ঢাকা বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

পড়াশোনার পাশাপাশি বিচিত্র পেশা কুচিয়া শিকারেই তাদের জীবিকা


সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ photo সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ
প্রকাশিত: ১৩-৯-২০২৪ দুপুর ১:২১

সাগর কুমার উরাও (১৭)। পড়াশোনার পাশাপাশি নেমে পড়েছেন বিচিত্র পেশা কুচিয়া শিকারে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শালিয়াগাড়ি এলাকায় গেলে দেখা হয় তার সঙ্গে। মাছ ধরার চাঁইয়ের মতো অনেকগুলো খাঁচা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কাছে যেতেই দেখা যায়, সেগুলো বাঁশ ও বেতের তৈরি এক ধরনের বিশেষ মাছ ধরার ফাঁদ, যা কোনো কোনো অঞ্চলে রুহুঙ্গা নামে পরিচিত।

মাছ ধরার বিশেষ এ ফাঁদ দিয়ে শিকার করা হয় কুচিয়া। অঞ্চলভেদে কুচিয়া শিকারের এ ফাঁদটি অনেকে ‘ওকা’ নামেও চেনে। রুহুঙ্গা বা ওকা দিয়ে কুচিয়া শিকার খুবই সহজ। আর কুচিয়া শিকার করেই সংসার চালাচ্ছেন সাগর কুমার উরাওয়ের মতো অনেকেই। পরিবারে সহযোগিতা করতে নেমে পড়েন বিচিত্র পেশা কুচিয়া শিকারে। তাই জেলার তাড়াশ উপজেলার দেওঘর গ্রাম ছেড়ে কুচিয়া শিকারের জন্য চলে আসেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে। এখানে এসে শুরু করেন কুচিয়া শিকার।

সাতসকালেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রুহুঙ্গা নিয়ে ছুটে চলেন। পুকুর কিংবা ডোবা নালায় কেঁচো গেঁথে রেখে দেন রুহুঙ্গা। পরের দিন সকালে তোলেন। দিনে ৫০ থেকে ৬০টি রুহুঙ্গা থেকে পাঁচ থেকে ছয় কেজি কুচিয়া শিকার করেন। এরপর সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে ৩০০ টাকা দরে কুচিয়া বিক্রি করেন। এভাবেই এখন সংসার চালাচ্ছেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত কুচিয়া শিকারের উপযুক্ত সময়। ফলইয়ের ভেতরে সরু বাঁশের কাঠিতে কেঁচোর টোপ লাগিয়ে ডোবা, পুকুর কিংবা খালে রাখলেই ধরা পড়ে কুচিয়া। একজন শিকারি দিনে পাঁচ থেকে ছয় কেজি কুচিয়া ধরে থাকেন। 

একই এলাকার অজয় কুমার উরাও বলেন, তিনিও বিভিন্ন স্থানে কুচিয়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ জোগাড় করতেই কুচিয়া শিকার শুরু করেন। বর্তমানে দিনে গড়ে পাঁচ কেজি কুচিয়া ধরেন। অন্য পেশার চেয়ে এ পেশায় ভালো আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি। এক সময় গ্রামের কেউ কুচিয়া শিকার করতেন না। বিদেশে কুচিয়ার অনেক চাহিদা, তাই এর দামও অনেক বেশি। এখন আমাদের গ্রামের অনেকেই কুচিয়া শিকার করে সংসার চালান।

কুচিয়া ধরার কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রসেনজিৎ উরাও বলেন, হাট থেকে ৮০ টাকা দরে রুহুঙ্গা কেনেন। এরপর সেগুলোতে কেঁচোর টোপ দিয়ে পুকুর-ডোবা এবং ধানের ক্ষেত কিংবা খালে রেখে দেন। পরদিন সকাল বেলা সেগুলো তোলেন। এতেই আটকা পড়ে কুচিয়া। নরম মাটিতে কুচিয়া শিকার করা খুবই সহজ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০টি রুহুঙ্গায় কেঁচোর টোপ দিয়ে রাখেন। সবগুলোয় না পড়লেও বেশিরভাগ রুহুঙ্গায় ধরা পড়ে কুচিয়া। কুচিয়া সংগ্রহের পর এগুলো একটি ড্রামের মধ্যে পানিতে রাখেন। এরপর কুচিয়া প্রতি সপ্তাহে সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেন। প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। তবে এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া বাড়িতে এসে কম দামেও কিনে নেন এসব কুচিয়া। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কুচিয়া শিকারিরা।

জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুলে অবস্থিত আড়ত মালিকরা বলেন, এক সময় কুচিয়া শিকার করতেন না কেউ। অল্প খরচে পুকুর কিংবা খাল থেকে কুচিয়া শিকার করা সম্ভব। তাই এখন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কুচিয়া শিকার করে আমাদের কাছে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। বিদেশে এর চাহিদা থাকায় দামও বেশ ভালো। অনেকেই কুচিয়া শিকার করে সংসার চালাচ্ছেন।

রায়গঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিকভাবে জলাশয়, ডোবা বা পুকুরে প্রচুর কুচিয়া জন্মায়। বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব কুচিয়া শিকার করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে বেকারত্ব দূর করাও সম্ভব।

জামান / জামান

মাদারীপুরে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা নিরসনে মতবিনিময় সভা

রূপগঞ্জে বেড়াতে এসে অপহরণের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী

রাজারহাটে ৩০ বছর পর দখলমুক্ত হলো সরকারি রাস্তা

"বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে সেতু হলে কমবে দূরত্ব, গতি পাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও বাণিজ্য"

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

গোপালগঞ্জে দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভূঞাপুরে ডাকাতির চেষ্টা নস্যাৎ: দেশীয় অস্ত্র ও নৌকাসহ ৫ ডাকাতকে পুলিশে দিল জনতা

একটি মহল দেশকে অশান্ত করতে চায়, সতর্ক থাকার আহ্বানঃ ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা, মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন

নিউজ প্রকাশের পরেও বহাল তবিয়তে নওগাঁর ভূমি কর্মকর্তা জিয়া

নানার বাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

নবীগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার