সব লোকে কয় কী জাত সংসারে: গবিতে লালনের স্মরণোৎসব
সূর্য তখন ঢলে পড়ছে পশ্চিম আকাশে। ট্রান্সপোর্ট চত্বরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এক অদ্ভুত শান্ত সুর “সব লোকে কয় কী জাত সংসারে…” এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়, শহরের কোলাহল পেরিয়ে যেন লালনের আখড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়। বাতাসে লালনের গান, চোখে মোমের আলো, মুখে মুখে একটাই মন্ত্র মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
এই ভাবের মেলায়, লালন স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু)। বিকেলের আলোর মতোই মায়াময় সেই আয়োজনের আবেশে ভরে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
ঊষার আলোর মতোই এই আয়োজনটি ছিল এক ধরণের মিলনের কথা। ট্রান্সপোর্ট চত্বর ভরে উঠেছিল দর্শক, লালনভক্ত। মঞ্চে কণ্ঠ মিলিয়েছেন অনেকে; সুরের ওই মেলায় মিশে ছিল ভক্তি, ভালোবাসা আর একাত্মতার সুর। ছাত্রের গলায়, শিক্ষকের চোখে, এবং দর্শকের নিঃশ্বাসে লালনের গানের কাব্য যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এক সময়ের লোককথা, আজকের প্রশ্ন, আগামীকালের আশা।
মঞ্চে একের পর এক সুর তুলছেন শিক্ষার্থীরা ‘তিন পাগলে হলো মেলা’, ‘আছে যার মনের মানুষ মনে তোলা’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’। সেই গানের ভেতর দিয়ে যেন ফিরে আসছিল লালনের দর্শন মানুষ, ভালোবাসা, ও সমতার প্রতিধ্বনি।
সুরে ভরা সেই মুহূর্তগুলোতে ক্যাম্পাস যেন থেমে গেল; পাঠশালার টাইমটেবল, পরীক্ষার চাপ, রুটিনের দৌড় সবই হঠাৎ এক প্রকার নির্বাসিত। মঞ্চ চত্বর জুড়ে মিলল এমন এক মিলন যা অক্ষরে অক্ষরে ঘোষণা করে সংস্কৃতি ক্ষণস্থায়ী উৎসব নয়; এটি মনের সঙ্গে মনের ঘনিষ্ঠ আলাপ। কেউ হাততালি দিয়ে সুরের সঙ্গে তাল মিলালেন, কেউ বা চোখ বুজে গীবতলা করলেন ভাবনার ঢেউকে ছোঁয়াতে। যাদের কণ্ঠে গাইলেন, তাদের কণ্ঠে ছিল শ্রদ্ধা; শ্রদ্ধার সঙ্গে মিশেছিল প্রতিবাদের নীড়ানন্দ লালনের সেই বেদনা ও আশা, যেগুলো দিনে রাতে ঘোরে।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও উৎসবের আলো নিভেনি। কারও চোখ বুজে ভাবের দুলুনি, কারও কণ্ঠে সুরের অনুরণন, আর চারদিকে হাততালির ঢেউ। একাডেমিক ব্যস্ততার ফাঁকে শিক্ষার্থীরা যেন পেয়ে গেলেন এক টুকরো বিশ্রাম, এক মুহূর্তের প্রশান্তি, যেখানে পড়াশোনার ক্লান্তি মিলিয়ে গেল ভাবের আলোয়।
গকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মারুফ বললেন, “আজ গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে এটি আমাদের প্রথম আয়োজন। ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্নের মতোই আমরা চাই, ‘গ্রামবাংলার সংস্কৃতি’ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসুক, আর শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামানও যেন হারিয়ে গেলেন সেই সুরে। বললেন, “লালনের গান শুনলে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগে। তার দর্শন আমাদের শেখায়, মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। চাই, এই আয়োজন সেই ভালোবাসার সেতুবন্ধন হোক।”
সহকারী রেজিস্টার এনামুল হক মনে করিয়ে দিলেন, “লালন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী মানুষ। জাত, ধর্ম, গোঁড়ামির ওপরে তার দর্শন এখনো প্রাসঙ্গিক। আমরা চাই, সেই শিক্ষার আলোয় গবির পরিবেশ আরও মানবিক হয়ে উঠুক।”
গকসুর ভিপি মৃদুল দেওয়ানের কণ্ঠে ছিল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, “সাত বছর পর গঠিত হলো নতুন ছাত্র সংসদ। এই আয়োজন আমাদের সূচনা। আমরা চাই, সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে গবির শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাক।”
জাতীয়ভাবে পালিত লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে আয়োজিত এই স্মরণোৎসবে অংশ নেয় বিভিন্ন বিভাগের শত শত শিক্ষার্থী। কারও হাতে গিটার, কারও কণ্ঠে সুর, কেউ আবার নিঃশব্দে শুনছেন, ভেতরে ভেতরে ভাবের আলোয় আলোকিত হচ্ছেন।
সন্ধ্যা যখন পুরোপুরি নেমে এল, তখনও চত্বরে গাইছিলেন এক শিক্ষার্থী “এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে…”বাতাসে ভাসছিল লালনের সুর, আর তার সঙ্গে মিশে ছিল এক অনুচ্চারিত প্রশ্ন- সমাজ বদলায়, কিন্তু মানুষ বদলায় কতটা?
এমএসএম / এমএসএম
জাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বামপন্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে তরুণদের প্রতিনিধি রাবি শিক্ষার্থী
সার্ক শক্তিশালী হলেই, শক্তিশালী হবে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি
ইবিতে হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি
ডিআইইউ-তে ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা
প্রাণিস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি দিবসে গবির শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত দিন
শেকৃবিতে তিন দিনে ভর্তি ৪১৪ শিক্ষার্থী, ফাঁকা ২৯১ আসন
কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে শেকৃবি-হকৃবি’র সমঝোতা চুক্তি
চবিতে চালু হলো অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম
রাবিসাসের নতুন কমিটি গঠন, নেতৃত্বে কাদির-মাহবুব
ইবির সঙ্গে রেললাইন সংযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে - আইন মন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা