ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়

সরকারি করণের ৮ বছর হলেও; শিক্ষক সংকটে, হারাচ্ছে গৌরব!


বালাগঞ্জ প্রতিনিধি photo বালাগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১-৫-২০২৫ বিকাল ৫:১৪

শিক্ষক সংকটে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ (ডি.এন) উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হারাচ্ছে প্রায় শত বৎসরের গৌরব, বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক সংকটে বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যহত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকেরা। এ সংকট কবে নাগাদ শেষ হবে তা বলতে পারছেন না বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে শত বৎসরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৬সালে প্রতিষ্ঠিত এশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের পরবর্তী সময়ে ২০১৮সালে সরকারের অনুকূলে বিষয়-সম্পত্তি বিধি মোতাবেক হস্তান্তর করা হয়। উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় হওয়ার শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এতে প্রতিটি শ্রেণিকে দু’টি শাখায় বিভক্ত করে পাঠদান চালাতে হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৮৮জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ২৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭জন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, বিগতদিনে এঅঞ্চলে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানো এশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া, জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়া এবিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরীর পদটি শুন্য থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়ের স্থাপনা ও মূল্যবান কাগজপত্র। অন্যান্য বা সহায়ক ৫টি পদের মধ্যে আছেন ১ জন। এর মধ্যে অফিস সহকারী, দপ্তরি, নৈশ প্রহরী ও আয়ার পদটি শূন্য। এদিকে, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের আশেপাশে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। নানা সময়ে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটছে অনাকাঙ্কিত ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে চলা বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর থেকেই শিক্ষার মান ক্রমান্বয়ে খুবই নিম্নমুখি হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্কুলটি বাঁচান, শিক্ষক সংকটে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিপন্ন হয়ে যাবে। স্কুলটি এভাবে চলতে পারে না। যে শিক্ষকরা কর্মরত রয়েছেন তাদেরও অনেক বয়স হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
ম আ মুহিত নামের এক অভিভাবক তার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, বড় আশা নিয়ে সরকারি স্কুলে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছি। শিক্ষক সংকটের ফলে ছেলের মানসম্মত পড়ালেখা নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে আছি। বড় লোকেরা তো প্রাইভেট স্কুলে পড়াতে পারে। আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্তদের তো সেই সামর্থ্য নেই। মাসুক মিয়া নামের এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য তা মোটেই সুখকর নয়। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পড়ালেখা নিয়ে অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিক্ষকদের শূন্যপদ থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে গিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না। বাড়ছে শিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব।

দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি বালাগঞ্জের মধ্যে একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি বিদ্যালয়ে ভালো ও পর্যাপ্ত পরিমানের শিক্ষক থাকে। নিয়মিত পাঠদান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা থাকে। যা আমাদের বিদ্যালয়ে নেই। ১২ মাসের মধ্যে ৪ থেকে ৫ মাস বিভিন্ন কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে। বাকি সময় শিক্ষক সংকটে নিয়মিত ক্লাসও হয় না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নিকট জোড় দাবি জানাচ্ছি।

শাবি ও স্কুলের প্রাক্তণ ছাত্র মাহফুজুর রহমান হিমেল, প্রাক্তণ ছাত্র ডা. দেবব্রতরাজ উৎস, ডা. তুহিন আহমদ বলেন, আমাদের সময় বিদ্যালয়টির সোনালি যুগ ছিল। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলার স্কুলের চেয়ে এই স্কুলের পড়ালেখা ও ফলাফল অনেক ভালো ছিল। যুগ এবং সময়ের সাথে অনেক কিছুই পাল্টেছে, পরিবর্তন এসেছে শিক্ষা ব্যবস্থায় কিন্তু অত্র এলাকার একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষক শিক্ষার্থী অসমানুপাত, যথেষ্ট অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবের কারণে আজ এই বিদ্যালয়টি যেনো একযুগ পিছিয়ে আছে!

উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আতিকা আফরোজ বলেন, শিক্ষক সংকটে এতো পুরনো একটি স্কুলের এই অবস্থা খুবই সত্যিই দু:খজনক। কিন্তু জাতীয়করণের পর শিক্ষক নিয়োগ আমাদের হাতে থাকে না। আমরা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর থেকেই আমরা শিক্ষকশূন্যতায় ভুগছি, প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকের চাহিদা দিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ৭ জন শিক্ষক দিয়ে এতো বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর।

এপ্রসঙ্গে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, শিক্ষক চাহিদার বিষয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. নুরের জামান চৌধুরী বলেন, ইউএনও আমাকে লিখিত জানিয়েছেন। শিক্ষক সংকটের কথা জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

সিংড়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূ ও সন্তানদের নির্যাতন, ঘরবাড়ি দখলের চেষ্টা

ভোলার দৌলতখানে মেধা ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিজ্ঞান মেলা ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

রায়গঞ্জে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা, খাস ইজারার বাইরে কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎ

তাড়াশে বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

রাশিয়া থেকে ইলিজারভ ফেলোশীপ অর্জন করলেন শেরপুরের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম

তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিতেই সমৃদ্ধ হবে আগামী: বাঘায় স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী

মাত্র তিন মাসেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ: হুইপ অপু

কুতুবদিয়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

নড়াইলে স্টার্টআপ,বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

হাটহাজারীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে গনশুনানী

ঠাকুরগাঁওয়ে চীনা সহায়তায় গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা : মির্জা ফখরুল