খোদা বকস্ এর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৩ই মে
খোদা বকস্ দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষত ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে জীবন বীমা শিল্পের একজন দৃষ্টান্তমূলক পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর প্রায় চার দশকের কর্মজীবন তাঁকে এই অঞ্চলের জীবন বীমা শিল্পের প্রাণপুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় বিভ্রান্তি এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি নিরলস সংগ্রাম করে জীবন বীমাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকর আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বীমা শিল্পের একটি যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব, বিশেষ করে তিনি বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে জীবন বিমাকে জনপ্রিয় করেছিলেন।
খোদা বকস বকস জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যায়। তাঁর শৈশব কেটেছে একটি সাধাসিধে গ্রামীণ পরিবেশে, যেখানে তিনি দয়া, সততা, ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি দরিদ্র সহপাঠীদের সহায়তা করতেন এবং বন্ধুদের জন্য সব সময় উদার ছিলেন।
শিক্ষা জীবনে তিনি অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দেন এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কলকাতার ইসলামিয়া এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর অধ্যবসায় ও পরোপকারের মনোভাব পরবর্তীকালে তাঁকে জীবন বীমা পেশায় অনুপ্রাণিত করে।
১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতায় ওরিযয়েটাল গভর্নমেন্ট সিকিউরিটি লাইফ অ্যাসিওরেন্স কোম্পানিতে কেরানি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং শীঘ্রই একজন পূর্ণকালীন সেলসকর্মীতে পরিণত হন। ধর্মীয় ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করে তিনি দরজায় দরজায় গিয়ে বীমা পলিসি বিক্রি করতেন। তাঁর প্রফুলস্ন আচরণ, আত্মবিশ্বাস এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখাবয়ব ক্রেতাদের কাছে আস্থাভাজন করে তোলে।
১৯৫২ সালে তিনি ঢাকায় ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইনসিওরেন্স অর্থাৎ EFU-তে যোগ দেন এবং অল্প কক্ষ বিশিষ্ট অফিস থেকে শুরু করে একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং উৎপাদনশীল বীমা পরিকাঠামো তৈরি করেন। তিনি স্থানীয় জনবল গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন এবং বীমা শিল্পে সম্ভাবনাময় যুবকদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি দক্ষ কর্মী বাহিনী সৃষ্টি করেন।
খোদা বকস শুধুমাত্র একজন প্রশাসক নন, তিনি ছিলেন একজন পেশাদার মেন্টর ও মানবতাবাদী। তিনি সহকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাও বিবেচনা করতেন এবং প্রয়াজনে আর্থিক সহায়তা করতেন। তাঁর মূল্যবোধনির্ভর নেতৃত্ব ও উন্মুক্ত দরজার নীতি কর্মীদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
EFU-তে তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানিটি পূর্ব পাকিস্তানে আমেরিকান লাইফ ইনসিওরেন্স বা ALICO-এর মতো বহুজাতিক কোম্পানিকেও ছাড়িয়ে যায়। ১৯৬০ সালে তিনি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জীবন বীমা বিভাগের প্রধান হন এবং করাচি থেকে সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেন।
খোদা বকস্ জনসংযোগের ক্ষেত্রেও ছিলেন অনন্য। তিনি রোটারি ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাদার সংগঠনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এই সংযোগগুলোকে বীমা সম্পর্কে সচেতনতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করেন।
১৯৭৪ সালের ১৩ই মে ঢাকায় তাঁর প্রয়ান হয়। প্রথমদিকে তাঁর অবদান কিছুটা বিস্মৃত হলেও পরবর্তীকালে তার পুত্রের রচিত গ্রন্থ ও গবেষণার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন নতুন করে আলোচনায় আসে।
তাঁর কৃতিত্বগুলির মধ্যে রয়েছে জীবন বিমার বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিরোধিতা অতিক্রম করা, EFU-কে পাকিস্তান এবং আফ্রো-এশিয়ার দেশগুলির (জাপান ব্যতীত) সবচেয়ে বড় বীমা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ১১,০০০ এজেন্টের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রতি দুইজন জীবন বীমা গ্রাহকের একজনকে EFU-এর অধীনে আনা, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার হওয়া এবং ঢাকায় ২৪-তলা EFU ভবন (বর্তমানে জীবন বীমা ভবন) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।
আজ তিনি বাংলাদেশের জীবন বীমা শিল্পের "জনক" হিসেবে স্বীকৃত, যিনি তাঁর দুরদৃষ্টি, নিষ্ঠা এবং মানবিকতায় একটি শিল্পকে শুধু প্রতিষ্ঠা করেননি, বরং অসংখ্য মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন।
এমএসএম / এমএসএম
নান্দনিক রূপে নজর কাড়ছে ভিক্টোরিয়া কলেজের ‘স্বাধীনতা সৌধ’
জাতীয় হকি তারকা মিন্টু ও শামীম স্মরণে শোক র্যালি
রামপালে ইতু হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই সহোদরসহ গ্রেপ্তার ৩, রিমান্ড আবেদন
দেবীগঞ্জে হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনকে ২২শ তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার
টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি-যুবদলের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল
নেছারাবাদে নতুন ইউএনও আশিক আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রথম মতবিনিময়
রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন আব্দুস সবুর
কুড়িগ্রামে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রতন পোদ্দার গ্রেপ্তার
"রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)" পাচ্ছেন ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের এএসআই ইকলাচুর রহমান
অভয়নগরে বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণ
শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম, পণ্য খালাসে জটিলতার আশঙ্কা
পাবনায় মানবকল্যাণ ট্রাষ্টের মতবিনিময় সভায় প্রধান মন্ত্রীর একনজর দেখতে আশার প্রত্যাশা ট্রাস্ট প্রধানের