ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

বারহাট্টার প্রকৃতিতে নান্দনিক সৌন্ধর্য নিয়ে এলো বর্ষা


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩-৬-২০২৫ দুপুর ১২:২৪

ঋতু পরিক্রমায় গ্রীষ্মের দীর্ঘ তাপদাহের পর বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষার আগমন যেন এক স্বস্তির পরশ। আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ, রিমঝিম বৃষ্টি আর সবুজের ছোঁয়ায় চারদিক হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সৃষ্টির খেলায় মাতোয়ারা হয়ে বর্ষায় প্রকৃতি ফিরে পায় যৌবন, মানবমনে জাগে সুখ-বিরহের নতুন অনুভব।

ষড়ঋতুর ধারায় বৈচিত্র্যময় ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বর্ষাকালকে বলা চলে সবচেয়ে কাব্যময় ঋতু। বাংলা দিনপঞ্জি অনুযায়ী আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। প্রকৃতি এসময় নিজস্ব ছন্দে শাসন চালায় চারপাশে। গ্রীষ্মের দাবদাহে ক্লান্ত জীবনের মাঝে বর্ষার বৃষ্টি আসে প্রশান্তি হয়ে। নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে উঠে যৌবনপ্রাপ্ত রূপে। জলভরা বিল-ঝিলে শাপলা-শালুকের মুগ্ধতা মন কেড়ে নেয়।

বর্ষা প্রকৃতিতে নব সৃষ্টির উন্মেষ ঘটায়। বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছপালা হয়ে ওঠে সতেজ, শুষ্ক জমিতে অঙ্কুরিত হয় প্রাণের বীজ। শিল্পী, কবি আর লেখকদের কাছে বর্ষা তাই এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে” কিংবা নজরুলের “রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেওয়া বরষে”—সবখানেই ধরা পড়েছে বর্ষার স্নিগ্ধ রূপ।

বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের শুরুতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গ্রীষ্মের তাপে জীর্ণ গাছপালা হয়েছে সতেজ, নদী-নালা ফিরে পেয়েছে হারানো যৌবন। চারদিকে শুধু নতুন জীবনের জয়ের ধ্বনি। কদম, হাস্নাহেনা, শাপলা, দোলনচাঁপাসহ নানা ফুল আর করমচা, পেয়ারা, জামরুলসহ মৌসুমি ফল প্রকৃতিকে সাজিয়েছে আপন ছন্দে।

বর্ষার পানিতে জমে উঠেছে মাছ ধরার উৎসব। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জাল, বড়শি বা কোঁচ দিয়ে মাছ ধরা, আর রাতে ফসলের মাঠে লাইট জ্বালিয়ে চলে জলাভূমিতে শিকারের দৃশ্য। গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে সন্ধ্যা নামতেই জমে ওঠে ভিড়। বৃষ্টির ছন্দে চায়ের কাপে চুমুক আর খোশগল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামীণ জীবন।

উপজেলা সদরের মধ্য বাজার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী কান্তি রঞ্জন রায় চৌধুরী বলেন, “বর্ষা মানেই সময়ে-অসময়ে বৃষ্টি, আর নাগরিক জীবনে স্বস্তির পরশ। বর্ষা ছাড়া বাংলার প্রকৃতির সৌন্দর্য কল্পনাও করা যায় না। বর্ষার রহস্যময় রূপ কবি-সাহিত্যিকদের কাছে চিরকালই প্রেমময় ও কাব্যময়।”

কবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মনোয়ার সুলতান বলেন, “বর্ষা শহরে যেমন ভোগান্তি আনতে পারে, গ্রামে তা আনন্দ আর প্রাণচাঞ্চল্যের উৎস। যদিও প্রকৃতি দিন দিন রুক্ষ হয়ে উঠছে, তবুও বর্ষা বাংলার রূপ-সৌন্দর্যের এক অনন্য উৎস।”

বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হলেও বর্ষা প্রকৃতির অন্তর থেকে নতুন জীবন সৃষ্টি করে। শৈশবে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলার স্মৃতি আজও জাগরুক। বর্ষা যেন এক নিজস্ব সংস্কৃতির রূপকার।”

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষা শুধুই একটি ঋতু নয়, এটি এক চিরন্তন জীবনযাপন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিঃশব্দ সুর—যা বাংলার মাটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত, আরও ভালোবাসার।

এমএসএম / এমএসএম

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে, রংপুর অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ চলছে কুড়িগ্রামে- ত্রাণমন্ত্রী

শেরপুরে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের জাকাত প্রকল্পে সেলাই মেশিন বিতরণ

দরিদ্রতা কমিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য- সফিকুর রহমান কিরণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কড়াইয়ে কুড়িগ্রামে এক লাখ মানুষের ইফতার

শ্রীপুরে আমলসার ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাউল বিতরণ

বরগুনায় ফসলি জমির মাটি ইটভাটায়, অপসারণের দাবি স্থানীয়দের

‎ঈদ সামনে রেখে কুতুবদিয়ায় অগ্নি প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিসের সচেতনতামূলক প্রচারণা

চট্টগ্রাম বন্দরে ইনল্যান্ড মাষ্টার পদে পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ

পাকশী থেকে ২ টি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার

আদমদীঘিতে ১১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার -২

গজারিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ