ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কুরআন হাদিসের আলোকে সৎ শাসকের বৈশিষ্ট্য


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১-২-২০২৬ দুপুর ১১:২৭

একটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন ও সঠিকভাবে টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করে শাসকের ওপর। শাসক যদি সৎ হয় তা হলে জাতির ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়, অন্যথায় জাতির ভাগ্যে নেমে আসে কঠিন সংকট। শাসকের সুশাসন যেমন একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, তেমনি অন্যায়ের শাসন জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে শাসক ও শাসিত উভয়ের জন্যই পথনির্দেশনা প্রদান করেছে। কুরআন-হাদিসে একজন আদর্শ শাসকের যেসব গুণের কথা বলা হয়েছে, তা শুধু ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং একটি আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল স্তম্ভও।
আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন ও অনুরাগ : আল্লাহভীরু ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন শাসকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ। একজন শাসকের প্রতিটি কাজের নিয়ত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি দাউদকে দান করলাম সুলাইমান (এর মতো পুত্র)। সে ছিল উত্তম বান্দা। নিশ্চয়ই সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী।’ (সুরা সোয়াদ : ৩০)
ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা : ক্ষমতা পাওয়া মানেই নিজের ইচ্ছামতো শাসন নয়, বরং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ বলেন, ‘হে দাউদ, আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, সুতরাং তুমি মানুষের মাঝে ইনসাফের সঙ্গে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না।’ (সুরা সোয়াদ : ২৬)
নামাজের প্রতি যত্নশীলতা : নামাজের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। যে নামাজে অবহেলা করবে, সে শাসনেও অবহেলা করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আবু জর, আমার পরে এমন কিছু আমির আসবে, যারা নামাজকে হত্যা করবে (অর্থাৎ সময়মতো আদায় করবে না)।’ (তিরমিজি : ১৭৬)
জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হওয়া : একজন আদর্শ শাসক জনতার সেবক। তিনি জনগণের প্রয়োজন ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেবেন। চার খলিফার পর সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ শাসক ওমর ইবনে আবদুল আজিজ। চার খলিফার পর সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ শাসক আল্লাহ তায়ালা জুলকারনাইনের জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের বর্ণনায় বলেন, ‘সে বলল, আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন, তাই উত্তম। সুতরাং তোমরা শ্রম দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করো, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে এক শক্ত প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।’ (সুরা কাহফ : ৯৫)
রাষ্ট্রীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা : শাসনব্যবস্থায় দক্ষতা অপরিহার্য। অযোগ্য ব্যক্তি দায়িত্ব চাইলেও তা গ্রহণ করা উচিত নয়। তবে নিজেকে উপযুক্ত মনে করলে তা গ্রহণ করা জায়েজ। ইউসুফ (আ.) বলেছিলেন, ‘আপনি আমাকে দেশের সম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব দিন, আমি রক্ষণাবেক্ষণে পারদর্শী ও জ্ঞানী।’ (সুরা ইউসুফ : ৫৫)
শাসনব্যবস্থার চাবিকাঠি শাসকের হাতে। তাই একজন শাসককে হতে হবে পরহেজগার, ন্যায়পরায়ণ, কর্মঠ ও আল্লাহভীরু। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত শাসকই সমাজে শান্তি, সুবিচার ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। কেয়ামতের দিনে শাসকদের সম্পর্কে কঠিন হিসাব নেওয়া হবে এ কথাও বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত আছে। সুতরাং শাসনভার গ্রহণ যেমন সম্মানের, তেমনি তা দায়িত্ব ও জবাবদিহির এক বড় পরীক্ষা। একমাত্র যোগ্য, সৎ ও আল্লাহভীরু শাসকরাই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন।

এমএসএম / এমএসএম