খুলনায় বেতন ও পদ বৈষম্য দূর করতে স্মারকলিপি প্রদান
১১-২০ গ্রেডের কর্মচারিদের বেতন বৈষম্য ও পদ বৈষম্য দূর করতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলদেশ সরকারী কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের খুলনার নেতৃবৃন্দরা।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ ১১-২০ গ্রেড খুলনার সমন্বয়ক নূর মোহাম্মদ ও বিভাগীয় মুখ্য মোঃ শাহীনুর ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারক লিপি সূত্রে, গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটি ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারিদের বেতন বৈষম্য ও পদ বৈষম্য দূর না করে শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বাড়ি থেকে এনে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এতে করে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটির দ্বারা ১১-২০ গ্রেডে কর্মরত কর্মচারিদের বিন্দুমাত্র সফলতা আসেনি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যুক্তি সংগত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসাবে বলা হয়েছে। একজন কর্মচারির পরিবারে ৬ জন সদস্য বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন ৮২৫০ টাকায় ৩ বেলা খাবার, মাথা গোঁজার ঠাই, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, অতিথি আপ্যায়ন ও বিনোদন ব্যয় মিটিয়ে মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে জীবন ধারন করা সম্ভব নয়। এছাড়া ২০ থেকে ১১ গ্রেডের কর্মচারিদের বেতন ৮২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১২৫০০ টাকায় শেষ হয়েছে। এই ১০ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৪২৫০ টাকা একই সময়ে ১০ থেকে ১ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ১৬০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৮০০০ টাকায় শেষ হয়েছে। ১- ১০ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৬২০০০ টাকা। এছাড়াও কর্মকর্তাদের রয়েছে গাড়ী, আবাসিক সুবিধা, সুদমুক্ত গাড়ীর ঋণ, কুক-মশালচি, দারোয়ানসহ নানাবিধ সুবিধা এমনকি সচিব ও সিনিয়র সচিবদের কুক ও গার্ড পদে লোক নিয়োগ দিয়ে সেবা না নিয়ে প্রতি মাসের বেতনের চেকের সাথে ১৬০০০+১৬০০০ = ৩২০০০ টাকা করে প্রদান করাসহ একাধিক সুবিধা প্রদান করা হলেও আমাদের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারিদের বেতন-ভাতাদি খাতে কোন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়নি। ১ম-২০তম গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১০। অথচ আমরা প্রত্যেকেই একই বাজার ব্যবস্থার কাঠামোর আওতায় জীবন ধারণ করি, এতে প্রতিদিন শ্রেণী বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে। ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল ইতোমধ্যে ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক চাকুরীর ক্ষেত্রে পদবী অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা সমানভাবে ভোগ করার কথা থাকলেও সচিবালয়ের বাহিরের দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্বসাশিত প্রতিষ্ঠানের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারিরা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
শুধুমাত্র সচিবালয়ের কর্মরত কর্মচারিদের পদনাম ১৯৯৫ সালে পরিবর্তনসহ গ্রেড পরিবর্তন করে তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, হাইকোর্ট এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারিদের পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারিদের পদবী পরিবর্তন করে তাদেরও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অথচ স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও স্বাধীন দেশের কর্মচারী হিসেবে সচিবালয়ের ন্যায় সচিবালয়ের বাহিরে অন্যান্য দপ্তর ও অধিদপ্তরের কর্মচারিদের পদনাম বা গ্রেডের কোন পরিবর্তন করা হয়নি। উল্লেখিত বিষয় বিবেচনায় সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তর, অধিদপ্তরের কর্মচারিদের পদ-পদবী পরিবর্তনসহ এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
বর্তমান বাজারের দ্রব্য-মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারিদের পরিবার পরিজন নিয়ে কেমন অবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন সে বিষয়ে আপনি অবগত রয়েছেন। প্রতি মাসের প্রাপ্ত বেতন ভাতা দিয়ে কোন কর্মচারিই পরিবার নিয়ে চলতে পারে না। তাই বর্তমানে প্রদত্ত ভাতাসমূহ যেমন মেডিকেল ভাতা ১৫০০ টাকার স্থলে ৫০০০ টাকা করতে হবে। যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকার স্থলে ৩০০০, টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ৩০০০ টাকা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তান প্রতি ৫০০ টাকার স্থলে ৩০০০ টাকা করার দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ৩০% ঝুঁকিভাতার দাবী জানাচ্ছি। বর্তমানে প্রদত্ত বাড়ী ভাড়া ভাতা ৪০% এর পরিবর্তে ৮০% করার দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০% এর পরিবর্তে ১০০% প্রদানসহ আগামী বিজয় দিবস থেকে বিজয় দিবস ভাতা চালুর দাবী জানাচ্ছি। সেই সাথে চাকুরীতে প্রবেশের ব্যাসসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা জরুরী।
স্মারক লিপিতে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে পরিবারের ভরণ পোষণের ব্যয় বৃদ্ধি ও কর্মচারিদের ন্যায্য অধিকার বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল ১:৪, ১২টি গ্রেডের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০/-টাকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে পে-কমিশনের রিপোর্ট প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের দাবী জানানো হয়।
এমএসএম / এমএসএম
গাজীপুরে নারী ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
জুড়ীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ মহড়া
লোহাগড়ায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাজস্থলীতে নারীর প্রতি সহিংসতা রুখতে সচেতনতামূলক কর্মশালা সভা
সিংগাইরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেমিক আটক, বাড়িঘর ভাংচুর
টঙ্গীতে যুবদলের শোডাউন, নাশকতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান
দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য গ্রেফতার
নেত্রকোণায় ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮টি ক্লাব উদ্বোধন
কুড়িগ্রামে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
আদমদীঘিতে মাসিক আইনশৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
রাণীশংকৈলে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ শুরু
ধামরাইয়ে বেহাল সড়কের সংস্কার করলেন নাজমুল হাসান অভি