ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ

নৌপথে পরিবহন ও নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে


কমল চৌধুরী   photo কমল চৌধুরী
প্রকাশিত: ১৪-৩-২০২৬ দুপুর ১:৪২

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান,  রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, (গ্রেড-১) বলেন, নৌ পথে পরিবহন ও নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা দারিদ্র বিমোচনে ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন গতি এনে দিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অতি সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলস্থ বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ে দৈনিক সকালের সময় এর পক্ষে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। নিন্মে তা হুবহু তুলে ধরা হয়েছে। 

সকালের সময় : ক্যারিয়ারের কোন সময়টা আপনার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল এবং সেটি আপনি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ : আমার দীর্ঘ চাকুরিজীবনে প্রতিকূল আবহাওয়া বা চ্যালেঞ্জিং অপারেশন মোকাবিলা করা নিয়মিত ঘটনা। তবে বিআইডব্লিউটিএ-র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আরিচায় সংঘটিত ফেরি 'রজনীগন্ধা-০৭' ডুবির উদ্ধার অভিযানটি ছিল অন্যতম কঠিন সময়। তখন তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছিল এবং নদীর প্রবল স্রোতের সাথে প্রায় ৪০ ফুট গভীরতায় উদ্ধার কাজ চালানো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। আমি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরাসরি দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকর্মীদের তদারকি ও উৎসাহ দিয়েছি। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা নিমজ্জিত ফেরি ও ট্রাকগুলো সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এছাড়া নদী দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখা এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে রাজস্ব আদায় করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই কঠিন সময়গুলোতে আমি ধৈর্য, সাহসিকতা এবং স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যার স্বীকৃতিস্বরূপ আমি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রশংসাপত্রও লাভ করেছি ।
সকালের সময় :  আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী ?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: সাফল্যের সংজ্ঞা আপেক্ষিক, তবে জনসেবা এবং জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারাটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। বিশেষ করে, উপকূলীয় ও দুর্গম দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘ ৫০ বছরের কষ্ট লাঘব করাকে আমি বড় সাফল্য মনে করি। সন্দীপবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কুমিরা-গুপ্তছড়া ও চেয়ারম্যানঘাট-হাতিয়া রুটে সমুদ্রগামী ফেরি সার্ভিস এবং কক্সবাজার-মহেশখালী ও পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে আধুনিক সী-ট্রাক সেবা চালু করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ-র আধুনিকায়ন এবং গত তিন বছরে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় প্রায় ১৫.৭০% বৃদ্ধি করা আমার মেয়াদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আমি বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও দক্ষ নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারাই আমার কাজের প্রকৃত সার্থকতা।
সকালের সময় : তরুণ প্রজন্ম যারা সরকারি সেবামূলক খাতে কাজ করতে চায়, তাদের জন্য আপনার কী পরামর্শ?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: তরুণ প্রজন্মের জন্য আমার প্রথম পরামর্শ হলো - দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্ব। সরকারি সেবা খাতে কাজ করা কেবল একটি চাকুরি নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি পবিত্র সুযোগ। তাদের জন্য আমার তিনটি মূল টিপস থাকবে: প্রযুক্তিনির্ভর হওয়া, সততা ও সাহসিকতায় অটল থাকা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি। যেকোনো প্রতিকূলতায় সত্যের পথে অবিচল থাকা জরুরি। সময়ের সাথে নিজেকে যুগোপযোগী করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শেখার মানসিকতা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনার নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টাই পারে একটি প্রতিষ্ঠান তথা দেশের ভিশন পরিবর্তন করে দিতে।
সকালের সময় : আপনি বিআইডব্লিউটিএ-র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংস্থাটির উন্নয়নে কী কী উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছেন?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: বিআইডব্লিউটিএ এমন একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান- যেখানে অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। এ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত করে তোলায় সংস্থা উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অর্জন। জাতীয় পর্যায়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের অনুষ্ঠানে অত্র কর্তৃপক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিআইডব্লিউটিএর অধীনে পন্টুন সমূহের তথ্যাদি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় পন্টুন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হয়েছে। PIWT&T  এর আওতায় সেবা বৃদ্ধি ও সহজতর করতে ই-এনলিস্টমেন্ট এন্ড স্মার্ট ভয়েস পারমিশন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য সংরক্ষণে HMRS বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেবা সহজীকরণে ই-প্রেসক্রিপশন এন্ড মেডিকেল সেন্টার চালূ করা হয়েছে। দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে ডি-নথি সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। 
সকালের সময় : বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে চলমান-মোট কয়টি প্রকল্প, কোন কোন এলাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে ?
 চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: বিআইডব্লিউটিএর মোট ১৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১টি, ভারতীয় নমনীয় ঋণ  এর আওতায় ১টি এবং কারিগরি সহায়তায় ১টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। 
১। মোংলা বন্দর হতে চাঁদপুর- মাওয়া- গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌরুটের নাব্যতা উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী-মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ড্রেজিং বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জুলাই ২০১৭-জুন ২০২৬), প্রাক্কলিক ব্যয়-১২৯০০০.০০ টাকা। ২। নগরবাড়ীতে আনুষংগিক সুবিধাদিসহ নদী বন্দর নির্মাণ (১ম সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী - মোঃ মহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুর), প্রকৌশল বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (জুলাই ২০১৮-জুন ২০২৫), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৫৬৩৮৪.০০ টাকা।
 ৩। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালুনদীর তীরভুমিতে পিলার স্থাপন,তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষংগিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়) (২য় সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী-আবু জাফর মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ কবির,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ড্রেজিং বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জুলাই ২০১৮-জুন ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়- ১২৭৫৯৫.০০ টাকা। 
৪। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার (১ম সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী - মোঃ ছাইদুর রহমান, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী (পুর), প্রকৌশল বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (সেপ্টেম্বর ২০১৮- জুন ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৪৪০৯৯৪.০০ টাকা।  
৫। ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ  (১ম সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী -  মোঃ মজনু মিয়া, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন), ড্রেজিংবিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (সেপ্টেম্বর ২০১৮- জুন ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৪৪৯৯৪.০০ টাকা।  
৬। পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদী বন্দর আধুনিকায়ন। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী - মোহাম্মদ তারিকুল হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ড্রেজিংবিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জানুয়ারী ২০১০-ডিসেম্বর ২০২৪), প্রাক্কলিক ব্যয়- ১৩৫১৭০.০০ টাকা। 
৭। চিলমারী এলাকায় (রমনা, জোড়গাছ, রাজিবপুর, রৌমারী, নয়ারহাট) নদীবন্দর নির্মাণ (১ম সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী - মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা,   নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর), ড্রেজিং বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (জুলাই ২০২১-ডিসেম্বর ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৩৩৫৯৫.০০ টাকা।
 ৮। নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মোঃ নিজাম উদ্দিন পাঠান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পওন সার্কেল), প্রকৌশল বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (জানুয়ারি ২০২০-জুন ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়-  ৬১৫৭৫.০০ টাকা।
 ৯। মিঠামইন উপজেলার ঘোড়াউতরা, বোলাই-শ্রীগাং নদীর অংশবিশেষ ও ইটনা উপজেলার ধনুনদী, নামাকুড়া নদী এবং অষ্টগ্রাম উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর অংশ বিশেষের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মুহাম্মদ হারুন-অর রশিদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ড্রেজিং বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(১জুলাই ২০২২- ৩০ জুন ২০২৬), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৭১৭৭.০০ টাকা। 
১০। চট্রগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ ও টেকনাফ (সাবরাং ও জালিয়ারদ্বীপ) অংশের জেটিসহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- এ, এস, এম, আশরাফুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত), প্রকৌশল বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ,ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জানুয়ারি ২০২৩-ডিসেম্বর ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়-১৯১৩৭০.০০ টাকা। 
১১। জিনাই ,ঘাঘট, বংশী, এবং নাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য শুস্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতিকরণ, নৌ-পথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- এ কে এম ফয়সাল আলম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), এমএমই বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জুলাই ২০২৩- জুন ২০২৮), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৪১৬৮১৬.০০ টাকা। 
১২। বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা- আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌ পথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ) (২য় সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মোঃ আইয়ুব আলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক), বিআইডব্লিউটিএ , ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জুলাই ২০১৬-জুন ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়- ২৮০০৪২.০০ টাকা। 
১৩। আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌ-বন্দর স্থাপন (১ম সংশোধিত)। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মোঃ সাজেদুর রহমান,অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ড্রেজিং বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল-(জুলাই ২০১৮-ডিসেম্বর ২০২৫), প্রাক্কলিক ব্যয়- ১৭৫১০০.০০ টাকা। 
১৪। যমুনা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ড্রেজিং বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (জানুয়ারি ২০২৪- ডিসেম্বর ২০২৭), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৬২০৪১.০০ টাকা।
১৫। অভ্যন্তরীণ নৌপথে ব্যবহারের জন্য পলিথিন বয়া, পিসিপোল, টাওয়ার বিকন এবং আরসিসি সিংকার সংগ্রহ ও সংযোজন। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মোঃ আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত পরিচালক, নৌ-সংরক্ষন ও পরিচালন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (জানুয়ারি ২০২৪-জুন ২০২৬), ২৪৬২.২৫.০০ টাকা। 
১৬। নদী ও নৌ পথ সমীক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প। প্রকল্প পরিচালকের নাম ও পদবী- মোঃ মোতাহার হোসেন, যুগ্মপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক, পরিকল্পনা বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ,ঢাকা। বাস্তবায়নকাল- (অক্টোবর ২০২৩-সেপ্টেম্বর ২০২৬), প্রাক্কলিক ব্যয়- ৪২৩১.০০ টাকা।
সকালের সময় : এই প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক কত শতাংশ মানুষ উপকৃত হবে বলে আপনি মনে করেন?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: নৌ পথে পরিবহন ও নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা দারিদ্র বিমোচনে ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন গতি এনে দিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। 
সকালের সময় : বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আপনি কী ধরনের ব্যবস্থা নেন?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটি গঠন, সরকারি চাকুরি বিধানমালা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দাপ্তরিক সুশৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে কোনো ছাড়ের অবকাশ নেই।  
সকালের সময় : এ পর্যন্ত এ ধরনের কতটি ঘটনায় কী কী শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? 
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ : ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিআইডব্লিউটিএ ’র পুঞ্জিভূত মোট বিভাগীয় মামলার সংখ্যা ৪৯, যার মধ্যে ৩৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সকালের সময় : বিআইডব্লিউটিএ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে এবং সংস্কার কাজ চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ : বিআইডব্লিউটিএ ভবন ঝুঁকিপূর্ণতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালে কর্তৃপক্ষের ভবনের ৫টি কলামে এবং বীমে ফাটল দেখা যাওয়ায় বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করার নিমিত্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১৩-০২-২০২৪ বিআরটিসি-বুয়েট-কে পত্র প্রেরণ করা হয়। বুয়েটের মতামত বাস্তবায়নের জন্য ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হলে বুয়েট কর্তৃক মতিঝিলস্থ ঝুঁকিপূর্ণ বিআইডব্লিউটিএ ভবনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে খালি (Evacuate) করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে, কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নতুন কোন স্থানে জায়গা নিয়ে অথবা বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য দ্রুত একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে, জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয় সাময়িকভাবে অন্যত্র স্থানান্তরের নিমিত্ত ভবন ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়। ০২-১২-২০২৫  নৌপরিবহন মন্ত্রনালয় হতে ঢাকাস্থ সরকারি কোন দপ্তর/সংস্থার ভবনে বিআইডব্লিউটিএ ’র প্রধান কার্যালয়ের অফিস স্থাপনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ’র চাহিদা মোতাবেক ১,১২,০০০ বর্গফুট ফ্লোর স্পেস খালি অবস্থায় পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়।  সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন। খুব শিঘ্রই এ সমস্যা হতে উত্তরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। 
সকালের সময় : সংস্থাটিকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর   ্র ও জনবান্ধব করতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: দেশের পরিবহন ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের  একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিআইডব্লিউটিএকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর জনবান্ধব করা শুধু একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয় বরং বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য। এক্ষেত্রে পরিচালিত গবেষণাগুলো অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (IWT ) লজিস্টিকস ব্যবস্থার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ খাতের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে জিডিপিতে প্রায় ১% বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রায় ২০% প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
এ লক্ষ্যে আমরা কঠোর ডেটা গভর্ন্যান্স প্রটোকল প্রবর্তন করব, যেখানে ডেটার মালিকানা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ডেটা শেয়ারিং চুক্তিসমূহ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে। একই সঙ্গে  BIWTA  একটি ‘স্মার্ট ওয়ার্কফোর্স গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ উদ্যোগের আওতায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদ ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে যার মাধ্যমে কর্মীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI ), ইন্টারনেট অব থিংস (IOT) এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে।
আমরা প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৯টি উদ্যোগ চিহ্নিত করেছিঃ
১.নৌযান মালিকদের জন্য ওয়ান-স্টপ IWT সেবা প্ল্যাটফর্ম: ব্লকচেইন-ভিত্তিক সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফমের মাধ্যমে নৌযান লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।
২.নদী দখল ও তীরভূমি (Foreshore) পর্যবেক্ষণের রিয়েল-টাইম ব্যবস্থা: ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নদী তীরের অখন্ডতা রক্ষা এবং দখল ঝুঁকি হ্রাস; তীরভূমি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি।
৩.ইন্টেলিজেন্ট ড্রেজিং গাইডেন্স ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা: IOT -সক্ষম স্মার্ট বয়া থেকে প্রাপ্ত রিয়েল-টাইম ডেটা ও অও-ভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ড্রেজিং কার্যক্রমের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা।
৪.রাত্রিকালীন নেভিগেশন ও পাইলটেজের জন্য স্মার্ট নেভিগেশন সিস্টেম: মেশিন লার্নিং, GPS ও IOT ব্যবহার করে কম আলোতে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
৫. BIWTA সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সেবা প্রদান উন্নয়ন: যাত্রী ও সেবা গ্রহীতাদের জন্য ই-সেবা গ্রহণ এবং অভিযোগ বা সমস্যা দ্রত জানানোয় সক্ষম একটি প্ল্যাটফর্ম। রিয়েল-টাইম হাইড্রোগ্রাফিক ডেটা 
৬.সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রচার: অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হালনাগাদ হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য প্রদান করে নিরাপদ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ। 
৭. IWT অংশীজনদের জন্য হাইড্রোমেট পূর্বাভাস ব্যবস্থা: আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা ও পানির স্তর সম্পর্কে নির্ভুল পূর্বাভাস প্রদান করে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করা। 
৮. BIWTA  নৌযানের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও রুট পরিকল্পনা: BIWTA  নৌযানের কার্যকর ট্র্যাকিং, রুট অপ্টিমাইজেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
৯.কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের যান্ত্রিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন: কনভেয়ার বেল্ট ও উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্গো হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সময়ক্ষয় হ্রাস।
সকালের সময় : মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কি সবসময় কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পান? নাকি সহযোগিতার অভাবে কিছু প্রকল্প পিছিয়ে যাচ্ছে?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমাসে আমাদের প্রকল্প ও জরিপের কাজগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। জরিপ কাজ করতে গিয়ে যেখানে আমরা আটকে যাচ্ছি , সেখানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। অতিরিক্ত সচিব মহোদয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও দের সাথে আমাদের নিয়মিত বৈঠক হয় এবং সেখানে এ বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে সিদ্ধান্ত ও সাহায্য পাওয়া যায়।
সকালের সময় : পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চযাত্রী কমে যাওয়ায় অনেক লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়েছেন। এই সংকট মোকাবিলায় আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ : পদ্মা সেতু চালুর পর দেশে নৌপথে যাত্রী পরিবহন যেহেতু চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে চলে গেছে, তাই আমরা নৌপথে কার্গো পরিবহনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। সে কারণে কার্গো বন্দরগুলো বিশেষ করে বাঘাবাড়ী, নওয়াপাড়া, নগরবাড়ী, সুলতানগঞ্জ এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম জোনের বন্দরগুলো কিভাবে আধুনিকায়ন করা যায় সে দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোর মতো নদী বন্দরেও আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নগরবাড়ীতে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় কার্গো হ্যান্ডলিং উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে এর সূচনা হচ্ছে। এখন শ্রমিক কুলিদের যে মাথায় করে পণ্য অনেক উঁচুতে উঠাতে হয় তার পরিবর্তে কনভেয়ার বেল্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।    
সকালের সময় : নৌপথকে আরও নিরাপদ ও জনপ্রিয় করতে বিআইডব্লিউটিএ কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে?
চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ: নৌপথকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি পাঁচ বছরের। এই পরিকল্পনার মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৯ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় গৃহীত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হবে বন্দরকেন্দ্রিক কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত সাফল্য। নদী বন্দরগুলো যাতে দক্ষ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য প্রয়োজন পরিচালন কার্যক্রমে বিকেন্দ্রীকরন। তারই অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কর্তৃপক্ষের সব নদী বন্দরকে জোনভিত্তিক ভাগ করে আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপনের মাধ্যমে পরিচালনা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘোষিত সব নদী বন্দর নিজস্ব দপ্তর পাবে এই মেয়াদে। পরিচালকের (বন্দর ও পরিবহন) দপ্তর থেকে সব নদী বন্দরের কার্যক্রম যাতে রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করা যায় সেজন্য স্থাপন করা হবে ডিজিটালাইজড পর্যবেক্ষণ বোর্ড।
আগামী পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পর্যটন চলাচল এবং পণ্য পরিবহনের চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে বাড়বে। বর্ধিত এই চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হবে অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধি। পাশাপাশি এসব অবকাঠামো যাতে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। উপকূলবর্তী এলাকার লবণাক্ততার বিষয়টি বিবেচনা করে তাই দীর্ঘমেয়াদে এসব এলাকার ঘাট/পয়েন্টের জন্য টেকসই জেটি ও পন্টুন সুবিধাদি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পর্যটনের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় চর কুকরি মুকরি ও কচ্ছপিয়ায় বড় পন্টুন দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঘাট উন্নয়ন করা হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে শিমুলিয়াতে একটি ট্যুরিস্ট টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া শিমুলিয়ায় (মাওয়া) যে ফেরিঘাটটা এখন অব্যবহৃত আছে সেখানেও কনটেইনার টার্মিনাল ও নৌ ট্যুরিজম উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। নদীর পাড়ে যত্রতত্র ডকইয়ার্ড গড়ে উঠছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আলাদা একটি ডকইয়ার্ড পল্লী স্থাপন করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে সবচেয়ে বড় যে কাজটি করা হচ্ছে তা হচ্ছে নদী বন্দরেও সমুদ্র বন্দরগুলোর আধুনিক হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা চালু করা। ৫৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরবাড়ীতে যে বিশাল জেটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখান দিয়েই এর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। নদী বন্দরটিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোও যাতে আধুনিক বন্দর হয়ে ওঠে সেজন্য স্মার্ট ব্যবস্থাপনার দিকে এগোচ্ছে।

এমএসএম / এমএসএম

নৌপথে পরিবহন ও নদী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে

রশিদ গ্রুপের উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ইফতার মাহফিল

ঢাকায় নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শামীম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল

অমর একুশে বইমেলায় ‘জীবনের পথে পথে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় রয়েছেন যারা :

ডিএমসিতে ড্যাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও দেশ প্রেমে উদ্যোগী হতে হবে : নূর হাকিম

দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন আয়োজিত রমজান ও নারী দিবসে কোরআন শরীফ, জায়নামাজ ও সেলাই মেশিন বিতরণ

চুক্তির কারণে চলতি বছর ১৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার : সিপিডি

কলাবাগান, তেতুঁল তলা মাঠে শিশু কর্ণার উদ্বোধন

রাজউক ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ নির্মাণে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ