পড়াশোনার পাশাপাশি বিচিত্র পেশা কুচিয়া শিকারেই তাদের জীবিকা
সাগর কুমার উরাও (১৭)। পড়াশোনার পাশাপাশি নেমে পড়েছেন বিচিত্র পেশা কুচিয়া শিকারে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শালিয়াগাড়ি এলাকায় গেলে দেখা হয় তার সঙ্গে। মাছ ধরার চাঁইয়ের মতো অনেকগুলো খাঁচা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কাছে যেতেই দেখা যায়, সেগুলো বাঁশ ও বেতের তৈরি এক ধরনের বিশেষ মাছ ধরার ফাঁদ, যা কোনো কোনো অঞ্চলে রুহুঙ্গা নামে পরিচিত।
মাছ ধরার বিশেষ এ ফাঁদ দিয়ে শিকার করা হয় কুচিয়া। অঞ্চলভেদে কুচিয়া শিকারের এ ফাঁদটি অনেকে ‘ওকা’ নামেও চেনে। রুহুঙ্গা বা ওকা দিয়ে কুচিয়া শিকার খুবই সহজ। আর কুচিয়া শিকার করেই সংসার চালাচ্ছেন সাগর কুমার উরাওয়ের মতো অনেকেই। পরিবারে সহযোগিতা করতে নেমে পড়েন বিচিত্র পেশা কুচিয়া শিকারে। তাই জেলার তাড়াশ উপজেলার দেওঘর গ্রাম ছেড়ে কুচিয়া শিকারের জন্য চলে আসেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে। এখানে এসে শুরু করেন কুচিয়া শিকার।
সাতসকালেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রুহুঙ্গা নিয়ে ছুটে চলেন। পুকুর কিংবা ডোবা নালায় কেঁচো গেঁথে রেখে দেন রুহুঙ্গা। পরের দিন সকালে তোলেন। দিনে ৫০ থেকে ৬০টি রুহুঙ্গা থেকে পাঁচ থেকে ছয় কেজি কুচিয়া শিকার করেন। এরপর সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে ৩০০ টাকা দরে কুচিয়া বিক্রি করেন। এভাবেই এখন সংসার চালাচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত কুচিয়া শিকারের উপযুক্ত সময়। ফলইয়ের ভেতরে সরু বাঁশের কাঠিতে কেঁচোর টোপ লাগিয়ে ডোবা, পুকুর কিংবা খালে রাখলেই ধরা পড়ে কুচিয়া। একজন শিকারি দিনে পাঁচ থেকে ছয় কেজি কুচিয়া ধরে থাকেন।
একই এলাকার অজয় কুমার উরাও বলেন, তিনিও বিভিন্ন স্থানে কুচিয়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ জোগাড় করতেই কুচিয়া শিকার শুরু করেন। বর্তমানে দিনে গড়ে পাঁচ কেজি কুচিয়া ধরেন। অন্য পেশার চেয়ে এ পেশায় ভালো আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি। এক সময় গ্রামের কেউ কুচিয়া শিকার করতেন না। বিদেশে কুচিয়ার অনেক চাহিদা, তাই এর দামও অনেক বেশি। এখন আমাদের গ্রামের অনেকেই কুচিয়া শিকার করে সংসার চালান।
কুচিয়া ধরার কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রসেনজিৎ উরাও বলেন, হাট থেকে ৮০ টাকা দরে রুহুঙ্গা কেনেন। এরপর সেগুলোতে কেঁচোর টোপ দিয়ে পুকুর-ডোবা এবং ধানের ক্ষেত কিংবা খালে রেখে দেন। পরদিন সকাল বেলা সেগুলো তোলেন। এতেই আটকা পড়ে কুচিয়া। নরম মাটিতে কুচিয়া শিকার করা খুবই সহজ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০টি রুহুঙ্গায় কেঁচোর টোপ দিয়ে রাখেন। সবগুলোয় না পড়লেও বেশিরভাগ রুহুঙ্গায় ধরা পড়ে কুচিয়া। কুচিয়া সংগ্রহের পর এগুলো একটি ড্রামের মধ্যে পানিতে রাখেন। এরপর কুচিয়া প্রতি সপ্তাহে সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেন। প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। তবে এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া বাড়িতে এসে কম দামেও কিনে নেন এসব কুচিয়া। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কুচিয়া শিকারিরা।
জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুলে অবস্থিত আড়ত মালিকরা বলেন, এক সময় কুচিয়া শিকার করতেন না কেউ। অল্প খরচে পুকুর কিংবা খাল থেকে কুচিয়া শিকার করা সম্ভব। তাই এখন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কুচিয়া শিকার করে আমাদের কাছে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। বিদেশে এর চাহিদা থাকায় দামও বেশ ভালো। অনেকেই কুচিয়া শিকার করে সংসার চালাচ্ছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিকভাবে জলাশয়, ডোবা বা পুকুরে প্রচুর কুচিয়া জন্মায়। বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব কুচিয়া শিকার করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে বেকারত্ব দূর করাও সম্ভব।
জামান / জামান
তাহিরপুরে ধুমধাম করে ১৩ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ভেঙে দিলেন উপজেলা প্রশাসন।
চবিতে ‘একেএম ফজলুল কাদের চৌধুরী হল’ নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন
আনোয়ারায় পূর্ব শত্রুতায় জেরে স্থানীয় যুবদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ
পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখল চেষ্টার অভিযোগ
পেকুয়ায় বন বিভাগের অভিযানে মিশিয়ে দেওয়া হলো অবৈধ বালুর স্তূপ
গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন গ্রেপ্তার
বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক বদলি,আলোচনায় সাবেক পরিচালক মামুন
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন, থানায় মামলা, গ্রেফতার ২
মধুখালীতে নবাগত ইউএনও এর সাথে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়।
হাটহাজারীতে চাঞ্চল্যকর নুরুল আজিম হত্যার প্রধান আসামী গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গার সিমান্তগুলোতে স্বর্ণ পাচারের বাহকরা ধরা পরলোও অধরাই নেপথ্যের হোতারা