সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন ঝুলছে গাছে
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া 'সহ শীতজনিত রোগীর চাপে চিকিৎসক-নার্সরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আসনের তুলনায় কয়েকগুণ ভর্তি রয়েছে। ফলে রোগীদেরকে বাইরে রেখে গাছের সঙ্গে স্যলাইন ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধ সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ড না থাকায় আক্রান্ত রোগীদের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের অধিকাংশই শিশু ও প্রবীণ। টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে আসন রয়েছে ১৩টি। রোগী ভর্তি রয়েছে ১২৫ জন। এরমধ্যে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ১৬ জন এবং রোববার (১১ জানুয়ারি) ভর্তি হয়েছেন ১০৯ জন। এ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে সাধারণ ১০টি এবং পেইং ১০টি মোট ২০টি আসন রয়েছে। হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জন এবং রোববারের ভর্তি রোগী রয়েছেন ৪১জন। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ডায়রিয়া আক্রান্তদের জন্য কোনো ওয়ার্ড নেই। ঠান্ডা জনিত রোগীদের মধ্যে যারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তাদেরকেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। সরাসরি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের তারা পাশের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ওয়ার্ডের ৪২টি আসনের বিপরীতে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৩৪ জন এবং রোববারের ভর্তি রোগী রয়েছেন ৩২ জন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীতজনিত রোগীর চাপে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা হিমশিম খাচ্ছে। জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বিছানা, ফ্লোর ও বারান্দায় অসংখ্য রোগী। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের আঙিনায় ছোট ছোট গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রোগীদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তারা বেশিরভাগ সময়ই হাসপাতাল থেকে ওষুধ পাচ্ছেনা। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্যালাইন ও ২-৪ টি ট্যাবলেট ছাড়া জরুরি ওষুধগুলো সরবরাহ করছেনা। বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে অধিক দামে ওষুধ কিনছে। এর মধ্যেও রয়েছে হাসপাতাল কেন্দ্রিক ওষুধ ব্যবসায়ী দালালদের আনাগোনা। কালিহাতী থেকে আসা এক রোগীর স্বজন রকিবুল হাসান জানান, শিশুর ডায়রিয়া হওয়ায় তিনি রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে তার রোগীকে কোনো আসন বা বিছানা দেওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে মাদুর এনে হাসপাতালের অঙিনায় বিছানা পেতে রয়েছেন। সেখানে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তার রোগীকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বাকি ওষুধগুলো তিনি বাইরের দোকান থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনেছেন। দেলদুয়ারের আমিনুল, বাসাইলের নাজমুল ইসলাম, সদর উপজেলার আকরাম আলী সহ বিভিন্ন রোগীর স্বজনরা জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র স্যালাইন ও ২-১টি ট্যাবলেট দিয়ে থাকে। বাকি সব ওষুধ বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে ভালো চিকিৎসা হয় জেনে তারা এসেছিলেন। কিন্তু সেখানে ডায়রিয়ার কোনো রোগীই ভর্তি না করে জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি, চরম ওষুধ সংকট ও অব্যবস্থাপনায় তাদের নাভিশ্বাস ওঠে গেছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর স্বজন শহিদুল ও রাজিব বর্মণ নামে দুইজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ২-১টি ওষুধ দেন। সবই বাইরে থেকে সরবরাহ করছেন। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা-আবর্জনায় ভরে থাকে। স্যালাইন, ন্যাকিন, সূঁচ সহ সিরিঞ্জ, গজ-ব্যান্ডেজ হাসপাতালের পরিত্যক্তস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। হাসপাতালে ঢুকলেই উৎকট গন্ধে অবস্থান করা দূরূহ হয়ে পড়ে। টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা বাইরে রোগী রাখতে বাধ্য হয়েছেন। যেসব রোগী বাইরে রয়েছে তাদেরকে হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও নেওয়া যাবে। ওষুধের ঘাটতি পুরনোর জন্য কিছু আনা হয়েছে এবং আরো ওষুধের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এরপর আর ওষুধের ঘাটতি থাকবেনা। তিনি জানান, হাসপাতালে ১৭৮ টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছে ৪৪জন। ওই স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বাড়তি রোগীর চাপ সামলানো কষ্টকর। তারপরও রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, তাদের ওখানে ডায়রিয়া ওয়ার্ড না থাকায় রোগী এলে তাদেরকে পাশের জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে ৪২টি বিছানার বিপরীতে ৬৬জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময়ে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট নিত্য নৈমিত্যিক বিষয় হওয়ায়, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তাদের হাসপাতালে ওষুধের কোন ঘাটতি নেই- স্টোরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ রয়েছে। রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
Aminur / Aminur
কুড়িগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ উলিপুর সরকারি কলেজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ড. সফিকুল ইসলাম
শালিখায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
শিবচরে অসুস্থ স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
বাউফলে বিএনপি কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ
নোয়াখালীতে সাংবাদিকদের পেশাগত সম্প্রীতি বৃদ্ধির প্রত্যয়ে মিলনমেলা
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাকের শামস খান হিমু জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী
সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন ঝুলছে গাছে
কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ
জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী
শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার