মৌলভীবাজারে সূর্যমুখীর স্বপ্ন, কম খরচে বেশি লাভে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
শীতের শেষ আর বসন্তের শুরুতে হলুদে রঙিন হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। বাতাসে দুলছে সূর্যমুখী ফুল, সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি গাছ যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভের আশায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ। ফলে স্বাবলম্বিতার পথে এগোচ্ছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন মাঠজুড়ে ফুটে আছে বারী-৩ জাতের সূর্যমুখী। একই চিত্র বড়লেখা, জুড়ী ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর এবং ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায়। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন হলুদ ফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে জুড়ী উপজেলায়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সহস্রাধিক মণ বীজ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অল্প সময়, কম পুঁজি ও তুলনামূলক কম পরিচর্যায় ভালো ফলন হওয়ায় সূর্যমুখী এখন জেলার সম্ভাবনাময় তেল ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম (মিন্টু মিয়া) জানান, ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষে তার প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার সহায়তা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে।”
ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকার কৃষক মো. খলিল মিয়া সাত শতক জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, দুই থেকে তিন মণ বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় এক কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। দেড় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে বপন করলে ফলন ভালো হয়। গড়ে প্রতি বিঘায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ উৎপাদন সম্ভব। সূর্যমুখী একবর্ষী উদ্ভিদ; গাছ প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ভোজ্যতেল। পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখী তেলে কোলেস্টেরল কম এবং এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে, যা হৃদরোগীদের জন্যও উপকারী। ফলে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সূর্যমুখী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৯৪ শতক জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন সকালের সময়কে বলেন, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে পতিত ও একফসলি জমি আবাদে আসছে। অধিকাংশ বাগানে ইতোমধ্যে ফুল ফুটেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, মৌলভীবাজারের মাঠে সূর্যমুখীর হাসি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না; কৃষকের ঘরেও আনছে সম্ভাবনার আলো। কম খরচে বেশি লাভের এই ফসল আগামী দিনে আশাকরি জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এমএসএম / এমএসএম
অনিবন্ধিত পোর্টালের অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
রাজউকের অভিযানের পরও নারিন্দায় নকশাবহির্ভূত নির্মাণ
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের বর্ণিল হেমন্ত সন্ধ্যা: গান, কবিতা ও পিঠাপুলির মেলবন্ধন
মিরসরাইয়ে চোরাচালানের সময় দুটো ট্রাক সহ ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার আটক
লাকসামে মজলিশপুর ধর্মাংকুর বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত
ধামইরহাটে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত
রাজস্থলীতে এইচএসসিতে দুই সরকারি কলেজের চরম বিপর্যয়: পাসের হার ২৭ ও ২৬ শতাংশ, নেই কোনো জিপিএ-৫
কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, ১৫ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস
গাজীপুরে সাংবাদিক রিপনের ওপর হামলা ও অপহরণের প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন
বাকেরগঞ্জে জামায়াত ছেড়ে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ইসলামী আন্দোলনে শাহিন শিকদারের যোগদান
রাজশাহীর বাঘায় আলোচিত রুমিয়া বেগম হত্যা মামলায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
উজিরপুরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত