ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারে সয়লাব চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক


সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া photo সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া
প্রকাশিত: ৩১-১-২০২৬ দুপুর ২:৫৯

বাড়ছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর মিছিল
পথে পথে চাঁদাবাজির অভিযোগ
দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন চলাচলে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা মানছেনা চালকেরা। এসব নিষিদ্ধ থ্রী হুইলারে সয়লাব চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক। ফলে বাড়ছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। এসব মহাসড়কের ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার নিরবতা ও যোগসাজসে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব নিষিদ্ধ যান সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। 
সরকারি সিদ্ধান্তের ১১বছর পেরিয়ে গেলেও মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক) ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না দায়িত্বশীলরা। ফলে, সড়ক, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। এনিয়ে জনমনে আতঙ্কের পাশাপাশি সমানতালে চলছে তীব্র সমালোচনা।   সড়ক  নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের নির্লিপ্ততা এবং কার্যকর তদারকির অভাবে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না। তবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। নিয়মিত চাঁদা দিয়েই সড়কে চলছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যান। নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 
মাঝে মাঝে একাধিবার কর্তৃপক্ষ  মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের চেষ্টা করলেও ঘোষিত সেই সরকারি সিদ্ধান্ত মোটেও বাস্তবায়ন করা যায়নি। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে  মহসড়কে ধীরগতির এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন দুর্ঘটনার বড় কারণ।
এদিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া হাইওয়ে থানা এলাকায় নিষিদ্ধ যান চলাচলের বিষয়ে অকপটে স্বীকার করেন পটিয়া হাইওয়ে থানার  ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো:হারুন। তিনি বলেন এসব যান নিয়মিত চলাচল করলেও প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলমান। আমি আসছি মাত্র ১৫/২০ দিন হলো,এর মধ্যে ৪৩টি মামলা দিয়েছি। সড়কে দুর্ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ যান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি রাস্তা প্রসস্থের দাবি জানান তিনি।
সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে পুলিশের নামে সিএনজি প্রতি দৈনিক ১০০ টাকা নিলে জানুয়ারী মাসে বেড়েছে চাঁদার পরিমান। বর্তমানে সড়কে ওঠতে গেলেই লাগে ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। পুলিশকে দেয়ার জন্য শ্রমিক নেতারা এসব টাকা তুলছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক এই তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, কর্ণফুলী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চকরিয়া, চিরিংগা, মালুমঘাট অংশের চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক ও অলিগলিতে সিএনজি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। মাসিক টোকেনের মাধ্যমে মহাসড়কে হাজার হাজার থ্রী হুইলার আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। টাকার বিনিময়ে অবৈধ অটোরিকশা ও চালককে বৈধতা দিচ্ছেন কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
অনুসন্ধানে ওঠে আসে নিষিদ্ধ যানবাহনের টোকেন বাণিজ্যের নেতৃত্বে আছেন চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন, কর্ণফুলী থানা অটোরিকশা অটো টেম্পু ও ফোর স্ট্রোক শ্রমিক কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি, কাঞ্চনা ফুলতলা ডলুব্রিজ অটোরিকশা ও সিএনজি মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি, গ্রাম অটোরিকশা অটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন, ডলুব্রিজ অটোরিকশা সিএনজি মালিক সমবায় সমিতি ও অঞ্চলভিত্তিক কিছু নেতা। 
এবিষয়ে চিরিংগা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ”সড়কে নিষিদ্ধ যানের বিষয়ে আমার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর, আমার এলাকা হচ্ছে কক্সবাজার জেলা গেইট থেকে শুরু হয়ে ফাঁসিয়াখালী ঝরঝরি ব্রিজ পর্যন্ত, প্রায় ২৯ কি.মি.। আমি গত ১বছরে নিষিদ্ধ যানের অভিযান ও সড়ক দুর্ঘটনাসহ সব মিলে প্রায় ৩০০০ মামলা করেছি। শুধু দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা আছে হাজারের অধিক এবং মামলামতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আছে ৫১জন নিহত ১২জন নিয়মিত মামলা আছে ১২টির মতো। 
চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের  মালুম ঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, তার দায়িত্বাধীন এলাকা শুরু ফাঁসিয়াখালী উত্তর থেকে দক্ষিণ ঈদগাহ পর্যন্ত,তার ১বছরের মধ্যে মালুম ঘাট হাইওয়ে থানা এলাকায় ২১টি প্রাণহানির ঘটনা ঘঠেছে,আহত হয়েছে ১৫জন। আর গত ১বছরের সড়ক দূর্ঘটনায় গাড়ী জব্দ হয়েছে ২৮টির মত। তিনিও নিষিদ্ধ যানের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন এবং অভিযানের বিপরীতে মামলাও দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। 
অপর একটি সূত্র জানায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের জেলা এলাকায় হাজার হাজার অনিবন্ধিত সিএনজি টমটম নির্বিঘ্নে রাস্তায় চলাফেরা করছে। এসব অবৈধ সিএনজি চলাচলে প্রশাসনের ঝামেলা এড়াতে মালিক ও চালকরা শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা দিয়ে রাস্তায় চলাচলের বৈধতা নেন। ফলে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও আর কোন আইনগত ঝামেলা পোহাতে হয়না। এর ফলে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব অন্যদিকে অনভিজ্ঞ চালকের দৌরাত্ম্যে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা একেরপর এক নাম যোগ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। 
শ্রমিক সংগঠন ও সমিতিগুলো মাসে মাসে একেক রংয়ের এসব স্টিকার কোথায় পায় জানতে চাইলে ড্রাইভাররা বলেন, ট্রাফিক পুলিশই মূলত এসব স্টিকার সমিতিকে দেন। এই টোকেন থাকা মানে মহাসড়কে চলার বৈধতা। আর কোনো বৈধ কাগজপত্র লাগে না তাদের।
ট্রাফিক পুলিশ গাড়ির লাইসেন্স চেক করেন কিনা জানতে চাইলে সিএনজি ড্রাইভার  বলেন, ‘গাড়ি চালাচ্ছি গত ৪ বছর হবে কখনো কাগজ দেখতে চাইনি। তবে প্রতি মাসে মাসে টোকেন ঠিকই চেক করেন।’
টাকা নেওয়ার কথা বরাবরই অস্বীকার করছেন ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। তারা বলছেন, মহাসড়কে কোনোভাবেই তিন চাকার যান চলতে দেওয়া হবে না। তবে মাঠের তথ্যের সঙ্গে কথায় আর কাজে আসমান-জমিন ফারাক পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এবিষয়ে কেরানী হাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমি সবমিলিয়ে সড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে ৩ হাজারেরও অধিক মামলা দিয়েছি। নিষিদ্ধ যান চলাচল বন্ধে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। 

 

Aminur / Aminur

ঠাকুরগাঁওয়ে চার হাজার ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

নন্দীগ্রামে মটরসাইকেল ও ভুটভুটির মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

মোরেলগঞ্জে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখলের অভিযোগ

মদন পৌরসভায় বিএনপির ধানের শীষের নির্বাচনী গণসংযোগ

সরিষাবাড়ীতে সেনা অভিযানে শর্টগান ও গুলিসহ যুবক আটক

মানিকগঞ্জে টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

‎সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ভারতীয় বিড়িসহ ২ জন আটক

তিনটি দল দেশটাকে লুটেপুটে খেয়েছ, এবার দাঁড়িপাল্লাকে সুযোগ দিতে হবে: মিয়া গোলাম পরোয়ার

নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ভোলায় ইসি মো.সানাউল্লাহ

নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারে সয়লাব চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

দ্বিতীয় বিয়েতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীর মুখে ছুরিকাঘাত যুবলীগ নেতার

কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আর দেখতে চাই না: জামায়াত আমির

আগামী নির্বাচনে কেউ ভোট হরণ করতে চাইলে রুখে দেয়া হবে: আদমদীঘিতে আসিফ মাহমুদ