স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডহীন পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল দফায় দফায় যানজটের ভোগান্তিতে পর্যটক-সাধারণ মানুষ
চায়ের রাজধানী ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শ্রীমঙ্গল দিন দিন তীব্র যানজটের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, পাহাড়-টিলা আর মনোরম আবহাওয়ার টানে সারা বছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে এখানে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও গড়ে ওঠেনি কোনো পরিকল্পিত ও স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোই এখন অস্থায়ী বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ডে রূপ নিয়েছে। এতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হবিগঞ্জ রোডের ভূমি অফিস এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। একই অবস্থা সেন্ট্রাল রোড, পোস্ট অফিস রোড, মৌলভীবাজার রোড, কলেজ রোড, স্টেশন রোড, নতুন বাজার, ভানুগাছ রোড রেলক্রসিং ও শাপলাবাগ সড়কেও। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরুর ও ছুটির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেক সময় ৫ থেকে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, রোগী পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের প্রতিদিনই সময় নষ্ট হচ্ছে। পর্যটকদের অনেকেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে সিএনজি অটোরিকশা, টমটম ও ব্যাটারিচালিত অটো দাঁড়িয়ে থাকে। তার পাশেই থামে লোকাল ও দূরপাল্লার বাস। নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড ও পার্কিং জোন না থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং, সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা এবং যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ মিলিয়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের একাংশ দখল করে বাসে যাত্রী ওঠানামা করায় শুধু যানজটই নয়, শব্দদূষণও বাড়ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকেরা বলছেন, অবৈধ স্ট্যান্ড ও এলোমেলো পার্কিংয়ের কারণে প্রায় প্রতিদিনই অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, পর্যটকদের রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং এবং মালবাহী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ—সব মিলিয়ে যানজট প্রকট হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং বিষয়টি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সচেতন মহল ও স্থানীয়দের অভিমত, শুধু বাইপাস সড়ক নির্মাণই যথেষ্ট নয়। দ্রুত একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড স্থাপন, নির্ধারিত পার্কিং জোন তৈরি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
পর্যটন সম্ভাবনাময় এই শহরের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএসএম / এমএসএম
এ্যাড. দীপেন দেওয়ানের নির্দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে উপজেলা বিএনপি
দর্শনা পৌর নির্বাচন: মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা
মান্দায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ
চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ জামায়াতের
মাদারীপুর সদর থানা থেকে নারী আসামি পালানোর অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা
বাঁশখালীতে পায়ে হেঁটে কোমর পরিমাণ পানি পেরিয়ে বন্যার্তদের পাশে ড.শফিকুর রহমান
পূর্ব শত্রুতা ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নুরুল আজিম (৪০) নামে এক দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা
তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলেও ব্যবস্থা নিতে গড়িমসির অভিযোগ
শিগগিরই খুলে দেয়া হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর- কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী
গজারিয়ায় যাত্রা শুরু করল প্রকৃতি ও স্বাদের অনন্য ঠিকানা 'ন্যাচার লাউঞ্জ'
বাউফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
মাত্র ২ হাজার টাকায় শুরু: শত নারীকে স্বাবলম্বী করে অনন্য দৃষ্টান্ত গড়লেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পপি