প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলমান ল্যাব খাতা লিখানো
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো বছরের কোনো ল্যাব খাতা দেখে নতুন খাতায় লিখা কিংবা কোনো শিট দেখে ল্যাব খাতা লিখার প্রচলন রয়েছে। তার মধ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। যদিও আট মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ল্যাব খাতা লিখা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল,কিন্তু এর বাস্তবায়ন হচ্ছেনা পুরোপুরি। এমনকি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও পুরনো রীতিতে ল্যাব খাতা লিখানোর ঐতিহ্য অনুসরণ করতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায় যেসকল শিক্ষক আগে থেকেই ল্যাব খাতা লিখার বিপক্ষে ছিল এবং ল্যাব খাতার পরিবর্তে ভিন্ন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করত সিন্ডিকেট মিটিং এর এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছে। আর যারা পূর্বেও ল্যাব খাতা লিখার পক্ষে ছিল তারা এখনও একই রীতিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন,আমাদের ল্যাব কোর্স গুলোর ১০ শতাংশ নম্বর ল্যাব খাতার উপর থাকে।কিন্তু এই অংশ থেকে আমরা কিছুই শিখতে পারি না।উল্টো রাতভর ল্যাব খাতা লিখতে গিয়ে পরীক্ষার আসল জিনিস পড়তে বা প্রাকটিস করতে পারি না।অনেক সময় পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণও হয়ে দাড়ায় ল্যাব খাতা লিখা।আমাদের ক্লাস নোটগুলোর উপর ল্যাব খাতার মার্কিং করলে আমাদের জন্য বেশি কার্যকর হতো।সবাই মনোযোগ দিয়ে ক্লাসও করত,শিখাও হতো এবং মার্কস ও পাওয়া যেতো।এই পদ্ধতিচালুকরণে কোনো সমস্যা হওয়ার তো কথা নয়।অনেক শিক্ষক এই পদ্ধতি অনুসরণও করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এএসভিএম অনুষদের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে পাত্তা না দিয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও পুরনো রীতিতে ল্যাব খাতা লিখাচ্ছেন যা রীতিমতো সময় নস্ট ছাড়া কিছুই না। অন্তত তাদের উচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ল্যাব খাতা লিখানো বন্ধ করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় বর্ষের কৃষি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, ল্যাব খাতা না লিখানোর সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট মিটিংয়ে পাস হলেও আবারও নতুন সেমিস্টারে সেই আগের পদ্ধতিতেই ল্যাব খাতা লিখতে হচ্ছে।জানি না এই সিদ্ধান্তের কি কার্যকারিতা হয়েছে,তবে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এই রীতি বন্ধ হওয়া উচিত।মাড়িয়া মৃত্যু কেন্দ্রিক অন্য দাবিগুলো কার্যকর না হলেও এই একটি দাবি অন্তত বাস্তবায়িত হওয়া উচিত।
অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে আরেক শিক্ষার্থী বলেন,স্মার্ট বাংলাদেশে থেকে কীভাবে আমরা এই আদি রীতি অনুসরণ করি তা বোধগম্য নয়।আগের লেখা ল্যাব খাতা দেখে নতুন করে লেখার মধ্যে কি মহত্ত্ব বিদ্যামান রয়েছে তা আমাদের অজানা।এগুলো শুধু সময়ের অপচয় মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খাতা লিখা বন্ধ করলেও আমাদের এখনও অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টের ল্যাব খাতা লিখতে হচ্ছে। আশাকরছি এই অপ্রয়োজনীয় রীতি থেকে প্রসাশন যথার্থ ব্যাবস্থা নিয়ে আমাদের নিষ্কৃতি দিবে।
উল্লেখ্যে যে,গত ২৩ মার্চ ২০২৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাড়িয়া নামক এক শিক্ষার্থী আবাসিক হলের ১০ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করলে সাধারণ শিক্ষার্থী
বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।মিডটার্ম চালু,সাইকোলজিস্ট নিয়োগ এবং ল্যাব খাতা বন্ধকরণ সহ বেশ কিছু দাবি শিক্ষার্থীরা উত্থাপন করলেও ল্যাব খাতা বন্ধে প্রসাশন একমত পোষণ করে এবং দ্রুত সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ল্যাব খাতা লিখা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকগণ এই রীতিকে অকার্যকর মনে করলেও বন্ধের সিদ্ধান্তের আট মাস পরে এখনও চলমান রয়েছে এই অকার্যকর রীতি।
অধ্যাপক ড. আবুল ফায়াজ মো. জামাল উদ্দিন অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,প্রথমত আমরা বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহনে অপারগতা দেখিয়েছি।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের সন্তান হিসেবে চিন্তা করতে পারিনি।তাদের সমস্যা গুলোকে নিজেদের সমস্যা মনে করা বাদ দিয়ে, নিজেদের সমস্যা ও স্বার্থ হাসিলে আমরা ব্যস্ত।ল্যাব খাতা লিখা বন্ধকরণ বড় কোনো বিষয় নয়। ক্লাস নোটকেই ল্যাব খাতার বিকল্প হিসেবে ব্যাবহার করা যায়।এমনিতেই আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড মানসিক চাপে থাকে।তার উপর অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এই রীতি তাদেককে আরও প্রেসারে ফেলছে।একটু চেষ্টা করলেই পরিবর্তন সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.অলক কুমার পাল বলেন,আমাদের সিন্ডিকেটে ল্যাব খাতা লিখা বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা ব্যাবস্থা নিয়েছি।কিন্তু বয়স্ক কিছু শিক্ষক দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এই রীতি পরিবর্তন করে নতুনত্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না।তবে আমরা চেষ্টা করছি,তাদেরকে বুঝাচ্ছি, আশাকরি দ্রুতই পরিবর্তন সম্ভব হবে।আমরা পুরোনো খাতা দেখে ল্যাব খাতা লিখার পক্ষে নই।
এমএসএম / এমএসএম
বাকৃবিতে প্রথম বারের মতো ক্যাট শো অনুষ্ঠিত
গোবিপ্রবিতে গুচ্ছ “এ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
গোবিপ্রবিতে গুচ্ছ এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষার্থী সংগঠন
ইবিথানায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইনে ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হতে ৫৩ হাজার ৬৯ আবেদন
মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বাঙলা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা, কলেজ প্রশাসনের নেই কার্যকর উদ্যোগ
ইবিতে শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তথ্য আহবানে গণবিজ্ঞপ্তি
পবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রেদওয়ান ও আশিকুর
গোবিপ্রবি’তে জিএসটি গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
অষ্টম দিনে গড়াল পবিপ্রবির ডিভিএম শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী আলোচনায় সমাধানহীন সংকট
আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিতে ধানের পোকা দমনে নতুন প্রযুক্তি: বছরে শত শত কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা