ঢাকা শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পের গ্লোবাল আইকন হওয়ার পথে শেফ জাহেদ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭-৩-২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আজ জানবো ​আন্তর্জাতিক কালিনারি আর্ট দুনিয়ায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম বাংলাদেশি শেফ জাহেদ এর গল্প। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল—এই আট বছরের দীর্ঘ ও বর্ণিল কর্মজীবনে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা ফাইভ স্টার টপ রেটেড হোটেলে নিজের রান্নার জাদু দেখিয়েছেন তিনি। তার হাতের তৈরি সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক থেকে শুরু করে সৌদি রাজপরিবার, বলিউড-হলিউড তারকা এবং ফুটবল বিশ্বের মহাতারকারা। সাধারণ একজন শেফ থেকে বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের পছন্দের একজন শেফ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে জাহেদের অদম্য পরিশ্রম ও রান্নার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

​রন্ধনশিল্পে হাতেখড়ি ও দুবাই অধ্যায়
​শেফ জাহেদের পেশাদার জীবনের শুরুটা হয় ২০১৬ সালে। দুবাইয়ের একটি স্বনামধন্য কালিনারি ইনস্টিটিউট থেকে 'কালিনারি আর্ট'-এর ওপর সাফল্যের সাথে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করেই তিনি সরাসরি যুক্ত হন কর্মজীবনে। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল ফুজাইরাহ শহরের ২০১৬ সালের টপ-রেটেড ফাইভ স্টার রিসোর্ট 'লা মেরিডিয়ান আল আকাহ বিচ রিসোর্ট'। এখান থেকেই তার শেফ জীবনের মূল ভিত্তি তৈরি হয়।
​পরবর্তীতে তিনি হোটেল 'শেরাটন শারজাহ' সহ দুবাইয়ের আরও বেশ কয়েকটি নামিদামি পাঁচতারা হোটেলে কাজ করেন। দুবাইয়ে অবস্থানকালেই তিনি বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির জন্য খাবার তৈরির সুযোগ পান।
​দুবাইয়ে যাদের জন্য রান্না করেছেন:
​রাষ্ট্রীয় ও করপোরেট ব্যক্তিত্ব: দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম এবং ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও সিইও অ্যান্থনি ক্যাপুয়ানো।
​ক্রীড়া ও বিনোদন তারকা: বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার, অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর, শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি ক্রিকেটার মুত্তিয়া মুরালিধরন এবং মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল।
​সৌদি আরব ও রেড সি-তে রাজকীয় অভিজ্ঞতা
​দুবাইয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পর শেফ জাহেদ পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে তিনি রিয়াদ শহরের বিখ্যাত 'ম্যারিয়ট ডিপ্লোমেটিক কোয়ার্টার' এবং 'ম্যারিয়ট রিয়াদ'-এ কাজ শুরু করেন। তার রান্নার দক্ষতা তাকে পৌঁছে দেয় বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ব্র্যান্ড 'দ্য সেন্ট রেজিস রেড সি রিসোর্ট'-এ। ম্যারিয়টের একই ম্যানেজমেন্টের অধীনে থাকায় তিনি পরবর্তীতে কাজ করার সুযোগ পান রেড সি-র 'নুজুমা, আ রিটজ-কার্লটন রিজার্ভ'-এ।
​সৌদি আরবে কাজ করার সময় তিনি এমন সব ভিআইপি অতিথিদের খাবার পরিবেশন করেছেন, যা যেকোনো শেফের জন্যই এক বিশাল স্বপ্নের মতো।
​সৌদি আরবে যাদের জন্য রান্না করেছেন:
​সৌদি রাজপরিবার: সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তার স্ত্রী রাজকুমারী সারা বিনতে মাশহুর আল সৌদসহ পুরো রাজপরিবার।
​ফুটবল মহাতারকা: পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (CR7), ব্রাজিলিয়ান আইকন নেইমার জুনিয়র এবং ফরাসি তারকা করিম বেনজেমা।
​ফ্যাশন আইকন: বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ব্যালেন্সিয়াগা (Balenciaga)-এর ফ্যাশন ডিজাইনার ও সিইও দেমনা গাভাসালিয়া।
​সফলতার আট বছর
​২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে শেফ জাহেদের এই যাত্রা প্রমাণ করে তার কাজের মান কতটা নিখুঁত ও আন্তর্জাতিক মানের। বিশ্বমানের সব শেফদের সাথে পাল্লা দিয়ে তিনি নিজের যে অবস্থান তৈরি করেছেন, তা রন্ধনশিল্পে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও জনপ্রিয় মানুষদের রসনা তৃপ্ত করে শেফ জাহেদ কেবল নিজের নামই উজ্জ্বল করেননি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শেফ দের নাম ও রন্ধনশিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
​পরবর্তী ২০২৪ এর ডিসেম্বর এ তিনি আয়ারল্যান্ড শেফ চলে যান বর্তমানে তিনি আয়ারল্যান্ডের ২ টি আইরিশ রেষ্টুরেন্টে কাজ করছেন সাফল্যের সাথে এর হোটেল ম্যানেজমেট নিয়ে আরো পড়াশোনা করছেন বিশ্বের অন্য  কলেজ শেনন হোটেল ম্যানেজমেন্ট, লিমেরিক থেকে।

এমএসএম / এমএসএম