ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

যশোরে হারানোর ভয়ে লোহার শিকলে বাঁধা মানিক


এম এ পাভেল,  যশোর photo এম এ পাভেল, যশোর
প্রকাশিত: ১-৪-২০২৩ রাত ১০:১০
আমি নিজেই বিরাট অসুস্হ। গাদা রোগে ভরা আমার গা।আমি চলতি পারি নে।মনিগের আব্বা পরের ক্ষ্যাতে কামলা দিয়ে যা পাই তাই দিয়ে কোন মতে খায়ে বাঁচে আছি।আমাগের কোন ব্যাবস্হা নেই কি দিয়ে আমার মনি মানিকরে ডাক্তার দেহায়?  শনিবার ১লা এপ্রিল  কান্না জড়িত কন্ঠে  শাড়ীর আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে  এভাবেই পরিবারের দুঃখের কথা বলছিলেন যশোর সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়নে ৪ নং ওয়ার্ডের জগমহোনপুর গুচ্ছগ্রামের মানুষিক  প্রতিবন্ধী মানিক হোসেনের মা খাদিজা খাতুন।অসুস্থ খাদিজা খাতুন ও শরিফুল ইসলাম দম্পত্তির ২৩ বছর সংসার জীবনে ৩ সন্তানের মধ্যে মানিক হোসেন মেঝো।
 
মানিকের বয়স যখন ৩ বছর খাদিজা খাতুনের দাবি তখন থেকে মানিকের আচ্ছারা ভাব দেখা দেয়। নুন আনতে পানতা ফুরায় পরিবারে তখন কোন রকম ঝাড়ফুক দিয়ে শিশু মানিক কে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানিকের চলাফেরা, কথাবার্তায় ও খাওয়াদাওয়ায় অসংগতি দেখা দেয়।তিন চার জনের খাবার একাই খেয়ে নেয় মানিক।প্রথমে তাকে পরিবার ও প্রতিবেশী রা চোখে চোখে রাখলেও পরবর্তীতে সুযোগ পেলেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত।
 
হারানোর ভয়ে  পরিবারের লোকজন প্রথম দিকে দড়ি দিয়ে  বেঁধে রাখতো কিন্তু   ২০১৭ সালে দড়ি কেটে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।এরপর এলাকা বাসির সহোযোগিতায় যশোর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইকিং ও পোষ্টার লাগিয়েও কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিলো না।১৮ দিন পর জানা যায় নড়াইলের কোন এক গ্রামে মানিকের মতো একজনকে ঘুরতে দেখাগেছে। এরপর এলাকাবাসী সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে এনে হারানোর ভয়ে লোহার শিকলের সাথে তালা লাগিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে।
 
মানিকের বাবা -মা দাবি করেন আমাদের মানিক সম্পূর্ণ  পাগল না।মাঝে মাঝে ওর মাথায় বেশি সমস্যা হয়।যখন ভালো থাকে তখন শিকল বাধা অবস্থায় কাঠ কাটা সহ বাড়ির অনেক কাজে সাহায্য করে। সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে তাদের আবেদন, যদি কোন স্বহৃদয় ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে তাদের সন্তান অন্য দশটা স্বাভাবিক ছেলেদের মতো জীবন যাপন করতে পারতো।
 
এ বিষয়ে গুচ্ছ গ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, মানিক সম্পর্কে আমার ভাইপো হয়, সে কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে অনেক খোঁজাখুজির পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে আমার মনে হয় সে সম্পূর্ণভাবে মানুষিক প্রতিবন্ধী না। মানিক  অনেক কিছুই বোঝে তবে, তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে পারলে সে স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন যাপন করতে পারতো।
 
কিন্তু তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটায় মন্দ যে, কোনরকম একবেলা রান্না করে  খাওয়ার পর অন্যবেলা খায়ওয়ার কিছুই থাকেনা।তিনি দাবি করেন, কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটু সাহায্যর হাত বাড়ালেই মানিক ফিরে পেতে পারে সুস্থ জীবন। 
 
এ বিষয়ে দৈনিক সকালের সময় কে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান তুহিন বলেন, আমরা গুচ্ছ গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন কে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড করে দিয়েছি এবং আমাদের পক্ষে আরো যতটুকু যা করা সম্ভব তা অবশ্যই মানিকের জন্য করবো পাশাপাশি তিনি আশা করেন, সমাজের বিত্তবান মানুষের সাহায্য পেলে পরিবারটি মানিকের সুচিকিৎসা করালে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এমএসএম / এমএসএম

সম্পদ বিলিয়ে আজ অনুতপ্ত ৮৫ বছরের শামসুল, বললেন ‘ভুল করেছি’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাগেরহাটে আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা

পটুয়াখালীতে আনসারের উচ্চতর প্রশিক্ষণের সমাপনী : গণপ্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান মহাপরিচালকের

তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শালিখায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শিবগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

কালাইয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

বাউফলে ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতিকে সংবর্ধনা

রৌমারীতে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে অনশন স্ত্রীর, বিচার প্রতারণায় পরিবার

নবীগঞ্জে মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সমাবেশ

গুরুদাসপুরে কৃষকের বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে পরিবার

রায়পুরে চরবংশিতে ছুরিকাঘাত, বিএনপি নেতাসহ আহত ৪

বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু, ভোটার ৪ হাজার

আত্রাইয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান