ঘোড়াঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রুপ বৃদ্ধি আতংকে পথচারী
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গত কয়েক বছরে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্কুলগামী শিশু,পথচারী এবং সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ভীত অবস্থায় চলাফেরা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার,বলাহার,ডুগডুগি বাজার,হরিপাড়া বাজার বলগাড়ী বাজার,ওসমানপুর,পৌর সভাও উপজেলার আশে-পাশের আবাসিক এলাকাগুলোতে প্রায়ই একসাথে ১৫ থেকে ২০ টি কুকুর দলবেঁধে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলার বিভিন্ন মহল্লা,বাজার ও স্কুলের আশে-পাশে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।বিশেষ করে রাতে এই কুকুরগুলোর আক্রমণাত্মক আচরণে অনেকেই রাস্তায় চলা ফেরায় ভীত হয়ে পড়েছেন। কিছু কিছু কুকুরকে দলবদ্ধ অবস্থায় হামলা চালাতেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জয়নুল আবেদীন বলেন, “প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হলে কয়েকটা কুকুর ধাওয়া দেয়। কিছুদিন আগেই এক শিশুকে কামড়েছে বলেও শুনেছি।” এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে।পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারাভিযান চালানো এবং কুকুরের জন্য নিরাপদ স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ানো রুগীর অভিভাবক উপজেলার কৃষ্ণরামপুর গ্রামের হবিবর বলেন,আমার সাত বছরের বাচ্চা বাড়ির বাইরে খেলার সময় কুকুর কামড় দেয়। হাসপাতালে আসছি কিন্তু শুনি ভ্যাকসিন নাই। বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে ৪৮০ টাকায় ভ্যাকসিন কিনে দিয়ে নিলাম। আরও ৪ টা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার সামর্থ্য থাকলেও অনেকেই আছে যাদের সামর্থ্য নাই। তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হবে ভ্যাকসিন কিনে এর ডোজ পুরা করা।
পশুসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যাভাব ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবেই কুকুরগুলো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই কুকুর পালন করে পরবর্তীতে মালিকেরা ফেলে দেন, যার ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে।এই বেওয়ারিশ কুকুরগুলো প্রায়ই আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে। এ ধরনের বেওয়ারিশ কুকুরদের মধ্যে অনেক সময় জলাতঙ্ক (রেবিস) ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে, যা মানুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।তাই যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও টিকা প্রদান ছাড়া এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।
ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সোলাইমান মেহিদী হাসান জানান, প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে পাঁচ জন কুকুর বা বিড়াল কামড়ানো রুগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু গত এক বছর থেকে রেবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ নাই। উপজেলা সমাসেবা অফিস থেকে ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাতে সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হয়না। ফলে নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনে তা ব্যবহার করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বারবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে আসছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।
Aminur / Aminur
দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ ৫ আসামি গ্রেপ্তার
খুলনা র্যাবের বাগেরহাটে অভিযান ৯ হাজার ৭৩০ পিস ইয়াবাসহ বিক্রেতা গ্রেফতার
কুড়িগ্রামে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা
মোহনগঞ্জে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
১৭ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ৩
মান্দায় বিধবাকে উচ্ছেদে মারপিট, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও কলাগাছ কাটার অভিযোগ
সিংড়ায় শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় বৃক্ষ চারা বিতরণ
আইনজীবীর বিরুদ্ধে বৃদ্ধ, অসহায় শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন
জয়পুরহাট এনসিপির নেতৃত্বে রদবদল, ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রনজু
লাইসেন্সের আওতায় আসছে কুমিল্লার মিশুক-অটোরিকশা, আবেদন শুরু আজ থেকে
নাচোলে ৩২ তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত
রাস্তা না পেয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ; প্রতিবাদে মানববন্ধন