দুর্গার পর এবার কালীপূজা নিয়ে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী ও আয়োজকরা
সনাতন ধর্মালম্বীদের দুর্গাপূজার পর বড় ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি বা কালীপূজা। আগামীকাল থেকে শুরু হবে পূজা, তাই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে প্রতিমায় রং করা ও মণ্ডপের প্যান্ডেল সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মৃৎশিল্পী ও আয়োজকরা।
ধর্মীয় পঞ্জিকামতে, ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে অমাবস্যা তিথিতে শুরু হয়ে ২ নভেম্বর শনিবার দেবী বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘটবে কালীপূজার। শাস্ত্রমতে, কালীপূজা অমাবস্যা তিথিতে একদিন হলেও বড় মণ্ডপগুলোতে আনন্দ উপভোগের জন্য আয়োজন চলে তিন দিনব্যাপী।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সময় যতই এগিয়ে আসছে, মন্দিরগুলোতে বাড়ছে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে খড় ও মাটির কাজ শেষ করে এখন শেষ মুহূর্তে চলছে রংতুলির আঁচড়ে প্রতিমা ফুটিয়ে তোলার কাজ। নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম বাদ দিয়ে কালী প্রতিমার পাশাপাশি দেবাদিদেব মহাদেব, ডাকিনী, যোগিনীসহ অন্যান্য দেব-দেবীর প্রতিমায় রংতুলির কাজ করছেন শিল্পীরা। এছাড়াও ডেকোরেশন ও লাইটিংয়ের মাধ্যমে নানা ধর্মীয় দৃশ্যপট তুলে ধরছেন মণ্ডপগুলোতে। বারহাট্টার বড় বাজেটের পূজাগুলোর মধ্যে উপজেলা সদরের গরুহাট্টা, মোরগ মহাল, শিববাড়ী, আসমা বাজার, বৃ-কালিকা পূজামণ্ডপ উল্লেখযোগ্য।
বারহাট্টা উপজেলা সদরের গরুহাট্টা পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কারিগর মৃৎশিল্পী সুবল পাল বলেন, আমি প্রায় ২২ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল বা জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। চারুকলা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ পেশা বেছে নিয়েছি। লাভ কম, তবুও নিজের শিক্ষার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখনো বিভিন্ন পূজায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছি।
শিববাড়ী পূজামণ্ডপের মৃৎশিল্পী অখিল পাল বলেন, যে কোনো পূজা আসলেই আমাদের কদর বাড়ে। প্রতিমা তৈরির জন্য আমাদের ডাক পড়ে। আমাদের ব্যস্ততা বাড়ে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। তবে কাঁচা মালামালের দাম যে তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, সে অনুযায়ী প্রতিমার তৈরির পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পায়নি। তবে লাভ কম হলেও পৈতৃক পেশা ধরে রেখে প্রতিমা তৈরি করছি, যাতে পেশার পূর্ণতা পাওয়া যায়।
বারহাট্টা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রামেন্দ্র সরকার জানান, এবার বারহাট্টায় স্থায়ী-অস্থায়ী মণ্ডপ মিলিয়ে ৩০টি মণ্ডপে কালীপূজা উদযাপিত হচ্ছে। কালীপূজাকে সামনে রেখে বরাবরের মতোই এবারো প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি মণ্ডপে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, এখন চলছে রংয়ের কাজ।
বারহাট্টা সদরের সবচেয়ে বড় বাজেটের কালীপূজাগুলোর মধ্যে অন্যতম গরুহাট্টা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসিত সাহার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে দুর্গাপূজার আনন্দ যেমন উপভোগ করেছি, আশা করছি তেমনি বরাবরের মতোই এবারো শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে সকলে মিলেমিশে কালীপূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারব।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। পূজা চলাকালীন সকল মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মাঠে সর্তক পাহারায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, যাতে পূজায় অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটতে না পারে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল টিম, স্ট্যান্ডিং ডিউটি ও ক্লাস্টার ব্যাসিসে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত অন্য সকল বাহিনীও সক্রিয় থাকবে।
T.A.S / জামান
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে, রংপুর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ চলছে কুড়িগ্রামে- ত্রাণমন্ত্রী
শেরপুরে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
ময়মনসিংহে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের জাকাত প্রকল্পে সেলাই মেশিন বিতরণ
দরিদ্রতা কমিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য- সফিকুর রহমান কিরণ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কড়াইয়ে কুড়িগ্রামে এক লাখ মানুষের ইফতার
শ্রীপুরে আমলসার ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাউল বিতরণ
বরগুনায় ফসলি জমির মাটি ইটভাটায়, অপসারণের দাবি স্থানীয়দের
ঈদ সামনে রেখে কুতুবদিয়ায় অগ্নি প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের সচেতনতামূলক প্রচারণা
চট্টগ্রাম বন্দরে ইনল্যান্ড মাষ্টার পদে পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ
পাকশী থেকে ২ টি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার
আদমদীঘিতে ১১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার -২
গজারিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ