ঢাকা শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জনবল সংকটে বিলীন হতে পারে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বন


সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া photo সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া
প্রকাশিত: ৭-২-২০২৬ দুপুর ১২:৪২

দেশের দক্ষিণপূর্ব সীমান্তের ওপারে বার্মার আরাকান রাজ্যের বিশাল পাহাড়, পর্বতমালা থেকে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি, যা বান্দরবানের আলীকদমের ইন্দু, সিন্দু, চকরিয়ার বাইস্যার ছড়া পর্যন্ত ১১৩টি ছোট বড় খাল ও ছড়া নদীতে মিশে গিয়ে মাতামুহুরীকে করে তোলে চির প্রাণযৌবন। আর এই অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে বয়ে চলা  এই নদীর নামেই  রাখা হয়েছে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি মাতামুহুরি।
তবে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নেই পর্যাপ্ত লোকবল। শুধু মাতামুহুরিই নয় পুরো বান্দরবান লামা বন বিভাগেই একই অবস্থা। জনবলের অভাবে বিলীন হতে পারে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্রের ভান্ডার সংরক্ষিত এই বনাঞ্চল। 
তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার লামা বনবিভাগের বিশাল এই বনাঞ্চল রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারা দেয়ার জন্য মাত্র জনবল আছেন ৫জন। মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলটির কাঠ পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম কম হলেও যেকোন সময় সিন্ডিকেট আঘাত হানতে পারে বলে বিশ্বস্ত সূত্্র জানিয়েছে। জনবল সংকটের কারণে এমন আশংকা করছেন। তাই লোকবল বৃদ্ধির কথ জানিয়েছেন অনেকে।
কোন রেঞ্জে কতজন জনবল:
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু মাতামুহুরিতেই নয়, পুরো লামা বনবিভাগেই জনবল  সংকট। বান্দরবান জেলার লামা বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বনবিটের তথ্যমতে, লামার  নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জের  মোট  ২টা বিট রেঞ্জ  সদরসহ  মোট জনবল আছেন  ৫জন, ওই রেঞ্জে তানভীর খলিল নামে এক রেঞ্জার ওই ৫জন দিয়েই বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করেন ও বিভিন্ন কার্যক্রম করতে দেখা যায়, তবুও জনবল সংকট বিষয়টা লক্ষনীয়। আব্দুল মালেকের মাতামুহুরি রেঞ্জে বিশাল বনভূমির জন্য  আছে ৫জন। লামা বনবিভাগের সবচেয়ে বড় রেঞ্জ ডলুছড়ির জন্যও রেঞ্জার হাবিবুল্লাহসহ আছে মাত্র ৫জন। এই রেঞ্জার হাবিবুল্লাহকে বনখেকো রহিম উল্লাহ মেম্বার একবার প্রাণ নাশের হুমকিও দিয়েছিল বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। আবার, বহুল আলোচিত তৈণ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা খোন্দকার আরিফসহ  ওই রেঞ্জে আছেন  মোট  ৫জন।  এই তৈণ রেঞ্জের কেলেংকারী পুরো দেশের বনবিভাগকেই একসময় কলুষিত করেছিল। তবে খোন্দকার আরিফুল ইসলাম রেঞ্জ কর্মকর্তা হয়ে আসার পরে তৈণ রেঞ্জের সেই বদনাম ঘোচাতে শুরু করেছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়। 

আবার একই তথ্য মেলে সাঙ্গু রেঞ্জেও, সেখানে আছে মাত্র  ৩জন। লামা সদর রেঞ্জের বমু রিজার্ভ বিটে আছেন ৪জন। ইয়াংছা ক্যাম্পে ২জন এবং লামা সদরে মাত্র  ৫জন। 
তবে বনবিভাগের এক তথ্যে দেখা যায়, লামা বনবিভাগে ফরেস্টারের পোস্ট আছে মোট  ১২টা, কিন্তু   বর্তমানে আছে ৫ জন। অর্থাৎ  এক পদেই খালি আছে ৭ জন। মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বমু রিজার্ভসহ পুরো লামা বনবিভাগকে পাহারা দেয়ার জন্য হাতে-কলমে ফরেস্ট গার্ড পোস্ট আছে ৪৩টা, তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২জন। 
জনবলের অভাবের বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম, তিনি বলেন শুধুমাত্র লামা বনবিভাগে জনবল সংকট তা নয়, আমার পুরো চট্টগ্রাম সার্কেলেই আছেন মাত্র ৫৪%জনবল। এই শর্ট জনবল নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। 
অপরদিকে বান্দরবান জেলার লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার যা লোকবল আছে তা দিয়ে চলছে তবে, জনবল সংকট আছে কিন্তু সেটা বৃদ্ধির বিষয়টা সম্পূর্ণ কর্তপক্ষের ব্যাপার।
একটি তথ্যে দেখা যায়, লামা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম  কবির আসার  মাত্র ২মাসেই  মোট ২৪ টি বন অপরাধ উদঘাটন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১১ টি যানবাহন, ১২৭০ ঘনফুট জ্বালানি ও ৭৯০ ঘনফুট বিভিন্ন ধরনের গোলকাঠ জব্দ করা হয়েছে।

নদীও মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামকরণ ও উৎপত্তি :
দেশের দক্ষিণপূর্ব সীমান্তের ওপারে বার্মার আরাকান রাজ্যের বিশাল পাহাড়, পর্বতমালা থেকে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি, যা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পাহাড়ি এলাকা কুরুপপাতা ও পোয়া মুহুরী হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। পরে চারটি উপজেলা আলীকদম, লামা, চকরিয়া ও পেকুয়ার মাটি ভেদ করে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরামহীন চলার পথে আলীকদমের ইন্দু, সিন্দু, চকরিয়ার বাইস্যার ছড়া পর্যন্ত ১১৩টি ছোট বড় খাল ও ছড়া নদীতে মিশে গিয়ে মাতামুহুরীকে করে তোলে চির প্রাণযৌবন। আর এ নদীর তীরকে ঘিরে এ অঞ্চলে গড়ে উঠে প্রচীন সমাজ-সভ্যতা। 

তৎসময়ে লামা-আলীকদমের সঙ্গে চকরিয়ার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল মাতামুহুরী নদীপথ। এককালে এই মাতামুহুরী নদীতে ভেসে চলতো বড় আকারের নৌকা ও সাম্পান। মানুষ একদিন একরাত নৌকায় চড়ে পরবাস খেটে লামা-আলীকদমে পৌঁছাত। তখন নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মাতামুহুরীর তীরে গড়ে উঠেছিল সাপ্তাহিক হাট-বাজার। 

আর অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে বয়ে চলা  এই নদীর নামেই  রাখা হয়েছে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি মাতামুহুরি। মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রয়েছে বড় আকৃতির মাদার ট্রীসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ।
কি কি আছে মাতামুহুরিতে:
মাতামুহুরী বনাঞ্চল (সাঙ্গু-মাতামুহুরী) বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্রের ভান্ডার। এখানে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৪৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৯ প্রজাতির উভচর এবং ১১ প্রজাতির বিরল পাখি রয়েছে। এই বনে রয়েছে এশিয়ান হাতি, চিতাবাঘ, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, পাহাড়ি ঝিরি ও খরস্রোতা নদী, ঘন চিরসবুজ গাছপালা এবং সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বড় বড় অরণ্য। মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনভূমির আয়তন ১লাখ ২হাজার একর।

Aminur / Aminur

কোন ষড়যন্ত্রই বিএন‌পির বিজয় ঠে‌কি‌য়ে রাখতে পার‌বে না

সন্দ্বীপ থেকে জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদারের নির্বাচনী অ্যাপ উদ্বোধন ও ইশতেহার প্রকাশ

আত্রাইয়ে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ধানের শীষ-ছাতা-মোমবাতি ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

বারহাট্টার প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

মুরাদনগরে কায়কোবাদকে সমর্থন দিবে মুক্তিযোদ্ধারা

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জামায়াতের শক্তিশালী মিছিল, বিজয়ের আশাবাদ এম বি বাকেরের

ত্রিশালে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে রাহাদের মতবিনিময় সভা ও লিফলেট বিতরণ

কুষ্টিয়া কারাগারে হাজতির মৃত্যু

"অধিকরণ কারীদের বাধা উপেক্ষা করে সিরাজদিখানে দক্ষিণ পাউসার ব্রিজ নির্মাণ

মনপুরায় বিএনপির উদ্যোগে এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

জনবল সংকটে বিলীন হতে পারে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বন

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার ২৭ দিন পর মৃত্যু