মোহনগঞ্জে শীতলপাটির পেশা বদলাচ্ছেন কারিগররা
মুরতা নামের বিশেষ এক ধরনের বেত দিয়ে কারিগরদের নিপুন হাতের বুননে তৈরি হয় শীতলপাটি।গরমে শীতল পরশের জন্য বেড়ে যায় এক কদর। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এর কদর কমে আসলেও ঐতিহাসিক শিল্পটি আঁকড়ে ধরে রেখেছেন নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে বেশ কয়েকটি গ্রামের কারিগররা। বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে পাটি বুনবুনের সঙ্গে জড়িত ৬টি গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার।
মোহনগঞ্জ উপজেলার ৩নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের জৈনপুর, কেন্দুয়া, ভাটাপাড়া, রঘুরামপুর,নওগাঁও এবং ২নং বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের হাতনী গ্রামে বোনা হয় শীতলপাটি। নয়নতারা, আসমান তারা, শাপলা, সোনামুড়ি,টিক্কসহ বিভিন্ন বাহারি নাম রয়েছে। এসব শীতলপাটি। অভিজাত পাটি হিসেবে পরিচিত লালগালিচা,ধাধুলি, ও মিহি। বুননের মাধ্যমে পাটিতে পৌরাণিক কাহিনিচিত্র,পাখি,ফুল,লতাপাতা বা অন্যান্য জ্যামিতিক নকশা ও চিত্র তুলে ধরেন কারিগররা।
শীতলপাটির প্রধান কাঁচামাল 'মুরতা বেত'। এ বেত পরিপক্ব হলে পানিতে ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পাটি তৈরির উপযোগী করতে হয়। পরিবারের গৃহিণীরাই মূলত পাটি বোনার কাজটি করেন। পুরুষরা বেত সংগ্রহ ও পাটি বিক্রির বিষয়টি দেখভাল করে থাকেন।
শীতলপাটি বুননের জন্য বিখ্যাত বরে মোহনগঞ্জের হাতনী গ্রামটি পরিচিত পেয়েছেন 'পাটিপল্লী' হিসেবে। এখনো এ গ্রামের শতাধিক পরিবার শীতলসহ বিভিন্ন ধরনের পাটি বুননের সঙ্গে জড়িত।
রেখা দত্ত নামের কারিগর জানান, একটি শীতলপাটির দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে চাহিদা মাফিক পাটি তৈরি করতে চাইলে খরচ আরও বেশি পড়ে।
১৫ বছর ধরে পাটি বুনন করেন শাপলা রাণী সরকার। শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া জানালেন তিনি।পাটি কোমল ও মিহি করতে বেতগুলো সিদ্ধ করে নিতে হয়।এ ছাড়া নকশা ফুটিয়ে তুলতে হলে রং করতে হয়। মাফ ও নকশাভেদে একেকটি পাটি তৈরি করতে ১৫-২০ দিন,এমনকি ১ থেকে দের মাসও সময় লাগে।
জৈনপুর গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্র সরকার জানান, একটি ৪ হাত বাই ৫ হাত শীতলপাটি তৈরিতে কমপক্ষে ১৬০টি মুরতা বেতের জন্য প্রয়োজন পড়ে। এর দাম পড়ে প্রায় ৪৫০ টাকা। এর বাইরে রং বাবদ আরও খরচ হয় ২৫০ টাকা। পরিবহন খরচসহ সব মিলিয়ে একেকটি পাটির পিছনে যে পরিমাণ খরচ হয়,বিক্রি করে লাভ খুব কমই হয়।
প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন সামগ্রিক বাজার দখলের কারণে পাটির বিক্রি কমে এসেছে বলে জানালেন, ব্যবসায়ী বিশ্ব চন্দ্র কর।তিনি বলেন, 'পূর্বপুরুষরা করে গেছেন, তাই আমি এ ব্যবসা বাদ দিতে পারছি না। বর্তমানে বাজারে শীতলপাটির তেমন চাহিদা নেই। কারিগরদের এ পেশায টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।'
অনেকে বাধ্য হয়ে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন বলে জানান,জৈনপুর গ্রামের কারিগর অভিন্দ্র কর, কেন্দুয়া গ্রামের জিতেন্দ্র চন্দ্র কর (৫৫) বলেন,সরকার আমাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও সহজ শর্তে ঋণ দিলে আমরা এ পেশায় টিকে থাকাতে পারব। বনজঙ্গল কেটে চাষাবাদ ও বসতি স্থাপনের কারণে 'মুরতা' বন বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন একই গ্রামের নরেন্দ্র চন্দ্র কর। তিনি বলেন এখন শহর থেকে বেত কিনে আনতে হয়। এতে অনেক খরচ পড়ে যায়। পাটি বানিয়ে বিক্রি করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসিল্যান্ড এম.এ কাদের বলেন, বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন শীতলপাটি। এ পেশায় কারিগরদের সহায়তা করতে একটি এনজিও ঋণ সহায়তা দিয়ে আসছে। এ ছাড়া এ শিল্পের উন্নয়নে মুরতা বাগান তৈরি,উন্নত কারুকাজ সম্পর্কে ধারণা, সহজ শর্তে ঋণ, বাজার সৃষ্টি এবং পাটি কারিগরদের প্রশিক্ষণ প্রদানে সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
বাগেরহাটের ফকিরহাটে চুরি করতে এসে গৃহিণীকে হত্যার অভিযোগ
তারাগঞ্জে জামায়াতের নির্বাচনী স্বাগত মিছিল
নওগাঁয় প্রতীক পাওয়ার পর নির্বাচনী প্রচার নাপ্রচারনা শুরু
গোবিপ্রবি’তে ‘ইনভেস্টমেন্ট ইন ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সাংবাদিকদের সাথে কুমিল্লা-৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডঃ সরওয়ার ছিদ্দীকির মতবিনিময় সভা
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে ভস্মিভুত হয়ে গেল একটি মুদি ও চায়ের দোকান
নেত্রকোনায় দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত
সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতাকে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু
ঠাকুরগায়ে ১ আসনে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ছোট ভাই মীরজা ফয়সাল আমিনের প্রচারণা
বাগমারায় নিজের মুদিদোকানে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা
দুমকিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে কাবাডি ও দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুর-২ এ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছারছিনা দরবার শরীফে জিয়ারত দিয়ে প্রচারণা শুরু, পরে দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ