ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

৭০ লাখ মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল’


চট্টগ্রাম অফিস photo চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: ২২-২-২০২৬ রাত ৮:৬

চক্ষু চিকিৎসা সেবায় দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। একসময় ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও গুণে ও মানে এখন তারা আন্তর্জাতিকমানের দাবিদার। যার খ্যাতি ও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও। সেবার মানসিকতাই তাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে আন্তর্জাতিকমানের  প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এটি। 
প্রতিষ্ঠানটি সকলের কাছে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। এক সময় ছোট পরিসরে এই চিকিৎসাসেবা শুরু করলেও এখন হাসপাতালের দুই লাখ বর্গফুট ফ্লোরের ৩টি ব্লকে রয়েছে ১০০টি সাধারণ শয্যা, ৩১টি বিভিন্ন ধরনের কেবিন এবং ৮টি বিশ্বমানের অপারেশন থিয়েটার। গত ৫৩ বছরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের চোখের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করে। বছরে অস্ত্রোপচার করে আসছে প্রায় ২৭ হাজার রোগীর। দূর্ভাগ্যবশত এ গর্বিত যাত্রায় সম্প্রতি কিছু স্বার্থন্বেষীমহল অপ্রপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পারিবারিক আক্রমন চালিয়ে দরিদ্র চিকিৎসাপ্রার্থীদের বিভ্রন্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বার্থন্বেষীমহল এ মহলের বিভিন্ন সমস্যাও মোকাবেলা করে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ৩০-৪০ জনের একটি দল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে বিএনএসবি, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক ও ট্রাস্ট বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের উপর বেআইনি আক্রমণ চালায়। তবে কর্তৃপক্ষের দৃঢ মনোভাবে স্বাস্থ্যসেবা একদিনও বন্ধ থাকেনি বলে জানা গেছে। 
জানা গেছে, ছায়া ঘেরা সুনিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও উদ্দেশ্য ছিল গরীবদের চক্ষু চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া। শুরু থেকেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন হাসপাতালটিকে একটি পূর্নাঙ্গমানের রূপ দিতে স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নের সারথী অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কয়েকজন সমাজ কর্মীর উদ্যোগে মাত্র ৩৬শ’ টাকা মূলধনে জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির নামে প্রথমে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। পরবর্তীতে ৪০ শষ্যায় রূপান্তরিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন “ইংল্যান্ডের রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর দি ব্লাইন্ড” এর তৎকালীন পরিচালক স্যার জন উইলসন। এভাবেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চালিয়ে যান মানুষের চিকিৎসা সেবার কাজ। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির ‘আন্দেরি হিলফি’ নামে একটি সংস্থার প্রেসিডেন্ট মিস রোজী গোলমম্যান বাংলাদেশে আসেন। অন্ধত্ব নিবারণ ও নিরাময়ে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের। স্বপ্নের শুরু সেখানেই। ১৯৮৩ সালে এসে আরও ডালপালা বাড়ে এ স্বপ্নের। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের চোখে থাকা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এ কে খান, অধ্যাপক এম.এ আমিন, ডা. ছমিউদ্দীন, ডা. এস আর দাশ প্রমূখ। শুরুতেই শিল্পপতি এ.কে.খান ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি।
 ১৯৮৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও এর আগে ১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় ভূমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে সারাদেশে তিনশতধিক চিকিৎসক উচ্চতর ডিগ্রীর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী নিয়োজিত নার্স ও প্যারামেডিক (এমএলওপি) তৈরি করে হাসপাতালটি। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক লোককে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ। আরও সহস্রাধিক চক্ষু সেবা প্রদানকারী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করেছে এ হাসপাতাল। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল  ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্রতিদিন গড়ে ১৫০-১৬০জন রোগীর অপারেশন করানো হয়। হাসপাতালটিতে ৫০ জন চিকিৎসক ও ৪৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। একটি ট্রাস্টি বোর্ডের আওতায় পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে দেশের বাইরে থেকেও উচ্চ প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ছুটে আসেন। চক্ষু পরিচর্যায় ডাক্তারদের এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রাথমিক চক্ষু বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিশুর চোখের ক্যান্সার নির্ণয়ে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বিভাগও খোলা হয়েছে। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের চক্ষু সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মেলাতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকস এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল ব্যক্তির জন্য এখানে 'হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প' চালু করা রয়েছে। এছাড়া ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিইআইটিসি এর মাধ্যে একাডেমিক চুক্তির মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন কমিউনিটি অফথালমোলোজি (ডিসিও) কোর্স  শুরু হয়। এরপর ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও) এর যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে হতদরিদ্র রোগীদের জন্য বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করছে বিএনএসবি ও সিইআইটিসি। 
সিইআইটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, মানসম্পন্ন চক্ষু সেবা প্রদান এমনকী চক্ষু চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও একটি উৎকৃষ্ট চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার স্বপ্ন।  এত বড় প্রতিষ্ঠান করবো এমন কোন পরিকল্পনা ছিলনা। এ অবস্থায় পৌঁছানোর সবার সহযোগিতা রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। 
তিনি বলেন, হাসপাতালটির পেছনে এই দেশের জনগণ, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশী-বিদেশী কিছু দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তা এটিকে সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এই কার্যক্রম প্রথমে ছানি রোগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ধাপে ধাপে অনুধাবন হয় যে দক্ষ চিকিৎসক, জনবল ও কারিগরি দক্ষতা ছাড়া উন্নত চিকিৎসা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর এই উপলব্ধি ও চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল। আজ এটি চক্ষু রোগের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সমান দক্ষতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও নানাবিধ সেবার আশ্রয়স্থল এই হাসপাতাল।

 

 

এমএসএম / এমএসএম

সিংড়ায় প্রশাসনের অভিযানে ৪ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

উখিয়ায় ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ারসহ ইয়াবা উদ্ধার, অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩

অভয়নগরে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র‌্যালি ও মহড়া

ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

উলিপুরে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

অসুস্থতার কথা বললেন অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন

সাপ্তাহিক দেশজনতার কথার উদ্যোগে 'মধূ শিক্ষা নিকেতনে' মেধাবীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরন

হাটহাজারীতে দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান এসএমপি কমিশনারের

রাজস্থলীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

জয়পুরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

আদমদীঘিতে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

লাকসামে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত