হাজার ৭৬৫, ব্যবসায় প্রশাসনে ৭৮ হাজার ৬২৪, আইনে ২০ হাজার ৩২৫, ফার্মেসিতে ১১ হাজার ৬০৮, কৃষিবিজ্ঞানে ১ হাজার ৭৪৯, প্রকৌশল ও কারিগরিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩১২ এবং সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সে ৪ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেছেন।
ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. বিশ্বজিৎ চন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের দেশের চাকরির বাজারে যেসব বিষয়ের চাহিদা রয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেগুলো চালু করছে। দক্ষ জনবল তৈরিতে যেসব বিষয় কাজে লাগে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল সেই বিষয়গুলোর অনুমোদন নিচ্ছে। এ কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে এগিয়ে যাবে।
এমএসএম / এমএসএম
চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে চলবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি বাড়াতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় মানবিক তহবিল গঠন করছে গকসু
৭৯ হাজার শিক্ষার্থী পেল প্রাথমিক বৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ৩২ হাজার ৯৬৫
আবহাওয়া দেখে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিকে বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী
প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, জানা যাবে এসএমএস ও অনলাইনে
গণ বিশ্ববিদ্যালয় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয়: শিক্ষামন্ত্রী
বর্ণাঢ্য আয়োজনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
রোববার দুপুর ১২টায় প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তির ফল
ছাত্রলীগের সেই সহ-সভাপতিই এখন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক
এইচআর ক্লাব পবিপ্রবির উদ্যোগে মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত