হাঁড় কাপানো শীতে স্থবির চৌগাছার জনপদ
ঘন কুয়াশা, হাঁড় কাপানো শীত সেই সাথে মৃদু বাতাস মানুষকে ঘরের চার দেয়ালের মাজে এক প্রকার বন্দি করেছে। শীতের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারাই বাইরে আসছেন তারা কাজ সেরেই ফিরছেন আপন ঠিকানায়। গত দুই দিনে চৌগাছা জুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সব থেকে বেশি কষ্টে আছেন সমাজের হতদরিদ্র মানুষ ও বাড়িতে পালন করা পশুপাখি।
গত দুই দিন চৌগাছার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবহ। দিনের পুরোটা সময় জুড়ে শুধুই শীত, দেখা মিলছে না সূর্যের। দিন শেষে রাত এলে শীতের তীব্রতা যেন আরও বেড়ে যাচ্ছে। নিদারুন কষ্টে প্রতিটি মানুষের সময় পার হচ্ছে। শীতের কারনে সেবা নেয়া মানুষের উপস্থিতি অফিস গুলোতে ছিল খুবই কম। কাজের সন্ধানে যারা সকালে বাজারে এসেছেন কাজ না পেয়ে ফিরেছেন বাড়িতে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন ব্যবসায়ীরা কিন্তু ক্রেতা সংকটে দুপুরের পরপরই অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।
সোমবার হাটের দিন দুপুর ১২ টার দিকে চৌগাছা বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অন্য যে কোন দিনের তুলনায় সোমবার হাটের দিন থাকা সত্তেও বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ী হচেন আলী, রতন কুমার দে, মহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যথা সময়ে খুলেছি কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে যাচ্ছে ক্রেতা নেই বললেই চলে। বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ ডবলু বলেন, খুব সকালে সবজি কিনে বিক্রির জন্য বসে আছি কিন্তু বিক্রি নেই। হাটচাঁদনিতে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন শারীরীক প্রতিবন্ধি সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শীতের কারনে আজ সোমবার হাটের দিনেও দোকানে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষ বাজারে আসেনি তাই বেচা কেনায় মন্দা ভাব।
দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে চৌগাছা বাজারের প্রাণকেন্দ্র পৌর লাইট চত্তরে এসে দেখা গেছে, অনেকটাই জনশুন্য। অথচ এই স্থানটিতে দিন কিংবা রাত সারাক্ষনই মানুষের সরব উপস্থিতি থাকে। শীতের কারনে মানুষ আসেনি বাজারে। কথা হয় ভ্যান চালক আব্দুর রশিদের সাথে, তিনি বলেন, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫শ টাকা রোজগার হয় কিন্তু আজ শীতের কারনে আয় হয়নি, কোন যাত্রি নেই সড়কে বসে আছি যাত্রীর অপেক্ষায়। ইজিবাইকচালক সুমন হোসেন বলেন, শীতের কারনে মানুষ যখন কিছুটা উষ্ণতা খুজছে ঠিক সেই সময়ে জীবিকার সন্ধানে বাইক নিয়ে চলে এসেছি বাজারে কিন্তু যাত্রী না থাকায় সকাল থেকে বসেই আছি।
পৌর এলাকার পাঁচনামনা গ্রামের আতিকুল ইসলাম বলেন, দুইটি গাভী ও বেশ কিছু ছাগল পালন করছি। গাভী দুটি দুধ দিচ্ছে এই শীতে তারা এবং বাছুর গুলো বেজায় কষ্টে আছে। তাদের শীত নিবারনে বস্তা গায়ে বেধে দিয়েছি তারপরও শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গরু ছাগলসহ হাঁস মুরগী।
এ দিকে প্রচন্ড শীতের কারনে ইরির ভরা মৌসুমে ধান রোপনের কাজ থেমে গেছে। শীতের কারনে কোন মানুষই মাঠে নামতে পারছে না। যারা ইতোমধ্যে ধান রোপন করেছেন তারা দুঃশ্চিন্তায় আছেন চারা বাচিয়ে রাখতে। একই সাথে বীজতলার চারাও নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, প্রচন্ড শীতে যারা এরই মধ্যে রোপন কাজ শেষ করেছেন তারা জমিতে প্রতিদিন পানি দিবে এবং বীজতলাতেও পুরাতন পানি বের করে নতুন ভাবে পানি দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মু. আহসানুল হক রুমি বলেন, এই শীতে পরিবারের শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত রোগ সর্দি, কাশি, স্বাশকষ্ট ও কোল্ড ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিবারের শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের দিকে সকলের বাড়তি নজর দিতে হবে এবং সারাক্ষনই উষ্ণতায় থাকার চেষ্টা করতে হবে।
এমএসএম / এমএসএম
জুড়ী বড়লেখার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে- এমপি মিঠু
নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-মাদকের অভিযোগ
বাগেরহাটে গান গাইতে না পারায় শিক্ষকের লাঠির প্রহারে শিক্ষার্থী আহত, বিচার দাবি অভিভাবকের
পাঁচবিবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিদায় সংবর্ধনা
পাঁচবিবিতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ, আটক-১
"রাণীনগরে বিদ্যুৎতের যাওয়া আশাই উৎপাদনে ব্যাহত ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা চাষীদের
ঘোড়াঘাটে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক
শ্রীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্কুল শিক্ষকের
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় অপহৃত রাকিবুলকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন
ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রশাসক নিয়োগ স্থগিত করে হাইকোর্টের রুল
সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া বন গবেষণা কেন্দ্রের ২০০ একর বনভূমি উদ্ধার