রায়পুরে রাজনৈতিক প্রভাবে খাল দখল উৎসব: হুমকির মুখে কৃষি ও পরিবেশ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বংশী বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালটি যেন এখন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের জন্য উন্মুক্ত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রহস্যজনক নীরবতা আর প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে একের পর এক মহল খালটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে—যার চূড়ান্ত খেসারত দিচ্ছেন হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে একটি কুচক্রী চক্র খালটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়। সেই দখল উচ্ছেদ না হতেই ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বিএনপির নাম ব্যবহার করে নতুন একটি চক্র পুরো খাল গিলে খাওয়ার অপচেষ্টায় নেমেছে।
২৮ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন আল তাসিন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের অবৈধ ব্রিজের পাশ দিয়ে খালের মাঝখানে পিলার বসিয়ে নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভূইয়ার নাম ভাঙিয়ে ইসলামিয়া হার্ডওয়্যার অ্যান্ড ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক মো. দ্বীন ইসলাম কাজী প্রকাশ্যেই এই দখল কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম কাজী মুঠোফোনে হুমকিসূচক ভাষায় বলেন, “এটা বিএনপির আমল। শফিকুর রহমান ভূইয়াকে চিনেন? আমি তার চাচাতো ভাই। তিনি আমাকে খাল দখলের অনুমতি দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডও অনুমতি দিয়েছে। আপনি কে জানতে চাওয়ার? এখন কোনো সরকার নেই, এখন বিএনপির আমল।”
তবে বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভুঁইয়া বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "আমি রাজনীতি করি কারো সম্পদ লুটে খাওয়ার জন্য নয়। আমি জানিওনা। সে আমার আত্মীয় সম্পর্কের কেউ না৷ ওরে ধরে পিটাইয়া আমার কাছে নিয়ে আসেন। আমি পুরস্কৃত করব।" এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—খাল দখল এখন আর গোপন নয়, বরং রাজনৈতিক শক্তির দাপটে প্রকাশ্যেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রভাবশালীদের দখলে খাল সংকুচিত হয়ে পড়ায় বর্ষা এলেই বংশী বাজার ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে হাজারো কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বছরের পর বছর বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র পাল স্বীকার করে বলেন, “বংশী বাজার সংলগ্ন খালটি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদের তালিকা গত বছরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উচ্ছেদের জন্য ফান্ডও রয়েছে। ডিসি অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পেলে যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান সম্ভব। নতুন করে দখলের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।” তবে প্রশ্ন উঠেছে—যদি তালিকা, ফান্ড ও আইন সবই থাকে, তাহলে বছরের পর বছর দখলদাররা কীভাবে খালের মাঝখানে স্থাপনা নির্মাণ করে? রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “খাল দখলের বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আইনগত ব্যবস্থা কি এবারও কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে খাল উদ্ধার করা হবে?
এমএসএম / এমএসএম
চৌগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক নারীর আত্মহত্যা
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নরসিংদীতে ৯ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে শ্রমিক দল নেতার মাদক সেবনে ছবি ভাইরাল হওয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাংচুয়ালিটি বর্ষপূর্তি উদযাপন
মাদক কারবারীদের বাড়ীতেই ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে সাজা দিলেন ইউএনও
কেশবপুরে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি
শেরপুরে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে সোমবার
রায়গঞ্জে অবৈধভাবে জমির নামজারি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে
আসলেন জয় করলেন চলে গেলেন ইউএনও মাহামুদুল হাসান
সুন্দরবনে ড্রোন অভিযানে বিষ দিয়ে মাছ ধরা পন্ড, নৌকাসহ বিষ জব্দ
লালমনিরহাটে ভোল বদল রাজনীতির কারিগর সোহরাবের আঃলীগ থেকে পদত্যাগ