ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

টাঙ্গাইলে অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে বন


রাশেদ খান মেনন, টাঙ্গাইল photo রাশেদ খান মেনন, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ২-১২-২০২৫ বিকাল ৫:১৯
টাঙ্গাইলে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৬ একর বনভুমি রয়েছে। এই বনাঞ্চল মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, সখীপুর ও মির্জাপুর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই বনাঞ্চলকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকা'সহ সর্বমোট ৫৩৯টি করাতকল রয়েছে, যার মধ্যে অনুমোদন আছে ১৬৩টি, বাকী ৩৭৬টি করাতকল অবৈধ। এই করাতকলগুলোতে প্রতিদিন চিরানো হচ্ছে বনের বৃক্ষ, পাচার হচ্ছে কাঠ, ফলে বৃক্ষশূণ্য হয়ে পড়ছে বনাঞ্চল। স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ অনুমোদনহীন করাতকল মালিকদের জরিমানা করলেও থেমে নেই অবৈধ কাঠ চিরাই ও পাচার। বনাঞ্চল'সহ পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে বন ও পরিবেশ কমিটি। এই কমিটির কর্যক্রম চলছে শুধু কাগজে। সরেজমিনে দেখা যায়, অবৈধ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে কোথাও সামাজিক ও সংরক্ষিত বন ঘেঁষে আবার কোথাও বনের ভেতর। রেঞ্জ ও বিট অফিসের নাকের ডগায় করাতকল স্থাপন করে দিনরাত চলছে বৈধ ও অবৈধ কাঠ চিরাই। অবৈধভাবে সংরক্ষিত বন থেকে শাল-গজারি গাছ কেটে এসব করাতকলে চিরাই করলেই হয়ে যায় বৈধ। অথচ বন আইনে বলা আছে বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ বন বিভাগের লোকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে করাতকল স্থাপন করা কোনোভাবেই সম্ভব না। প্রাকৃতিক বন থেকে শাল-গজারি বিলুপ্তির জন্য দায়ি অবৈধ করাতকল। করাতকলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মিল চালানোর ক্ষেত্রে নীতিমালা মানছেন না করাতকলের মালিকরা। অনেকেই ১০-১৫ বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই চালাচ্ছেন করাতকল। করাতকলের চত্বরে মজুত রাখছেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কাঠ কাটার কাজ। কোনো কোনো এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে উঠেছে বেশকিছু করাতকল। এ কারণে শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব অবৈধ করাতকল থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পরিবেশ এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। করাতকল থেকে স্থানীয় বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাসিক চাঁদা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাধীন বনাঞ্চলে মোট ৯টি রেঞ্জ রয়েছে । রেঞ্জগুলো হলো , টাঙ্গাইল সদর রেঞ্জ,ধলাপাড়া রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ, বহেড়াতলী রেঞ্জ, বাঁশতৈল রেঞ্জ, অরণখোলা রেঞ্জ, মধুপুর রেঞ্জ, দোখলা রেঞ্জ ও মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ। এই ০৯ টি রেঞ্জের আওতায় ৩৪ টি বিট, ৩টি সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৯টি উপজেলা সামাজিক বনায়ন কেন্দ্র রয়েছে। মধুপুরে ৪৫ হাজার ৫০০ একর বনাঞ্চলের ৩৫ হাজার একর বৃক্ষশূন্য। আনারস, কলা, ড্রাগন'সহ নানা কৃষি ফসলের খেতে পরিণত হয়েছে বনভূমি। বাকি ১০ হাজার একরও ক্ষয়িষ্ণু। মধুপুর উপজেলায় ৯০টি করাতকল রয়েছে, এর মধ্যে ৭৩টিরই লাইসেন্স নেই। ঘাটাইলের ধলাপাড়া রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট করাতকল রয়েছে ৯০ টি , যার মধ্যে নিবন্ধন নেই ৪৫ টির। পৌরসভা এবং এর আশেপাশের এলাকায় মাত্র ১০ টি করাতকলের নিবন্ধন রয়েছে। ঘাটাইলে সামাজিক ও সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭১১ একর। এই ভূমি দেখভালের জন্য রয়েছে বন বিভাগের একটি রেঞ্জের আওতায় ছয়টি বিট অফিস। উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের দেওজানা বাজার করাতকল মালিক ইদ্রিস আলী জানান, বনের ভিতর মিল চালানো অবৈধ। আমার মিলের কোন কাজ পত্র নেই, তাই বন বিভাগের লোকজন আসলে সামান্য খরচ দিয়ে চা খাওয়াইয়া বিদায় করি। সংগ্রামপুর ইউনিয়নের মাষ্টার বাড়ী মোড় করাত কলের শ্রমিক বাবুল হোসেন জানান, বন কর্মকর্তারা অভিযানে আসছিলো, বিট অফিসারও টাকা পয়সা ভালই খাইছে তারপরও আমাদের হয়রানি করেছে।
অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে বলে দাবি করেন ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন । সম্প্রতি ছয়টি অবৈধ করাতকল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। সখীপুর উপজেলায় শতাধিক করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে ১২টির লাইসেন্স আছে। সম্প্রতি কয়েকজন লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করেছেন। এছাড়াও কালিহাতী ও মির্জাপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও লাইসেন্স বিহীন করাতকল রয়েছে । হরহামেশাই চিড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন বনজ বৃক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক করাতকল মালিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের স 'মিল চলছে। আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও অনুমোদন পাইনি। তাহলে এখন কীভাবে চলছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করে স'মিল চালাচ্ছি। তাদের মাসিক চাঁদা দেই। জেলা থেকে কোন অভিযান আসলে এরা আমাদের আগেই জানিয়ে দেয়। কাঠ ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা কাঠের ব্যবসা করি। এই ব্যবসা করে আমাদের সংসারের খরচ চলে। মিলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। আমরা দেখি, মাঝেমধ্যে বন বিভাগের লোকজন এসে স'মিল থেকে টাকা নিয়ে যায়। এতে মিল মালিকদের আর কোনো ঝামেলা হয় না।’ একই ধরনের কথা বলেন কাঠ ব্যবসায়ী রফিক ও তৈয়ব মিয়া। পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা’র বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, করাতকল বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী, সংরক্ষিত, রক্ষিত ও সরকারি বনভূমির সীমানা থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন নিষিদ্ধ। এই বিধি লঙ্ঘন করলে জেল জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ করাতকলই অবৈধ। এগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করে মালামাল জব্দ না করলে বনাঞ্চল বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে। পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, জেলায় ৫৩৯ টি করাতকল আছে, এরমধ্যে ১৬৩ টি করাতকলকে বিধি মোতবেক অনুমতি দেয়া হয়েছে, বাকি যেগুলো রয়েছে সেগুলো অবৈধ। এই অবৈধ করাত কলগুলো জেলার ১২ টি উপজেলাতে অবস্থিত, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেয়া হয়েছে, আমরা প্রতি মাসেই অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ করার জন্য অভিযান পরিচালনা করে থাকি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং যৌথ বাহিনী'সহ এই অভিযান পরিচালিত হয়। গত মাসে সাতটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং এ মাসেও একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ করার জন্য পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এমএসএম / এমএসএম

সলঙ্গায় মা-বাবার দোয়া খাবার হোটেলের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে মাদক

মাদারীপুরে পরকীয়ার জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী আটক

হাতিয়ায় শিক্ষা ট্রাস্ট বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধণা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান

ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মজমপুরে শ্রমিক নেতাদের সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দশম শ্রেণির শির্ক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সাভারে শীতার্তদের মাঝে যুবদল নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ

বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৯ শিক্ষার্থীর প্রতীকী পরিবর্তন ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রেসক্লাবে ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা সম্পন্ন

খোলা বার্তা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম : অতিথি সাংবাদিকরা

খাস জমির পথ বন্ধ, সাজানো মামলার ফাঁদ:চিতলমারীতে অবরুদ্ধ ১০টি পরিবার

অনুপস্থিত বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে সুবর্ণচরে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ

দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তিতে কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে প্রধান শিক্ষক

কুমিল্লা সীমান্তে ৭৬ লাখ টাকার ভারতীয় বাজি জব্দ