২০ জোড়া ঈদ স্পেশালে রেলে যুক্ত হবে ২০০ কোচ
ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ সামলাতে সারাদেশে ২০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রেলে যুক্ত হচ্ছে আরো ২০০টি কোচ। এরমধ্যে পূবাঞ্চলে ৯০ টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ১০০ টি কোচ যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর এরজন্য ওয়ার্কসপে দিনরাত চলছে মেরামত কাজ। ইতিমধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৭০ টি কোচের মেরামত সম্পন্ন করা করা হয়েছে। বাকিগুলো মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে। যথাসময়ে ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী তাপস কুমার দাস। একইভাবে মেরামতের কাজ চলমান আছে পশ্চিমাঞ্চলের সৈয়দপুর কারখানায়।
সম্প্রতি ইঞ্জিন ও চালক সংকটে কয়েকটি ট্রেন বন্ধ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেনগুলো চালু করা হয়েছিল ঈদ স্পেশাল হিসেবে। যেহেতু সামনে আবার ঈদ চলে এসেছে তাই আমাদের প্রস্তুতির ব্যপার আছে। তাই ঈদে যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন করতে কয়েকদিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের পূর্বাঞ্চলে ১১৬ টি ইঞ্জিন চাহিদার বিপরীতে আছে ৯০ টি। গড়ে ২৬ টার মতো মিটারগ্যাজ ইঞ্জিন সংকট রয়েছে। ১২৫৪ জন চালক ও সহকারী চালকের বিপরীত কর্মরত আছে মাত্র ৬১১ জন ঘাটতি ৬৪৩ জন। শতকরা হিসেবে আছে মাত্র ৪৯ শতাংশ। আবার চালক আছে মাত্র ৩৭ শতাংশ, ঘাটতি আছে ৬৩ শতাংশ।
বর্তমানে পূবাঞ্চলে ১১২৪ টি যাত্রীবাহি কোচ রয়েছে তবে চালু আছে ৯৫০ টি। এরমধ্যে আন্ত:নগর ৭৯৫টি ও ২য় শ্রেণির আছে ১৫৫ টি। ইঞ্জিন ও চালক সংকট ঈদে কোন প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদ স্পেশাল চালাতে কোন সমস্যা হবে না কারন, আমাদের মালবাহী গাড়ির জন্য যেসব ইঞ্জিন ও চালক রয়েছে তাদেরকে যুক্ত করে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ঠিকমতো দেয়া যাবে। কারন ওই সময়টাতে মালবাগি গাড়ি তেমন একটা চলবেনা।
ঈদ স্পেশালের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করছি যাত্রীদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেয়ার জন্য। আর এজন্য আমাদের প্রত্যেকেরই যথেষ্ঠ আন্তরিকতা রয়েছে। ঈদ স্পেশালের জন্য কোচ মেরামতের কাজ চলমান আছে। যথাসময়ে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। ইঞ্জিন সংকটও থাকবেনা ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের সেবা সহজভাবেই শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।
ঈদ স্পেশালের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে ২০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রেলের নিকট সর্বমোট ২৪৯টি ইঞ্জিন রয়েছে এসব ইঞ্জিন প্রয়োজন সাপেক্ষে যুক্ত করা হলে ঈদ যাত্রা স্বাভাবিকভাবেই শেষ হবে।
রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ সালে দেশে মোট ২৮৪টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ছিল। ২০০৫ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২৫৩টি ডিজেল ইলেক্ট্রিক ছিল। এরমধ্যে ৬৮টি ব্রডগ্যাজ (বিজি) ও ১৮৫টি মিটারগ্যাজ (এমজি) এবং ৩৩টি ডিজেল-হাইড্রোলিক (১০টি বিজি ও ২৩টি এমজি) লোকোমোটিভ ছিলো।
১৯৯৬-৯৭ সালে বাংলাদেশে ১,২৪৫টি প্যাসেঞ্জার কোচ ছিল, ১৫২টি অন্যান্য কোচ এবং ১২,৯৪৮টি মালবাহী ওয়াগন ছিল। ২০০৪-২০০৫ সালের শেষের দিকে দেশে মোট ১৪০৬টি যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ১০২৩৬টি ওয়াগন, যার মধ্যে ৭৩১০টি কাভার্ড, ১১১৫টি খোলা এবং ১৮১১টি বিশেষ শ্রেণীর ওয়াগন।
প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজেল-ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল। মোট ২০ সেট মিটার গেজ ডেমু চীনের থাংশান রেলওয়ে ভেহিকেল কোঃ লিঃ প্রস্তুত করে। এসব ট্রেন সাধারণত ছোট ছোট রেল রুটে চলাচল করে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাথে বড় বড় শহরাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষার লক্ষ্যে। এছাড়াও ঢাকা মেট্রো রেলে ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিটের (এমু) ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে ডেমু ট্রেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিজেল-ইলেক্ট্রিক ও ডিজেল-হাইড্রোলিক লোকোমোটিভ পরিচালনা করে। পুরনো সকল বাষ্পীয় লোকোমোটিভ ৮০-এর দশকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। কিছু বাষ্পীয় লোকোমোটিভ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য ঈদ উপলক্ষে ২০ জোড়া স্পেশাল ট্রেনের মধ্যে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে দুই জোড়া। ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ রুটে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিংহ ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল এক জোড়া, ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও গোর-এ- শহীদ ঈদ স্পেশাল দুই জোড়া, জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল এক জোড়া ট্রেন চলবে।
এছাড়া পার্বতীপুর- দিনাজপুর রুটে এবং ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর রুটে দুই জোড়া চলবে। চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো ১২ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ও ঈদের পরদিন থেকে ৭ দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ও গোর-এ- শহীদ ঈদ স্পেশাল শুধুমাত্র ঈদের দিন চলাচল করবে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল ১৩ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত তিনদিন এবং ঈদের পরে ২১-২৩ জুন পর্যন্ত তিনদিন চলাচল করবে।
এদিকে ২ জুন থেকে শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ১২ জুনের টিকিট ২ জুন, ১৩ জুনের টিকিট ৩ জুন পাওয়া গেছে আর ১৪ জুনের টিকিট ৪ জুন, ১৫ জুনের টিকিট ৫ জুন এবং ১৬ জুনের টিকিট মিলবে ৬ জুন।
এছাড়া ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন। এদিন ২০ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে। আর ২১ জুনের টিকিট ১১ জুন, ২২ জুনের টিকিট ১২ জুন, ২৩ জুনের টিকিট ১৩ জুন এবং ২৪ জুনের অগ্রিম টিকিট মিলবে ১৪ জুন।
এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনে ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এক জোড়া ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে। পূর্বাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনে ১২ জুন ক্যাটল স্পেশাল এক জোড়া এবং ১৩ জুন একটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। সব টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। এছাড়া মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে।
এমএসএম / এমএসএম
বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা আফজাল রহমান, ৩০০ পরিবার পেল ত্রাণ
আদমদীঘিতে সাজাপ্রাপ্তসহ দুই জন গ্রেপ্তার
পাঁচবিবিতে গবাদি পশু বিতরণ
বিলাইছড়িতে ডাউন পাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রাক নিবন্ধন সভা অনুষ্ঠিত।
রায়পুরে জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতার উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক
হাকিমপুরে মাদক সেবনের দায়ে ২ জন ও বহনের দায়ে ১ জন আটক
মোবাইলে খেলা দেখতে গিয়ে খালে পড়ে মৃত্যু, দুই দিন পর ভেসে উঠল লাশ
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাড়ে চার বছরে ২,২০১ নরমাল ডেলিভারি
বাঘায় মাদক ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ২
বড়লেখায় 'কৃষক কার্ড' বাস্তবায়নের তথ্য সংগ্রহের উদ্বোধন
সোনাহাট স্থলবন্দরের কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ‘গেন্দি’ ১০৩ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ গ্রেফতার
চট্টগ্রামে বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু: পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের দাবি পরিবারের