লাকসামে মারফা চাষাবাদে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা গুন্তি গ্রামে মারফা কদর বাড়ছে। পরিবারের তরকারি হিসাবে মারফার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটানোর জন্য অল্প পরিমাণে মারফার চাষ করতো। কিন্তু মারফার জনয়প্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি বছরগুলোতে প্রায় জায়গায় চাষ হচ্ছে। দিন দিন চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মারফা চাষের উজ্ঝল সম্ভাবনা দেখা দেয়েছে এ অঞ্চলে। চাষী সোলেমান ১৮ শতক জায়গা উপর মারফা করেছেন। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে মারফা চাষে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মারফা দেখতে শসার মতো। এটি কাঁচা এবং তরকারি হিসেবেও খাওয়া যায়। কচি মারফা দিয়ে শসার বিকল্প হিসেবে সালাদ তৈরি করেন স্থানিয়রা। শসা অনেকখানি লম্বা হলেও মারফা সর্বচ্চো ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এর ওজন ও সাইজ অনুযায়ী সর্বচ্চো ২ কেজি পর্যন্ত হয়। শসার তুলনায় মারফার খোসা তুলনায় শক্ত। এটি কচি অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ ও লাল রং ধারন করে। কিছু জাত আছে পাকলে সাদা রংয়ের হয়। পৌরশহরের গুন্তি এলাকার পাশেই ১৮ শতক জমিনের উপর প্লাষ্টিকের নেট দ্বারা চারদিক ঘেরাও করে উপরে প্লাষ্টিকের নেট দিয়ে গাছগুলো উঠিয়ে দেয়া হয়েছে এবং প্রতিটি মুড়া উচ্চতা করে রাসায়নিক সার ইউরিয়া, পটাশ ও জৈব সার প্রয়োগ করেছেন । মাঝখানে ড্রেন করে পানি যাতে জমে না থাকে সে ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিন গাছের যত্ন করছেন ওই চাষী। তিনি জানান ফলন তুলে বাজারে নিলে দাম কম পাচ্ছি খরচ ও পরিশ্রমের অনেক বেশি। সরকারি ভাবে আমাকে সার ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা প্রদান করলে আমি এলাকার ও দেশের সবজি চাষাবাদ সফলতা দেখাতে পারব বলে আশাবাদী।
ব্যাসায়ীরা জানায়, সবজি হিসেবে মারফার এখন প্রচুর চাহিদা। শুধু স্থানীয় নয় বর্তমানে সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদা হয়েছে। এ কারনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা মারফা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাজারে এর মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি কেজি মারফা বর্তমানে ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারগুলোতে।
এই ব্যাপারে সবজি চাষী সোলেমান জানান, আমি ১৮শতক জমিনের উপর মারফা চাষ করেছি। বর্তমানে শসার বিপরীতে মারফা চাষাবাদ করছে অনেকেই। এই মারফা চাষ বেশি হচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকায়। আল্লাহর উপর ভরসা রাখি, ভাল মারফা ফলন পেলে ভাল টাকা লাভ হবে বলে আশাবাদী। আমি ভবিষ্যতে সরকারি ভাবে সার ও ভাল বীজ ও উপজেলা কৃষি অফিসারদের সহযোগিতা পেলে সবজি চাষাবাদ করে এলাকার ও দেশের মানুষের সবজি চাহিদা পূরন করতে পারবো।
এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্যাহ জানান, আমি নিজেই বাড়ীর আঙ্গিনায় সবজি চাষ করি। এক সময় কচি মারফা খিরা ও শসার ন্যায় কাঁচা খেতাম। এখন পাকা মারফা রান্না করে খাওয়া হচ্ছে। মারফা শসার বিকল্প হিসেবে চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না কলে বেশ মজাদার হয়। মাংস দিয়েও মারফা ভালো রান্না হয়। আমার বাড়ীর সামনে সোলেমান মিয়া ১৮ শতক জায়গার উপর মারফা চাষাবাদ করেছেন। এলাকার বাসিন্দা হিসাবে উনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এলাকায় সবজি চাষের ফলন ভালো হলে আমাদের গর্ব। তিনি সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে সবজি চাষী মনোযোগী হবেন এবং এলাকার মানুষের সবজির চাহিদা পূরন করবেন।
এ ব্যাপরে লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুল ইসলাম দৈনিক সকালের সময় প্রতিনিধিকে জানান, মারফা চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে মারফা চাষের উজ¦ল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এ অঞ্চলে। আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষবাদে জৈব সার দিচ্ছি। জায়গাটিতে মারফা চাষ হয়েছে আমি জানি। আমি সোলেমান সফলতা কামনা করছি। আমাদের অফিসে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা আছে। সবজি চাষী সোলেমান প্রতি আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এমএসএম / এমএসএম
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়
শালিখায় ইটভাটার দেয়াল ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যু
টাঙ্গাইলে জামায়াতের নারী কর্মী লাঞ্ছিত: রাজপথে বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
আক্কেলপুরে দেশীয় খেলার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরে অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা সৈয়দ গ্রেপ্তার
প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ও মানহানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুর ১ আসনে মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা ধানের শীষের প্রার্থী নাসিরকে সমর্থন
মোহনগঞ্জে সাধারণ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন
২২ বছর পর ময়মনসিংহে তারেক রহমান: জনসমুদ্রে নির্বাচনি অঙ্গীকারে মুখর সার্কিট হাউজ মাঠ
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে যুবকদেরকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে
টাঙ্গাইলে বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যা, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট