হাটহাজারী পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্কে কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা
চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে, বের হয়ে এসেছে রড-সিমেন্টের মূল কাঠামো। সামান্য কম্পন কিংবা ভূমিকম্প হলেই যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের লোহার রড বেরিয়ে আছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় গভীর ফাটল, কোথাও কোথাও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন শত শত মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নানা সেবা নিতে এই ভবনে প্রবেশ করছেন।
আরেক কর্মচারী বলেন, “ভূমিকম্প হলে পালানোরও সময় পাবো না। পরিবারকে বিদায় জানিয়েই যেন প্রতিদিন কাজে আসি।”
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
পৌরসভায় প্রধান সহকারী সুমন বড়ুয়া জানান,
“প্রতিদিন অফিসে ঢুকেই প্রথমে ছাদের দিকে তাকাতে হয়—আজ নতুন করে কোথাও ভাঙল কি না। কাজের চেয়ে মৃত্যুভয়ই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এক বৃদ্ধ সেবাগ্রহীতা বলেন, “ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়তে দেখে বুক কেঁপে উঠেছে। জানি ঝুঁকি আছে, তবুও কাজের জন্য আসতেই হয়।”
এক নারী সেবাগ্রহীতা জানান, “শিশুকে নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে। কখন কোন অংশ ভেঙে পড়ে বলা যায় না। এটা কি কোনো সরকারি অফিসের অবস্থা হতে পারে?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকির বিষয়টি বারবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ভবনটি সংস্কার বা বিকল্প স্থানে দপ্তর সরিয়ে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
এ বিষয়ে এক সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুর্ঘটনা ঘটলে তখন তদন্ত হবে, কমিটি হবে—কিন্তু প্রাণ তো আর ফিরবে না। তার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
সচেতন মহল মনে করছেন, বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, অবিলম্বে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বিকল্প ভবনে পৌরসভার কার্যক্রম স্থানান্তর করা হোক অথবা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা—যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে পৌরসভার পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী
জেড এম আনোয়ার জানান এই পৌরসভা ১২বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠার পর ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।পরবর্তীতে জায়গা সংকলন না হওয়ায় পরিত্যাক্ত উপজেলা আদালত ভবনে স্থানান্তর করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।বর্তমানে ভবনটি অধিকঝুঁকি পূর্ন হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারী এবং সেবা প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্য থাকে। পৌরসভার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা নিজস্ব জায়গায় ভবন রয়েছে,কিন্তু এই পৌরসভাটি ১নং মডেল পৌরসভা হওয়ার পর নিজস্ব কোন ভবন নাই।ইতিমধ্যে আমাদের পৌর প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় চেস্ট করছে একটা পৌরসভার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবস্থা করা।জায়গা ব্যবস্থা হলে ভবনের জন্য মন্ত্রালয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হবে।
পৌর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদ মুঠো ফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি জানেন আমি যোগদান করেছি কয়েকদিন হয়েছে।এই বিষয়ে পৌর প্রশাসক মহোদয়সহ আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে।আমরা চেষ্টা করছি একটি পৌরসভার জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা।
এই বিষয়ে পৌর প্রশাসক( ডিডিএলডি)গোলাম মাঈন উদ্দীন হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ চেস্টা করা হলেও নির্বাচনের কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তিনি মুটোফোন রিসিভ করেননি।
এমএসএম / এমএসএম
ধামইরহাটে প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ মালেকের উপর হামলা, থানায় মামলা দায়ের
নবীনগরে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা:দোকান ভাংচুর, থানায় মামলা
ধুনটে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন
শেরপুরে বাবর ফিলিং স্টেশনে মোবাইল কোর্ট অভিযান: জ্বালানি তেল জব্দ ও জরিমানা
যশোরে শাশুড়িকে জবাই করে বস্তাবন্দী পুত্রবধূ আটক
মোহনগঞ্জে ফ্রি ভেটেরিনারি ক্যাম্পে গরুকে এলএসডি টিকা, খামারিদের স্বস্তি
মেহেরপুরে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত
সুনামগঞ্জ শহরের আলোচিত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা স্বর্ণ ও ডলার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন আটক-৫
নতুন ব্রিজে নৌ পুলিশের অভিযানে ডাকাত সন্দেহে আটক ২
বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের সামনে কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার
প্রধান শিক্ষকের ভুলে এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না জান্নাতি, এক বছর নষ্টের অভিযোগ