রাজউকের জোন-৬/১
পরিদর্শকের অভাবে নিয়ন্ত্রণহীন শহর, বাড়ছে ঝুঁকির ফাঁদ
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট নকশার তোয়াক্কা না করে নির্মিত হচ্ছে একের পর এক বহুতল ভবন। নেই কোনো তদারকি, নেই আইনের প্রয়োগ। যেখানে প্রয়োজন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ইমারত পরিদর্শক, সেখানে মাত্র চারজন পরিদর্শক দিয়ে চলছে হাজারো ভবনের দেখভাল—এই শূন্যতা আজ কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজউকের জোন ৬/১ ঢাকার অন্যতম বড় নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ এলাকা। রামপুরা, বনশ্রী, মগবাজার, বাসাবো, নন্দীপাড়া, সবুজবাগ, গ্রীন মডেল টাউন সহ বিস্তীর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা নিয়ে গঠিত এই বিশাল অঞ্চলে কয়েক হাজার নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। অথচ এই বিশাল এলাকার নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র চারজন ইমারত পরিদর্শক। রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, "প্রতিটি জোনে ১৫-২০ জন দক্ষ পরিদর্শক না থাকলে ভবন নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব। এই চারজন দিয়ে এত বিশাল এলাকার নজরদারি করা বাস্তবসম্মত নয়।"
এভাবে নির্মাণ ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য সুযোগ। তারা নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে তুলছে ভবন—যার অনেকগুলো অনুমোদনহীন, নকশাবহির্ভূত এবং প্রাণঘাতী। আসলেই কি এটি অসাধু ভবন নির্মাতাদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ইমারত পরিদর্শক প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না? প্রতিনিয়ত ভবন উঠছে, কে নেবে এই দায়ভার?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্মাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবন নিরাপত্তা কমছে। দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ঢাকায় অবৈধ নির্মাণ সাইটের সংখ্যা ছিল ৩,৩৮২টি—যা রাজউক নিজেই চিহ্নিত করেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, বাংলাদেশে বছরে ১৫,০০০টির বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয় অবৈধ ও অপরিকল্পিত ভবনে। ২০২৪ সালের সিদ্দিকবাজার ট্র্যাজেডিতে, মাত্র ১০ মিনিটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৬৮৩টি ভবনে—যার বেশিরভাগের বেজমেন্টে ছিল দাহ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ।
রাজউক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা অভিযোগ পাই, কিন্তু পরিদর্শক না থাকলে সবখানে যাওয়া সম্ভব নয়। নোটিশ দিয়ে থামানো যায় না, কারণ প্রভাবশালী লোকজন মাঠে বাধা দেয়।" প্রশ্ন উঠছে, কেন এই নীরবতা?
একজন পরিদর্শকের একদিন: অসহায়তার ছায়া
একজন পরিদর্শকের দৈনিক কাজের বিবরণ থেকে উঠে আসে চরম হতাশা—
সকাল ৮টা: অফিসে বসে সাইট তালিকা তৈরি
সকাল ১০টা: বাসাবো, সবুজবাগের নির্মাণ সাইটে যান—দেখেন নকশার বাইরে নির্মাণ চলছে
দুপুর ১২টা: নন্দীপাড়া, সবুজবাগে প্রভাবশালীদের হুমকি, কাজ বন্ধ করাও সম্ভব নয়
বিকাল ৩টা: মোবাইল কোর্ট—রাজনৈতিক নির্দেশে অভিযান স্থগিত
সন্ধ্যা ৬টা: অফিসে ফিরে রিপোর্ট তৈরি
রাত ৮টা: ফোনে অভিযোগ, হুমকি ও অনুরোধের চাপে মনোবল হারানো।
তিনি বলেন, "সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। কিন্তু প্রভাব আর নিরাপত্তাহীনতায় নীরব থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখি না।"
জনসাধারণ কী বলছে?
মোহাম্মদ আলী, সবুজবাগ: "নিয়মের বাইরে ভবন হচ্ছে, আমাদের ফ্ল্যাটে ফাটল ধরছে। কেউ জবাব দেয় না। এসব কি রাজউকের চোখে পড়ে না?"
সাদ্দাম হোসেন, ব্যবসায়ী, বাসাবো: "রাজউকের অফিসাররা আসে, ছবি তোলে, পরে কিছুই হয় না। তারা কী করে জানি না। আসলেই কিছু করার ক্ষমতা নেই?"
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত:
একজন নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, "নিয়মিত পরিদর্শক না থাকলে সঠিক বিল্ডিং কোড মানা সম্ভব নয়। জনগণ জানেই না তাদের বাড়ি কোথায় কীভাবে নির্মাণ হচ্ছে। এটা শুধু দুর্নীতি নয়, গণহত্যার মতো বিপর্যয়ের ডাক।" একজন সিনিয়র প্ল্যানার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) যোগ করেন, "মোবাইল কোর্ট চালু থাকলেও, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়। রাজউকের কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা।"
বিশেষজ্ঞদের মতে বিপর্যয় ঠেকাতে জরুরি পরিকল্পনা:
প্রতিটি বড় জোনে ১৫–২০ জন পরিদর্শক নিয়োগ।
জিও-ট্যাগড ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু।
অভিযান পরিচালনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধাহীন সহায়তা নিশ্চিতকরণ।
নাগরিক ফিডব্যাক হটলাইন চালু এবং গণমাধ্যমে প্রকাশযোগ্য রিপোর্টিং ব্যবস্থা।
ডিএপি (ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান) বাস্তবায়নে অংশগ্রহণমূলক পরিদর্শন ও পরিকল্পনাবিদ সংযুক্তিকরণ।
ভবনের ভেতরে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর ছায়া। রাজউকের জোন ৬/১ বর্তমানে আইনহীন ভবন তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। "ইমারত পরিদর্শক মানে ভবনের চোখ। চোখ বন্ধ হলে, সিস্টেম অন্ধ হয়ে পড়ে। আর অন্ধ সিস্টেম মানেই ধ্বংস," বললেন এক ভেটেরান নগর পরিকল্পনাবিদ।
সচেতনতা না এলে, নিয়োগ না হলে, এবং শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে—ঢাকা শহর আগামী দুর্যোগে কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসের গল্পই শোনাবে। এটি শুধু সরকারের নয়, আপনারও দায়িত্ব। নীরবতা নয়, দায়িত্ব নিন। ভবন নয়, নিরাপদ বাসস্থান চাই। কারণ প্রতিটি দেয়ালের পেছনে আছে জীবনের গল্প, ভয়ংকর ভবিষ্যৎ নয়।
এমএসএম / এমএসএম
একটি মহল আমাকে তার্গেট করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে : ব্যবসায়ী আরিয়ান
ধলপুরে ডিএসসিসির সাপ্তাহিক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আধুনিক যানবাহন হস্তান্তর সম্পন্ন
ব্যাংকে গেলে ফাঁকা নতুন টাকা!
নৌপথে পরিবহন ও নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে
রশিদ গ্রুপের উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ
বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ইফতার মাহফিল
ঢাকায় নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শামীম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল
অমর একুশে বইমেলায় ‘জীবনের পথে পথে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় রয়েছেন যারা :
ডিএমসিতে ড্যাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও দেশ প্রেমে উদ্যোগী হতে হবে : নূর হাকিম