আশুলিয়ায় ঋণের তলে বহুতল ভবন, লাগামহীন ব্যাংক সুদে বিপর্যস্ত মালিকেরা
রাজধানী ঢাকা সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার আকাশ আজ সুউচ্চ ভবনে ছেয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের সংখ্যা। তবে এসব নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। বেশিরভাগ ভবনই গড়ে উঠেছে ব্যাংক ঋণের টাকায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশুলিয়ার জমির দাম গত কয়েক বছরে হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়েছে। একদিকে শিল্পকারখানার বিস্তার, অন্যদিকে রাজধানীর সন্নিকটে হওয়ায় এলাকাটিতে আবাসনের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। ফলে অনেক জমির মালিক ও উদ্যোক্তা সুউচ্চ ভবন নির্মাণে ঝুঁকছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত মূলধন দিয়ে এত বড় ব্যয়ভার বহন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভরসা রাখতে হচ্ছে ব্যাংক ঋণের উপর।
এলাকার ভবন মালিকদের সূত্র মতে, প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ সুউচ্চ ভবনই ব্যাংক ঋণের টাকায় দাঁড় করানো হয়েছে। অনেকেই সুখের আশায়, অনেকটা আশা করেই ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ সুদহারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঋণের বোঝা ভারি হলে শেষমেশ নিজের ভিটা-বাড়ি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে শূন্য হাতে পথে বসতে হয়।
এ প্রসঙ্গে আশুলিয়ার এক প্রকল্প মালিক বলেন, “একটা ১০-১২ তলা ভবন তুলতে ন্যূনতম ১৫-২০ কোটি টাকা লাগে। এত টাকা একসাথে কারো হাতে থাকে না। তাই ব্যাংক ঋণ ছাড়া এখানে ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে কিস্তির চাপ অনেক সময় অসহনীয় হয়ে দাঁড়ায়।”
আশুলিয়ার একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা মূলত গ্রাহকের যোগ্যতা ও প্রকল্পের সম্ভাবনা দেখে ঋণ অনুমোদন করি। ভবন নির্মাণে ঋণ নেওয়া এখন একটি সাধারণ চিত্র। তবে অনেকেই বাজারের ওঠানামা কিংবা ভাড়াটিয়া সংকটের কারণে কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে গ্রাহক যেমন সমস্যায় পড়েন, আমাদেরও তেমন ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হই।”
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট মোঃ আকতারুল ইসলাম বলেন, “ঋণগ্রহীতারা প্রায়শই ঋণ চুক্তির শর্তাবলী না পড়েই ব্যাংকের ঋণ চুক্তিতে সই করেন। সুদের হার, জরিমানা কিংবা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ধারা প্রায় অনেকের অজানা থাকে। যখন তারা কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন, তখন দেখা যায়, জীবনের সব সঞ্চিত সম্পত্তি হারিয়ে পথে বসতে হয়।”
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এক ভবন মালিক কামরুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, “আমি ভেবেছিলাম ভবন তুললে ফ্ল্যাট ভাড়া বা বিক্রি করে ঋণ শোধ করতে পারবো। ব্যাংক থেকে ৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু বাজার মন্দা, ফ্ল্যাট বিক্রিও হয় না, ভাড়াটিয়াও নাই। এখন মাসে মাসে কিস্তি শোধ করতে গিয়ে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। হয়তো একদিন এই বাড়িটাই ব্যাংকের হাতে তুলে দিতে হবে।”
নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাইসুল ইসলাম সোহান ও আশুলিয়া আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঋণনির্ভর ভবন নির্মাণ আশুলিয়ার জন্য আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে সুউচ্চ ভবন আধুনিকতার প্রতীক হলেও এর আড়ালে রয়েছে ঋণের ফাঁদ, চড়া সুদের চাপ আর ভিটামাটি হারানোর আশঙ্কা।
এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন, সুউচ্চ ভবন আশুলিয়ার আধুনিকায়নের প্রতীক হলেও এর সঙ্গে মানুষের স্বপ্নভঙ্গ, ঋণের বোঝা আর সুদের ফাঁদও জড়িয়ে আছে। ব্যাংক ঋণ নির্ভর এই উন্নয়ন কতটা টেকসই হবে সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এমএসএম / এমএসএম
হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার