রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের সুরক্ষার ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার ওপর একশনএইড এর গবেষণা
ঢাকার গুলশানের হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরীতে একশনএইড এর উদ্যোগে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের সুরক্ষার ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষার ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল নিয়ে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই সভায় একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের জন্য জরুরি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুতির অষ্টম বছরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী মেয়েদের জীবনযাত্রায় বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, সব ক্যাম্পেই যৌন হয়রানিকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং মাত্র ৭% নারী স্বাধীনভাবে আইনি সহায়তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী (৪৮%) মনে করেন পুরুষ ও ছেলেদের জন্য কাউন্সেলিং জরুরি। সভায় একশনএইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড এনগেজমেন্ট কাজী মোর্শেদ আলম স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সংস্থার হেড অব হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম মো. আব্দুল আলীম মানবিক কর্মসূচির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। গবেষণার মূল তথ্য ও ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থার পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার তামাজের আহমেদ। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী মেয়েদের সুরক্ষার বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন। ফারাহ কবির তার বক্তব্যে বলেন, এই গবেষণায় আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীরা আজ বহুমুখী ঝুঁকির মুখে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, এই সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়, বরং এটিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামগ্রিকভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। আলোচনায় উঠে আসে যে বাল্যবিবাহ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারী ও মেয়েদের চলাফেরার সীমাবদ্ধতা শুধু প্রথাগত পুরুষতান্ত্রিকতার কারণেই নয়, বরং ক্যাম্পগুলোর ভিতরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের সীমাবদ্ধতার কারণেও ঘটছে। এই গবেষণার মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে জেন্ডার-সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। উল্লেখ্য, একশনএইড ইউকে ও পিপলস পোস্টকোড লটারির অর্থায়নে অগ্রযাত্রার সহযোগিতায় গবেষণাটি পরিচালনা করে একশনএইড বাংলাদেশ। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। ক্যাম্পের ভিতরে নারীদের জন্য যথাযথ আলোর ব্যবস্থাসহ সুরক্ষিত জেন্ডারভিত্তিক পৃথক শৌচাগার ও গোসলের স্থান নিশ্চিত করা, নারী নিরাপত্তা কর্মী ও নারী নেতৃত্বাধীন সুরক্ষা কমিটি গঠন করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য কমাতে স্বাধীন আইনি সহায়তা ডেস্ক স্থাপন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম জোরদার করা, পুরুষ ও ছেলেদের জন্য সচেতনতা ও কাউন্সেলিং কর্মসূচি চালু করা এবং নারীবান্ধব স্থান, শিক্ষা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করার মতো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
বজ্রপাতে ৮ জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু
ধামইরহাটে জামায়াতে ইসলামী যুব দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত
পূর্বধলায় এমপির গাড়ি ভাঙচুর মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘মিথ্যা আসামি’ করার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধায় বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু
কসবায় সাংবাদিক হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার
উলিপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ভোগান্তি ছাড়াই কৃষি কার্ডে জ্বালানি তেল পাচ্ছেন রাণীনগরের কৃষকরা
নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে ঘুষির আঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু
ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক
হোমনায় গাঁজাসহ দুই যুবক-যুবতী গ্রেফতার
গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়ায় নারীকে মারধরের অভিযোগ, বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
দাউদকান্দিতে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার