ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

নবীনগরে শসা চাষে দুই বন্ধুর সাফল্য


নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি photo নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮-৩-২০২৫ বিকাল ৫:১০

দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফিরেন মো. মাসুক। দেশে ফিরে প্রায় ৫-৬ মাস কোন চাকরি না পেয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। কয়েক মাস পূর্বে মাসুক ইউটিউবে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ দেখে তার বাল্যবন্ধু শামিমকে বিষয়টি জানান। দুই বন্ধু মিলে নিজ এলাকায় চার বিঘা জমি লিজ নেন। তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন সবজি ও বাকি দুই বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ শুরু করেন। রূপকথার গল্পের মতো মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে দুই বন্ধু অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মালাই গ্রামের আওয়াল মিয়ার ছেলে মো. মাসুক ও ফরিদ মিয়ার ছেলে শামিম মিয়া। প্রায় তিন মাস পূর্বে মালাই গ্রামের দুই বিঘা জমিতে তারা মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ শুরু করেন। মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমে জমিতে পরিমিত জৈব সার দিয়ে সারি সারি বেড তৈরি করা হয়। পরে সারিবদ্ধ বেডগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বেডে নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ফুটো করে সবজির বীজ বা চারা রোপণ করতে হয়। এ পদ্ধতিতে কৃষকের উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের খুঁটি, নাইলন সুতা আর জিআই তার দিয়ে চারদিকে মাঁচা তৈরি করা হয়েছে। ছোট বড় অসংখ্য শসা মাচায় ঝুলে আছে। যে দিকে চোখ যায় শসা আর শসা। শসা চাষে দুই বন্ধুর এমন সাফল্য দেখে এখন স্থানীয় অনেকেই শসা চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

স্থানীয়রা জানান, এ বাগানের শসা ফরমালিনমুক্ত এবং অনেক সুস্বাদু। দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এখানে মালচিং পদ্ধতিতে শসা আবাদ দেখতে আসে আবার অনেকে তরতাজা শসা কিনতেও আসে। এরা দুই বন্ধু এখন গ্রামের সফল চাষি।

চাষি মো. মাসুক জানান, ২ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা আবাদ করতে জমি ইজারা, পরিচর্যা, সেচ, বীজসহ অন্যান্য খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। চারা রোপণের পর থেকে দেড় মাসের মধ্যে তাদের জমিতে শসার ভালো ফলন আসে। বর্তমানে প্রতিদিন তারা ২০০-৩০০ কেজি শসা বিক্রি করতে পারেন। বাজারে শসার ভালো চাহিদা ও দাম থাকায় এ পর্যন্ত তাদের বাগানের প্রায় তিন লাখ টাকার শসা বিক্রি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাজার দর ভালো থাকলে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি হবে। এতে তিন মাসে খরচ বাদে ২-৩ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ৬-৮ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাসুক আরো জানান, মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ নিয়ে শুরুতে খুবই চিন্তিত ছিলাম কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও নিজের সঠিকভাবে পরিচর্যায় উৎপাদনে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি। সবজি চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। তাছাড়া যেহেতু মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে তাদের সকল সরঞ্জাম ইতিমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে, সামনে এ পদ্ধতিতে শসা চাষে তাদের আরো অনেক খরচ কম হবে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, আমি শুনেছি মাসুক ও শামিম দুই বন্ধু মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করে এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। মালচিং পদ্ধতি চাষিদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ পরিবেশবান্ধব। এতে সেচ কম লাগে, রোগ বালাই আক্রমণ কম হয়, আগাছা নিধনেও কাজ করে। নবীনগর উপজেলায় ইতিমধ্যে ৩৫০ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ ফ্রীপ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ সহায়তা দিয়ে আসছে।

এমএসএম / এমএসএম

তারাগঞ্জে শিশু সানজিদা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

কুমিল্লায় ১০ লাখের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল থেকে লোহার গ্রিল চুরি

কালকিনিতে বাস চাঁপায় প্রান গেল প্রবাসীর

আদমদীঘিতে নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার মাদক উদ্ধার

চাঁদপুর জেলায় ৩লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে

পটুয়াখালীতে ভূমিকম্প-অগ্নিকাণ্ডে করণীয় শেখাতে পিস স্কুলের ব্যতিক্রমী মহড়া

সুবর্ণচরে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ বিতরণ উদ্বোধন

নাগরপুরে স্কুলের টিউবওয়েলে পানি পান করে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ

অভিযোগের ১১ দিনেও মামলা নথিভূক্ত করেনি সাভার মডেল থানা পুলিশ

দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

সুবর্ণচরে জব ফেয়ার ২০২৬ অনুষ্ঠিত

ধামরাইয়ে সওজের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, আহত-২