ঢাকা সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সন্তান জন্মের পর শোকর ও সন্তুষ্টি


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭-২-২০২৬ দুপুর ১০:৫১

সন্তান আল্লাহর অনেক বড় নেয়ামত। দুনিয়ার জীবনে সন্তান চোখের শীতলতা ও দুর্বলতা এবং বার্ধক্যে ভরসা হয়। সন্তানকে নেক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে সে দুনিয়া ও আখেরাতে সওয়াবের কারণ হয়। মৃত্যুর পরও নেক সন্তানের কারণে মানুষের সওয়াব জারি থাকে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আদম সন্তান যখন মারা যায় তখন তার সব আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিন প্রকার আমল জারি থাকে-
১. সদকায়ে জারিয়া (উপকার অব্যাহত থাকে এ রকম সদকা; যেমন মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করে দেওয়া ইত্যাদি)।
২. ইলম বা জ্ঞান, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে।
৩. নেক সন্তান, যে তার জন্য নেক দোয়া করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম)
রাসুল (সা.) আরও বলেন, কোনো কোনো ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে বলবে আমি এত মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম? তাকে বলা হবে তোমার সন্তানের দোয়া ও ইস্তেগফারের কারণে তুমি এত মর্যাদা পেয়েছ (সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)। তাই যখন কারও সন্তানের জন্ম হয়, তার উচিত খুশি হওয়া এবং আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করে সেজদায় লুটিয়ে পড়া। নবীজি (সা.) কোনো খুশির সংবাদ পেলে সেজদায় লুটিয়ে পড়তেন (সুনানে আবু দাউদ)। ছেলেমেয়ে যাই হোক, বাবা-মায়ের উচিত তার জন্মে খুশি হওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা। অনেক সময় বাবা-মা আশা করে থাকেন ছেলে হবে এবং মেয়ে হলে হতাশ হন, এটা সমীচীন নয়। মেয়ে হওয়ার কারণে মায়ের নিন্দা করা, তাকে দোষারোপ করা মূর্খতা এবং অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
এগুলো ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের কাফেরদের বৈশিষ্ট ছিল। কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের এই স্বভাবের নিন্দা করে বলেছেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়; তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, সেই দুঃখে সে কওম থেকে আত্মগোপন করে। ভাবে আপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখো, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ’ (সুরা নাহল : ৬৮-৬৯)। মানুষ জানে না কোথায় তার জন্য কল্যাণ রয়েছে। হতে পারে সে মেয়ে চাচ্ছে, অথচ ছেলেই তার জন্য বেশি কল্যাণকর, অথবা ছেলে চাচ্ছে, কিন্তু মেয়ে তার জন্য বেশি কল্যাণকর। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এমনও হতে পারে যে তোমরা যাকে অপছন্দ করছ, তার মধ্যেই আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন।’ (সুরা নিসা : ১৯)
আল্লাহ তায়ালা অনেককে ছেলে ও মেয়ে দান করেন, কাউকে শুধু ছেলে সন্তান দেন, কাউকে শুধু মেয়ে সন্তান দেন আবার অনেককে কোনো সন্তানই দেন না। এটা আল্লাহর ফয়সালা ও তার নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আসমানগুলো ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান’ (সুরা শূরা : ৪৯-৫০)। অর্থাৎ বিশ্বজগতের সবকিছু এক আল্লাহরই ইচ্ছায় পরিচালিত হয়। তিনি যা চান তা-ই হয় এবং যা চান না তা হয় না। অন্য কারও এতে হস্তক্ষেপ করার শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
কাউকে শুধু ছেলে ও মেয়ে দেন, আবার কাউকে করেন বন্ধ্যা; তারা না পায় ছেলেসন্তান আর না পায় মেয়েসন্তান। মানুষের মধ্যে এই পার্থক্য ও তফাত আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কোনো নেয়ামত লাভ করার পর আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা ও শোকর আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা নেয়ামতে বরকত দান করেন। নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। আর নেয়ামতকে গুরুত্ব না দিলে, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ শাস্তি হিসেবে নেয়ামত উঠিয়েও নিতে পারেন। 
কুরআনে শোকর আদায় করলে নেয়ামত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ও অকৃতজ্ঞতার জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় করো তা হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তা হলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।

Aminur / Aminur