পবিত্র রমজান মাসে মহিষখলা বাজারে কয়লা-পাথরবাহী ট্রাকের দাপট, ধুলা-শব্দদূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা বাজার এলাকায় কয়লা ও পাথরবোঝাই ভারী ট্রাকের অবাধ চলাচলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বাজার এলাকা ও আশপাশের গ্রাম দিয়ে দিন-রাত এসব ট্রাক চলাচল করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে আমদানিকৃত কয়লা ও পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো বাঙ্গালভিটা বাজার ও ভোলাগঞ্জ বাজার হয়ে মহিষখলা বাজার অতিক্রম করে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার দিকে যাতায়াত করে। বাজার এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম অতিক্রম করে এসব ভারী যানবাহন চলাচল করায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মহিষখলা বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসায় সকাল থেকেই বাজারে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। একই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটার চাপও ছিল বেশি। এ সময় একের পর এক ভারতীয় বাংলা কয়লা ও পাথরবোঝাই ট্রাক বাজারের ভেতর দিয়ে চলাচল করায় দীর্ঘ সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অতিরিক্ত ট্রাক চলাচলের কারণে তারা ঠিকমতো রাস্তাঘাট ব্যবহার করতে পারছেন না। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়কজুড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হয়, যা পাশের ধানক্ষেত ও বসতঘরের চালের ওপর জমে থাকে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় ধুলাবালির কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে রাত হলে সারি ধরে শত শত ট্রাক কয়লা নিয়ে চলাচল করে। এ সময় ট্রাকের হর্ণ ও শব্দে এলাকায় শব্দদূষণের সৃষ্টি হয়।
রমজান মাসে এ পরিস্থিতি আরও ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে রাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ট্রাকের হর্ণ ও শব্দে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। এমনকি ছোট ছোট শিশুরাও শান্তিতে ঘুমাতে পারে না।
এ বিষয়ে মহিষখলা বাজারের ইজারাদাররা জানান, কয়লা ও পাথর পরিবহনের এ কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত নন। কে বা কারা এই পরিবহন বাণিজ্য পরিচালনা করছে সে বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে বাজার এলাকায় ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম শাহাবুদ্দিন শাহিন পিপিএম বলেন, সড়কটি সরকারি হলে সেখানে যানবাহন চলাচল করা স্বাভাবিক বিষয়। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনএবং সংসদ সদস্যকে অবগত করার পরামর্শ দেন তিনি।
এব্যাপারে মধ্য নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বার বার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যপারে পুলিশ সুপার এবিএম মোহাম্মদ জাকির হোসেন পিপিএম কে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
জেলা প্রশাসকের সরকারি নাম্বারে বার বার ফোন করা হলেও তিনি সরকারি নাম্বার বেশি একটা ব্যবহার করেন না তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মহিষখলা-বাঙ্গালভিটা সড়কের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় এ সময়ে ভারী ট্রাক চলাচলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তাই বাজার এলাকা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এমএসএম / এমএসএম
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লোহাগড়ায় দুই খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, ১.১৩ কোটি টাকার প্রকল্প
আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঘোড়াঘাটে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নবীগঞ্জে দিনদুপুরে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে একই দিনে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
কুতুবদিয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিষপান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু
যশোরে ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মহেশখালীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের কারাদণ্ড
কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
পাঁচবিবিতে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল ৩৮ জন যাত্রী
গোপালগঞ্জে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কুতুবদিয়ায় একদিনেই পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু